মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
সোমবার, ৩ অক্টোবর ২০১১, ১৮ আশ্বিন ১৪১৮
নির্দেশিত সীমার মধ্যেই রয়েছে রূপালী ব্যাংকের ঋণ প্রবৃদ্ধি
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশিত সীমার মধ্যেই রয়েছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন রূপালী ব্যাংক লিমিটেডের ঋণের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি এবং ঋণ ও আমানত হার (সিডিআর)। বর্তমানে রূপালী ব্যাংকের নিট ঋণের প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১৩ শতাংশ। একই সঙ্গে সিডিআর রয়েছে ৭৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
সংশিস্নষ্ট সূত্র মতে, সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব অফ-সাইট সুপারভিশন (এসসিবি মনিটরিং সেল) পথকে রূপালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. আহমদ আল কবিরের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মহাব্যস্থাপক কে এম গাওছুজ্জামান স্বাৰরিত ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, ব্যাংকটির ঋণের প্রবৃদ্ধি এবং ঋণ ও আমানতের হার নির্দেশিত মাত্রা অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রগুলো বলছে, এমওইউ শর্ত অনুযায়ী রূপালী ব্যাংকের বর্তমান ঋণের প্রবৃদ্ধির হার রয়েছে ১৩ শতাংশ। একইভাবে ঋণ ও আমানত হার (সিডিআর) ৭৮.৭৯ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে রূপালী ব্যাংকের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) অনুযায়ী, ব্যাংকটি নিট ঋণের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি ১৫ শতাংশ সংরৰণের শর্তারোপ করা হয়। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ নির্দেশ অনুযায়ী কনভেনশনাল ব্যাংকের ৰেত্রে সিডিআর ৮৫ এবং নন কনভেনশনাল ৯০ শতাংশ সিডিআর নির্ধারণ করেছে। আর সে হিসেবে রূপালী ব্যাংকের ঋণের প্রবৃদ্ধি এবং ঋণ ও আমানতের হার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এমওইউ শর্তের মধ্যেই রয়েছে। তবে ঋণ নিয়ন্ত্রণ ও আমানত প্রবৃদ্ধি বাড়াতে না পারলে ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে রাষ্ট্রায়ত্ত এ ব্যাংকটি।
এ বিষয়ে রূপালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. আহমদ আল কবির জনকণ্ঠকে বলেন, 'রূপালী ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ীই পরিচালিত হচ্ছে। তবে রূপালী ব্যাংকের সঙ্গে অন্যান্য ব্যাংকের তুলনা করা ঠিক হবে না। কারণ রূপালী ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চনার শিকার হয়েছে। ওই সময় ব্যাংকের কোন বিনিয়োগ হয়নি। কিন্তু বর্তমানে আমরা বিনিয়োগ বৃদ্ধিসহ ব্যাংকের উন্নয়নে বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করছি।'
এ বিষয়ে রূপালী ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) শেখ আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জনকণ্ঠকে বলেন, 'রূপালী ব্যাংকের ইতিহাস ধীরে ধীরে সমৃদ্ধ হচ্ছে। অভিজ্ঞ পরিচালনা পর্ষদ, দৰ ব্যবস্থাপনা ও উন্নত ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিত করার ফলে এ ব্যাংকটি তার লোকসানী শাখা কমিয়ে এনেছে। খেলাপী ঋণের পরিমাণ অনেক কমিয়ে এনেছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সময়ে সময়ে এ ধরনের নির্দেশনা দিয়ে থাকে। এটা একানত্মই কৌশলগত ব্যাপার। আমরা আশা করছি দ্রম্নত এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে।'
শেখ আহমেদ আরও বলেন, অন্যান্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তুলনায় রূপালী ব্যাংক অনেক ভাল অবস্থানে রয়েছে। এ ব্যাংকটি ধীরে ধীরে ই-ব্যাংকিং-এর জগতে প্রবেশ করছে। ইতোমধ্যে আমরা এটিএম (অটোমেটেড টেলার মেশিন) সার্ভিস চালু করেছি। আগামী ৫ বছরে রূপালী ব্যাংক উদীয়মান পর্যায়ে চলে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।