মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
সোমবার, ৩ অক্টোবর ২০১১, ১৮ আশ্বিন ১৪১৮
টিআইএন ছাড়া প্লেসমেন্ট শেয়ার নেয়া যাবে না
০ শেয়ারবাজারের বাইরে থাকা কোম্পানির মূলধন সংগ্রহে নীতিমালা জারি
০ শেয়ার বরাদ্দ পাওয়া বিনিয়োগকারীর সংখ্যা ১০০-এর বেশি হবে না
০ উদ্যোক্তাদের হাতে কমপক্ষে ৩০ শতাংশ শেয়ার থাকা বাধ্যতামূলক
০ উদ্যোক্তাদের বাইরে শেয়ার ইস্যু করলেই প্রস্তাবনাপত্র প্রকাশ করতে হবে
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ পুঁজিবাজারের বাইরে থাকা কোন কোম্পানির জন্য রাইট বা বোনাস বাদে যে কোন ধরনের শেয়ার ইসু্য করে মূলধন সংগ্রহের নীতিমালা জারি করেছে সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। ঘোষিত নীতিমালা অনুযায়ী কোন কোম্পানি মূলধন সংগ্রহের ৰেত্রে বিনিয়োগকারীর সংখ্যা কোনভাবেই ১০০ এর বেশি হতে পারবে না। পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের বাইরে অন্য কারও কাছে শেয়ার ইস্যু করতে চাইলে কোম্পানির আর্থিক বিবরণীসহ প্রস্তাবনাপত্র (অফার ডকুমেন্ট) প্রকাশ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) ছাড়া কোন বিনিয়োগকারী এ ধরনের কোম্পানির শেয়ার বরাদ্দ নিতে পারবেন না। এই প্রক্রিয়ায় শেয়ার ইস্যুর পর কোম্পানিতে উদ্যোক্তাদের শেয়ার মোট মূলধনের ৩০ শতাংশের কম হতে পারবে না। মূলধন সংগ্রহের নামে প্লেসমেন্টে শেয়ার বরাদ্দ নিয়ে পুঁজিবাজারে অনৈতিক বাণিজ্য বন্ধে গতকাল রবিবার এসইসি এই নীতিমালা জারি করে।
সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এঙ্চেঞ্জ অধ্যাদেশ, ১৯৬৯-এর ২সিসি ধারার ৰমতাবলে জারি করা নীতিমালায় বলা হয়েছে, কোন কোম্পানি উদ্যোক্তা বা পরিচালকদের বাইরে অন্য কোন ব্যক্তির কাছে শেয়ার বিক্রি করতে চাইলে উন্মুক্ত ঘোষণা দিতে হবে। এৰেত্রে শেয়ার বরাদ্দের জন্য যে কোন মার্চেন্ট ব্যাংককে ইসু্য ম্যানেজার নিয়োগ করে প্রসত্মাবনাপত্র (অফর ডকুমেন্ট) প্রকাশ করতে হবে। এৰেত্রে সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এঙ্চেঞ্জ কমিশন (পাবলিক ইসু্য) বিধিমালা, ২০০৬-এর নিয়ম অনুসরণ করে ইসু্য ব্যবস্থাপককে প্রয়োজনীয় নিশ্চয়তা পত্র (ডিউ ডিলিজেন্স) প্রদান করতে হবে। এসইসির অনুমোদন পাওয়ার পর ইসু্য ব্যবস্থাপকের মাধ্যমে নির্ধারিত ফরমে আবেদনপত্র গ্রহণ করে শেয়ার বরাদ্দ করতে হবে। আগ্রহী বিনিয়োগকারীদের আবেদনপত্রের সঙ্গে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) উলেস্নখ করতে হবে।
নীতিমালা অনুযায়ী, শেয়ার বরাদ্দের প্রসত্মাবনাপত্রে কোম্পানির ইতিহাস, শীর্ষ ব্যবস্থাপকদের সামগ্রিক পরিচিতি, মূলধন সংগ্রহের উদ্দেশ্য, প্রসত্মাবিত প্রকল্প বাসত্মবায়নের সময়সূচী, সর্বশেষ নিরীৰিত আর্থিক প্রতিবেদন, শেয়ারপ্রতি মৌলিক আয়, পূর্ববর্তী তিন বছরের ডাইলু্যটেড ইপিএস এবং শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য উলেস্নখ থাকতে হবে। পাশাপাশি শেয়ারের অভিহিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ (প্রিমিয়াম) সংগ্রহ করতে চাইলে আইপিওর মতো তার যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে