মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শনিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০১১, ৭ ফাল্গুন ১৪১৭
স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে ৩ দেশের প্রস্তাব
সতিন থেকে চার বিলিয়ন ডলার ব্যয় সাপেৰে একটি মাঝারি ধরনের স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হবে সমার্চে কনসালট্যান্ট নিয়োগ দিতে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করবে বিটিআরসি
ফিরোজ মান্না ॥ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের 'রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল' জমা দিয়েছে রাশিয়া, কানাডা, চীনসহ আরও কয়েকটি দেশ। প্রস্তাবগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিটিআরসি মার্চে কনসালট্যান্ট নিয়োগ দিতে আনত্মর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করবে। তবে দরপত্র আহ্বানের আগ পর্যন্ত স্যাটেলাইট প্রস্তুত ও উৎক্ষেপণকারী কোম্পানি বা দেশ প্রস্তামাব দিতে পারবে। তিন থেকে ৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয় সাপেক্ষে একটি মাঝারি ধরনের স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হবে। টেলিযোগাযোগ ও সম্প্রচার ক্ষেত্রে এই স্যাটেলাইট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। বিশেষ করে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎৰেপণ করা জরুরী বলে বিটিআরসি প্রকল্পটি হাতে নিয়েছে।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব) জিয়া আহমেদ জনকণ্ঠকে জানান, স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্যও বিটিআরসি কাজ করে যাচ্ছে। পরামর্শক নিয়োগের বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। একটি স্যাটেলাইট উৎৰেপণ করতে কয়েক বিলিয়ন মার্কিন ডলারের প্রয়োজন হবে। এ জন্য আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (আইটিইউ) অর্থ সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। স্যাটেলাইট উৎৰেপণ করতে পারলে দেশের টেলিযোগাযোগসহ বিভিন্ন ৰেত্রে বড় ধরনের সুফল আসবে। বর্তমানে বাংলাদেশ বিদেশী স্যাটেলাইট ভাড়া করে প্রয়োজনীয় ফ্রিকোয়েন্সি নিচ্ছে। ফ্রিকোয়েন্সি নিতে প্রতি বছর ১৫ থেকে ২০ মিলিয়ন ডলার ভাড়া পরিশোধ করতে হচ্ছে। নিজস্ব স্যাটেলাইট থাকলে এই টাকা দেশেই থেকে যাবে। আবার স্যাটেলাইটের ফ্রিকোয়েন্সি ভাড়া দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন করাও সম্ভব হবে। নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কাসহ আরও কয়েকটি দেশে স্যাটেলাইটের ফ্রিকোয়েন্সি ভাড়া দেয়ার বাজার রয়েছে। আইটিইউ বাংলাদেশের নিজস্ব স্যাটেলাইটের ব্যাপারে সহযোগিতা দেয়ার নীতিগত সিদ্ধানত্ম নিয়েছে। এই সিদ্ধানত্মের পেছনে সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করেছে গত বছর আনত্মর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (আইটিইউ) নির্বাচনে বাংলাদেশ চার বছর মেয়াদে কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ায়। এই সুযোগ কাজে লাগাতে কাজ করছে বিটিআরসি।
