মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
সোমবার, ৩ অক্টোবর ২০১১, ১৮ আশ্বিন ১৪১৮
বিশ্বের বৃহত্তম সুগার রিফাইনারি পস্ন্যান্ট এখন বাংলাদেশে
চিনির বাড়তি চাহিদা পূরণের লৰ্যে সিটি গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান 'সিটি সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড' এবার দেশের মাটিতেই স্থাপন করেছে বিশ্বের বৃহত্তম সুগার-রিফাইনারি পস্ন্যান্ট। সিটি সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের 'তীর চিনি' দেশের প্রথম সারির একটি সুপারব্র্যান্ড এবং কর্তৃপক্ষ আশা করছে, বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে উক্ত পস্ন্যান্ট থেকে এখন দৈনিক ৫ হাজার মেট্রিক টন সুপরিশোধিত চিনি উৎপাদন করা যাবে।
বর্তমানে ২২টি শিল্প ইউনিটের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা সিটি গ্রম্নপ দেশের একটি শীর্ষস্থানীয় শিল্প প্রতিষ্ঠান। সিটি গ্রুপের বিভিন্ন ইউনিটে উৎপাদিত হচ্ছে সয়াবিন তেল, সুপার পাম ওলিন, ক্যানোলা তেল, সরিষার তেল, বনস্পতি, সয়ামিল, রেপসীড কেক, আটা, ময়দা, সুজি, চিনি, পিওর ড্রিংকিং ওয়াটার, পোল্ট্রি ফিড, ফিস ফিড ও ক্যাটেল ফিড। এ সব পণ্যেল মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি দেশের জনসাধারণের চাহিদা নিরনত্মর মিটিয়ে চলেছে। কঠোর পরিশ্রম ও মাননিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির সকল পণ্য ভোক্তাদের আস্থা অর্জন করেছে। উলেস্নখ্য, ১৯৭২ সালে সিটি গ্রুপের যাত্রা শুরু।
সিটি গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুর রহমান বলেন, "বিষয়টি শুধু আমাদের নয়, দেশের জন্যও গর্বের। ঐতিহাসিক এ উদ্যোগটির বাস্তবায়নে সহায়তার জন্য সরকার, সংশিস্নষ্ট মন্ত্রণালয়, সরকারী প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক ব্যাংক, আমাদের বৃহত্তর ভোক্তা ও গ্রাহকশ্রেণী এবং সর্বোপরি মহান আলস্নাহতালার কাছে আমরা জীষণভাবে কৃতজ্ঞ।" উলেস্নখ্য, নারায়ণগঞ্জের রূপসী শিল্প এলাকায় স্থাপিত হয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম এই সুগার রিফাইনারি পস্ন্যান্ট। _বিজ্ঞপ্তি

বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষকদের এবার ৩শ' কোটি টাকার টমেটো বাণিজ্য হারানোর আশঙ্কা
ডি এম তালেবুন নবী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ॥ আবহাওয়ার বৈরীরূপ, অতিবৃষ্টি, বীজ ও সার সঙ্কটের কারণে এবার বরেন্দ্র অঞ্চলে শীতকালীন টমেটোর আবাদ অর্ধেকে নেমে আসবে। লক্ষ্যমাত্রার ধারে কাছেও যেতে পারবে না। একই সঙ্গে কৃষকরা বঞ্চিত হবে প্রায় ৩শ' কোটি টাকার টমেটো বাণিজ্য হতে। বেকার হয়ে পড়বে বহু টমেটো শ্রমিক। এবার টমেটো আবাদের টার্গেট ছিল ১৪ হাজার হেক্টর।