হবে। নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, যথাযথ প্রক্রিয়ায় শেয়ার ইসু্যর পর ১৫ দিনের মধ্যে বরাদ্দপত্রের কপিসহ বরাদ্দপ্রাপ্তদের তালিকা এসইসিতে পেশ করতে হবে। এই প্রক্রিয়ায় বরাদ্দ করা সকল শেয়ার হসত্মানত্মর বা বিক্রির ৰেত্রে বরাদ্দপত্র ইসু্যর দিন থেকে এক বছরের নিষেধাজ্ঞা (লক-ইন) বলবত থাকবে। মূলধন সংগ্রহ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার কমপৰে তিন বছর পর্যনত্ম কোম্পানির উদ্যোক্তাদের হাতে নূ্যনতম ৩০ শতাংশ শেয়ার থাকতে হবে।
উলেস্নখ্য, মূলধন সংগ্রহের (ক্যাপিটাল রেইজিং) নামে পেস্নসমেন্ট শেয়ার বরাদ্দ নিয়ে গত কয়েক বছর ধরে শেয়ারবাজারে বড় ধরনের অনৈতিক বাণিজ্য চলছে। কোম্পানির মূলধন বৃদ্ধির জন্য শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার আগেই পেস্নসমেন্টের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ শেয়ার বিতরণ করা হয়ে থাকে। কিছু কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান বিপুল পরিমাণ শেয়ার বরাদ্দ নিয়ে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির আগেই আগাম বিক্রির জমজমাট ব্যবসা চালিয়েছে। এই সুযোগে পেস্নসমেন্টের নামে ভুয়া প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বিক্রির প্রবণতা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় এসইসি এসব অনৈতিক কর্মকা- বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি।
সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এঙ্চেঞ্জ কমিশন (ক্যাপিটাল ইসু্য) বিধিমালা, ২০০১ এর বিধি-৩ অনুযায়ী, কোন কোম্পানি বাংলাদেশে মূলধন সংগ্রহ করতে চাইলে ওই কোম্পানিকে অবশ্যই সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এঙ্চেঞ্জ কমিশনে (এসইসি) অনুমতির জন্য আবেদন করতে হয়। কোম্পানির আবেদন যাচাই-বাছাই করে যৌক্তিক মনে করলে কমিশন ৬০ দিনের মধ্যে লিখিত অনুমতি দিয়ে থাকে। এই প্রক্রিয়ায় মূলধন সংগ্রহ প্রাইভেট পেস্নসমেন্ট নামে পরিচিত।
সংশিস্নষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রাইভেট পেস্নসমেন্ট নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে গত বছরের এপ্রিল মাসে এ বিষয়ে একটি নীতিমালা প্রণয়নের সিদ্ধানত্ম নিয়েছিল এসইসি। সেই সময় সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এঙ্চেঞ্জ কমিশন (পাবলিক ইসু্য) বিধিমালা সংশোধন আইপিওর ৰেত্রে ১৫০ কোটি টাকার কম পরিশোধিত মূলধনের কোম্পানির জন্য প্রাইভেট পেস্নসমেন্ট বন্ধ করা হয়।
জানা গেছে, কমিশন পুনর্গঠনের আগেই এ বিষয়ে একটি নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। গত বছরের ৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এই নীতিমালার খসড়া চূড়ানত্ম করা হয়। তবে এই নীতিমালা প্রণয়নের কাজ শেষ করে যেতে পারেনি আগের কমিশন। পুনর্গঠনের পর বর্তমান কমিশন মূলধন সংগ্রহের নীতিমালা চূড়ানত্ম করার উদ্যোগ নেয়। এর আগে গৃহীত খসড়ার আলোকেই নীতিমালাটি চূড়ানত্ম করে গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় অনুমোদন করা হয়। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রবিবার এ সংক্রানত্ম প্রজ্ঞাপন জারি করেছে এসইসি।