সূত্র জানিয়েছে, কনসালট্যান্ট নিয়োগের প্রস্তুতি চলতি মাসেই শেষ হবে। আগামী মাসের শুরম্নর দিকে স্যাটেলাইট উৎৰেপণের দরপত্র আহ্বান করার পরিকল্পনা রয়েছে বিটিআরসির। স্যাটেলাইট উৎৰেপণ অনেক ব্যয়সাপেৰ। এ জন্য অর্থ সহযোগিতার ব্যাপারেও বিটিআরসির পৰ থেকে নানা পদৰেপ নেয়া হচ্ছে। সম্প্রতি বিটিআরসি কর্মকর্তাদের কাছে রাশিয়া ও কানাডার একটি কোম্পানি স্যাটেলাইট উৎৰেপণ বিষয়ে ধারণাপত্র উপস্থাপন করেছে। দেশের নিজস্ব স্যাটেলাইট থাকলে বহির্বিশ্বের সঙ্গে টেলিযোগাযোগ সেবা নিরবচ্ছিন্ন থাকবে। সব ধরনের সম্প্রচার নির্বিঘ্ন হবে।
বর্তমানে টেলিযোগাযোগ থেকে শুরম্ন করে রেডিও-টিভি অন্য দেশের স্যাটেলাইটের ফ্রিকোয়েন্সি ভাড়া নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। এতে বিরাট অঙ্কের টাকা বিদেশে চলে যাচ্ছে। বাংলাদেশের নিজস্ব স্যাটেলাইট থাকলে দেশের প্রয়োজন মিটিয়ে কিছু চ্যানেল ভাড়া দেয়া যাবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে স্যাটেলাইট উৎৰেপণ করা জরম্নরী। দেশের মানুষের দোরগোড়ায় ইন্টারনেটসহ আধুনিক তথ্য সেবা পেঁৗছে দিতে স্যাটেলাইটের বিকল্প নেই।
বিটিআরসি জানিয়েছে, বাংলাদেশের স্যাটেলাইট মহাকাশের যে স্থানে স্থাপন করা হবে তা প্রায় চূড়ানত্ম হয়েছে। আনত্মর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (আইটিইউ) বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী মহাকাশে ১০২ ডিগ্রিতে স্যাটেলাইট উৎৰেপণের জন্য নিবন্ধন করা হয়েছে। স্যাটেলাইট উৎৰেপণের পর বাংলাদেশ কি ধরনের ফ্রিকোয়েন্সি কি কি খাতে ব্যবহার করতে পারবে এ বিষয়টি আইটিইউ নির্ধারণ করবে।
বাংলাদেশ ৪৮ ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহারের জন্য আইটিইউয়ের কাছে আবেদন করেছে। শর্তানুয়ায়ী স্যাটেলাইটের ফ্রিকোয়েন্সি আবেদনের দুই বছরের মধ্যে এটা ব্যবহার করতে হবে। এই শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে পরবর্তীতে ফ্রিকোয়েন্সির জন্য নতুন করে আবেদন করতে হবে। নিয়মানুযায়ী আইটিইউতে আবেদনের পর দুই বছর সময় দেয়া হয়।
একটি মাঝারি ধরনের স্যাটেলাইট উৎৰেপণ করতে হলে ৩ থেকে ৪ বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন। আইটিইউ বাংলাদেশের নিজস্ব স্যাটেলাইটের ব্যাপারে সহযোগিতা দেয়ার নীতিগত সিদ্ধানত্ম নিয়েছে। নিজস্ব স্যাটেলাইট না থাকলে তথ্য প্রযুক্তিতে পিছিয়ে পড়তে হবে। পাশর্্ববতর্ী দেশ ভারতের একাধিক স্যাটেলাইট থাকার পরও বহির্বিশ্বের সঙ্গে তথ্য যোগাযোগ ব্যবস্থার মানোন্নয়নে নতুন স্যাটেলাইট উৎৰেপণের উদ্যোগ নিয়েছে। টেলিযোগাযোগ ৰেত্রে ভারত যে পর্যায়ে এগিয়েছে তার পাশে চলতে না পারলে প্রযুক্তিগতভাবে অনেক পিছিয়ে পড়তে হবে। ভারত কলসেন্টারের মাধ্যমে বিরাট অঙ্কের বৈদেশিক অর্থ উপার্জন করছে। নিজস্ব স্যাটেলাইট থাকলে গ্রাম পর্যায় পর্যনত্ম তথ্য প্রযুক্তির বিকাশ ঘটবে। ভাড়া স্যাটেলাইট থেকে ফ্রিকোয়েন্সি নিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়া কঠিন হয়ে পড়বে।