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলসহ সদর উপজেলা ও সংলগ্ন রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার বরেন্দ্র অঞ্চলে এবার মৌসুম শুরম্নর আগেই শীতকালীন টমেটো আবাদ নিয়ে কৃষকরা মহাবিপর্যয় ও সঙ্কটের মুখে পড়েছে। শীত মৌসুমে দেশের সিংহভাগ, চাহিদা পূরণ ও বাজার দখল করে রাখে এই অঞ্চলের উৎপাদিত টমেটো। চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার পুরোটা ও রাজশাহীর আংশিক বরেন্দ্র অঞ্চলের টমেটো এই অঞ্চলের দ্বিতীয় অর্থকরী ফসল বলে পরিসংখ্যানে বেরিয়ে এসেছে। কৃষি বিশেষজ্ঞদের অভিমত, মাত্র কয়েক মাসে এই অঞ্চলের উৎপাদিত টমেটো থেকে প্রায় সাড়ে ছয় শ' কোটি টাকার বাণিজ্য হয়ে থাকে। গত এক যুগ ধরে এ ধারা অব্যাহত থাকলেও এবার এই ধারায় বড় ধরনের ধস নামবে। পুরো মৌসুমে কয়েক হাজার কৃষি শ্রমিক টমেটো আবাদ ও বাজারজাত কাজে নিয়োজিত থাকে। প্রথম সঙ্কট সৃষ্টি করেছে মানসম্পন্ন বীজের অভাব ও চাহিদা নিয়ে। ১৫ হাজার হেক্টর জমি প্রস্তুত করে বীজতলার কাজ শুরম্ন করতে গিয়েই প্রথম হোঁচট খেয়েছে টমেটো চাষীরা। মিলছে না বীজ। নায়ক, অসীম, বঙ্গবীর, লাভলি, মিন্টু, ভাগ্য, শুকলাসহ বিভিন্ন নাম ও জাতের হাইব্রিড এফ-১ টমেটো বীজের অভাব ও আকাল এলাকাজুড়ে।
প্রায় এক যুগের অধিক সময় ধরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী অঞ্চলের টমেটো বীজের বাজার দখলে রেখেছিল সিনজেন্টার সবল এফ-১ বীজ। গত বছর ২০১০ সালে সিনজেনটার সবল এফ-১ বীজ আবাদ করে আশানুরূপ ফলন না হওয়ায় কৃষকরা আন্দোলনে নেমে কোম্পানির নামে ক্ষতিপূরনের মামলা করে। অভিযোগ সিনজেন্টা নিম্নমানের বীজ সরবরাহ করেছিল। সিনজেনটা আই অভিযোগ অস্বীকার করে সেবার বলেছিল, একাধিক কোম্পানি তাদের বীজ চালাতে ব্যর্থ হয়ে প্রতিহিংসায় প্রতিশোধ নিতে এই অঞ্চলে তাদের নাম ব্যবহার করে ভুয়া ও নিম্নমানের বীজ সরবরাহ করে। সিনজেনটা কোম্পানির প্রতিপক্ষরা এই ষড়যন্ত্রে সফল হয়ে কৃষকদের ক্ষেপিয়ে তোলে সিনজেনটার বিরুদ্ধে। ফলে এ বছর সিনজেনটা আবারও কৃষকদের প্রতিপক্ষ হবার সুযোগ না দিয়ে আগাম ঘোষণা দিয়েছে তারা এবার এই অঞ্চলে টমেটোর বীজ সরবরাহ করবে না। কৃষকদের বীজের বিশাল চাহিদা সিনজেনটা প্রতিবছর পূরণ করে এসেছে। এবার সিনজেনটা এই অঞ্চলে তাদের টমেটো বীজ সরবরাহ করবে না ঘোষণা আসায় বহু অখ্যাত কোম্পানি নিম্নমানের বীজ নিয়ে বরেন্দ্র অঞ্চলে নেমে পড়েছে। এমনকি সিনজেনটার নামে ভুয়া টমেটো বীজের বাণিজ্য করতে নেমে পড়েছে কিছু নাম সর্বস্ব ভুয়া কোম্পানি। এ সব টানাপোড়নের মধ্যে বীজের মূল্য আকাশচুম্বী হয়েছে। প্রতি ২০ গ্রাম বীজের মূল্য এক হাজার টাকা হলেও বর্তমানে বিভিন্ন জাতের টমেটোর বীজ বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত।