মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
সোমবার, ৩ অক্টোবর ২০১১, ১৮ আশ্বিন ১৪১৮
অধিকাংশ শেয়ারের দর বাড়লেও কমেছে সূচক
ডিএসইতে বাড়লেও সিএসইতে কমেছে লেনদেন
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের ধারা অব্যাহত রেখে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দরবৃদ্ধির মধ্য দিয়ে রবিবার পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরু হয়েছে। তা সত্ত্বেও ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দরে নিম্নগতির প্রভাবে দিন শেষে সামান্য কমেছে দুই স্টক এঙ্চেঞ্জের সূচক। আর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) কিছুটা বাড়লেও চট্টগ্রাম স্টক একচেঞ্জে (সিএসই) কমেছে আর্থিক লেনদেন।
পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এসইসির পৰ থেকে তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তা-পরিচালকদের শেয়ার বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকও সাবসিডিয়ারি কোম্পানির অতিরিক্ত ঋণ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের বিধিবহির্ভূত বিনিয়োগ সমন্বয়ের সময় এক বছর বৃদ্ধি করেছে। এ দুটি পদৰেপের প্রভাবে বাজারে শেয়ার বিক্রির চাপ অনেকটা কমে গেছে। এর বিপরীতে তালিকাভুক্ত কোম্পানির উদ্যোক্তারা নিজ নিজ কোম্পানির শেয়ার কিনে বাজারকে সাপোর্ট দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। মূল্য ঘোষণা করে উদ্যোক্তাদের শেয়ার কেনার সুযোগ দিতে ইতোমধ্যেই ঢাকা স্টক এঙ্চেঞ্জের (ডিএসই) পক্ষ থেকে সম্মতি প্রকাশ করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় কোন উদ্যোক্তা বাজার থেকে শেয়ার কিনলে যখন তখন বিক্রি করতে পারবেন না। এ বিষয়ে এসইসি প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিলে শীঘ্রই বড় মূলধনের ১৫ থেকে ২০টি কোম্পানির উদ্যোক্তারা তাদের কোম্পানির শেয়ার কেনার জন্য মূল্য ঘোষণা করবেন। এতে ওই কোম্পানির শেয়ারের দর ঘোষিত মূল্যের নিচে নামার আশঙ্কা বন্ধ হবে_ যা বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে বিশেস্নষকরা মনে করছেন।
অন্যদিকে শেয়ারবাজারে মিউচু্যয়াল ফান্ডের বিনিয়োগের ৰেত্রে কিছু বিধান শিথিল করা হয়েছে। পাশাপাশি সকল শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের অভিহিত মূল্য ১০ টাকায় রূপান্তরের লৰ্যে প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে। এছাড়া লেনদেনের সময় কমিয়ে আনা, সিডিবিএলের চার্জ কমানো, জীবন বীমা কোম্পানির অর্থ বিনিয়োগসহ বেশকিছু বিষয়ে ইতিবাচক পদৰেপের ঘোষণা দিয়েছে এসইসি। বাজারে জন্য আরেকটি ইতিবাচক উদ্যোগ হলো_ আটকে পড়া মার্জিন ঋণ সংক্রানত্ম সঙ্কট সমাধানে বেসরকারী খাতের প্রচেষ্টা। গত বৃহস্পতিবার এফবিসিসিআইয়ে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠক থেকে এ বিষয়ে একটি রূপরেখা ঘোষণা করা হয়েছে। নবগঠিত সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানির পরিচালনায় একটি মেয়াদহীন মিউচু্যয়াল ফান্ড গঠন করে মার্জিন ঋণের দায় গ্রহণের চেষ্টা চলছে। এই প্রচেষ্টাটি সফল হলে আটকে থাকা বিপুল পরিমাণ ঋণের টাকা বাজারে লেনদেনের উপযোগী হবে। আবার প্রসত্মাবিত মিউচু্যয়াল ফান্ডে বিপুল পরিমাণ শেয়ার জমা হলে বাজারে বিক্রির চাপও অনেক কমে যাবে।
সামগ্রিকভাবে বিভিন্ন পৰ থেকে নেয়া উদ্যোগগুলোর বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি করেছে। এ কারণেই গত সপ্তাহে বাজারে একটি ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়। সপ্তাহের ৫ কার্যদিবসের মধ্যে ৩ কার্যদিবসেই সূচক বৃদ্ধি পায়। শেয়ারের মূল্য বৃদ্ধির পাশাপাশি লেনদেনেও কিছুটা গতি সৃষ্টি হয়।
বিশেস্নষকদের মতে, বিভিন্ন পৰ থেকে নানামুখী পদৰেপ গ্রহণ করা হলেও এর অধিকাংশই প্রস্তুতি পর্যায়ে থাকায় বিনিয়োগকারীরা এখনও পুরোপুরি আস্থাশীল হয়ে ওঠেনি। এ কারণে কোন শেয়ারের দর সামান্য বাড়লেই তাদের মধ্যে মুনাফা তুলে নেয়ার প্রবণতা শুরু হয়। এতে বাজারে বিক্রির চাপ বেড়ে যায়। সূচকেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা সক্রিয় হলে এ ধরনের প্রবণতা বন্ধ হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।