মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ২৫ অক্টোবর ২০১১, ১০ কার্তিক ১৪১৮
ব্যাংকের বিনিয়োগ নিয়ে কড়াকড়ির প্রভাব পড়েছে শেয়ারবাজারে
ইআরএফ এ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ব্যাংকিং খাতের সঙ্গে শেয়ারবাজারের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে শিথিলতার কারণে কিছুদিন আগেও ব্যাংকগুলো শেয়ারবাজারে অনেক বেশি বিনিয়োগ করেছিল। এরপর এই বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করায় শেয়ারবাজারে প্রভাব পড়েছে। গত রবিবার রাতে রাজধানীর রূপসী বাংলা হোটেলে ইকোনমিক রিপোর্টার ফোরাম (ইআরএফ) এ্যাওয়ার্ড ২০১১ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী অর্থনীতির অগ্রগতির বর্ণনা দিয়ে বলেন, গত ৩০ বছরে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। এই পরিবর্তন নিয়ে আমরা গর্ববোধ করতে পারি। সামষ্টিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ব্যাস্টিক অর্থনীতির সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। অর্থনীতির প্রায় ৬০ শতাংশ মানিটাইজ হয়েছে। প্রতিবছর মানিটাইজেশন ৩ শতাংশ করে বাড়ছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমাদের পরিচয় পাল্টে গেছে। এই পরিস্থিতি সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে মঙ্গলজনক অবদান রাখে।
তিনি বলেন, অনেকে মনে করেন ব্যাংকিং খাতের মাধ্যমে দেশে মুদ্রা সঙ্কোচন না হয়ে মুদ্রার অতিরিক্ত সম্প্রসারণ হয়েছে। তা সত্ত্বেও গত ১০-১৫ বছরে দেশের ব্যাংকিং খাত অনেক গভীরতা লাভ করেছে। তবে দেশে ব্যাংকের সংখ্যা অনেক হলেও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বড় অংশ ব্যাংকিংয়ের বাইরে রয়ে গেছে। বিশেষ করে স্কুল ব্যাংকিংয়ের ৰেত্রে দেশ অনেক পিছিয়ে আছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থনীতিতে গতিশীলতা আনার জন্য পোস্ট অফিসও অনেক বড় অবদান রাখতে পারে। আমরা যখন স্কুলে পড়ি তখন পোস্ট অফিসের সঞ্চয় প্রকল্পের মাধ্যমেই ব্যাংকিং শুরু করেছি। জাপানের অর্থনীতিতে পোস্ট অফিস অনেক বড় অবদান রেখেছে। আমাদের দেশে সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে এখন পোস্ট অফিসের প্রকল্প চালু আছে কিনা জানি না। তবে এটা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
ব্যাংকিংয়ের ৰেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের গুরম্নত্ব তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, গত কয়েক বছরে দেশে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। ইতোমধ্যেই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ব্যাংকিং চালু হয়েছে। আগামীতে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের ব্যাংকিং ও অর্থনীতির ৰেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে।
ইআরএফ এ্যাওয়ার্ড প্রাপ্তদের শুভেচ্ছা জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এই পুরস্কার অর্থনৈতিক রিপোর্টারদের সারা বছরের কাজের মূল্যায়ন। অর্থনৈতিক রিপোর্টিং মূলত গবেষণাধর্মী।
ইআরএফ সভাপতি মনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে এ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা মুহাম্মাদ মশিউর রহমান, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম, সাবেক পররাষ্ট্র সচিব সিএম শফি সামি, অর্থনীতিবিদ কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানির (বিএটিবিসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম মাইনুদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ইআরএফ সাধারণ সম্পাদক আবু কায়সার এবং এ্যাওয়ার্ড প্রদান কমিটির সমন্বয়ক কাওসার রহমান বক্তব্য রাখেন।