মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শনিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০১১, ৭ ফাল্গুন ১৪১৭
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আবেদন করেছেন ৫০ জন
আফ্রিকায় কৃষিজমি লিজ নিয়ে কৃষিপণ্য উৎপাদন
সোহেল রহমান ॥ আফ্রিকা মহাদেশে জমি লিজ নিয়ে কৃষিপণ্য উৎপাদনে আগ্রহী বাংলাদেশের বিনিয়োগকারীরা। পশ্চিম ও দক্ষিণ আফ্রিকার কমপৰে সাতটি দেশে জমি লিজ নিয়ে বিনিয়োগ করতে এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ জন বিনিয়োগকারী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আবেদন করেছেন। তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে দেশগুলোর সঙ্গে চুক্তি করার প্রস্তূতি নিচ্ছে সরকার। এর আগে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত সরকারের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি আফ্রিকার দেশগুলো সরেজমিনের পরিদর্শনের মাধ্যমে আফ্রিকায় জমি লিজ নেয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আফ্রিকার গাম্বিয়া, তানজানিয়া, ঘানা, সেনেগাল, লাইবেরিয়া, আইভরিকোস্ট, কেনিয়াসহ বিভিন্ন দেশের পতিত জমি এরই মধ্যে বাংলাদেশী কয়েকজন বিনিয়োগকারী লিজ নিয়েছেন। তাঁরা সেখানকার জমি চাষ করতে বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন।
বিনিয়োগকারীদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পররাষ্ট্র ও কৃষি মন্ত্রণালয়ে এর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে চিঠি দেয়া হয় বলে সূত্র জানায়। এর ভিত্তিতে সেখানে জমি চাষ করতে সরকারের সঙ্গে সরকার কিংবা ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তির কি ধরনের চুক্তি করা যায় তা নিয়ে চিনত্মাভাবনা করছে সরকার। জমি লিজ নিয়ে চাষাবাদে আগ্রহীদের মধ্যে অন্যতম বাংলাদেশী বিনিয়োগকারী এম হায়দারউজ্জামান।
তিনি আফ্রিকার চারটি দেশে প্রায় এক লা হেক্টর জমি লিজ নিয়েছেন। এর মধ্যে তিনি গাম্বিয়ায় ৩০ হাজার হেক্টর, তানজানিয়ায় ৩০ হাজার হেক্টর, ঘানায় ৩০ হাজার হেক্টর এবং কেনিয়ায় ১০ হাজার হেক্টর জমি লিজ নিয়েছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে সংশিস্নষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আফ্রিকা অঞ্চল সফর করে জমি লিজ নিয়ে চাষ করার বিষয়টি এক প্রকার পাকাপোক্ত করে এসেছে। বর্তমানে বিঘা প্রতি মাত্র ২১ সেন্ট বা ১৪ টাকা দিয়ে অন্যান্য দেশ আফ্রিকার পরিত্যক্ত চাষ উপযোগী জমি লিজ নিচ্ছে। একইভাবে বাংলাদেশও অঞ্চলটিতে জমি লীজ নিয়ে চাষাবাদের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ লৰ্যে ওই অঞ্চলের কয়েকটি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের শীঘ্রই চুক্তি সাৰরিত হচ্ছে।
সূত্র জানায়, বাংলাদেশে বর্তমানে কৃষি জমির পরিমাণ এক কোটি ৪৮ লাখ ৪৬ হাজার হেক্টর। এর মধ্যে আবাদী জমির পরিমাণ নব্বই লাখ ৯৮ হাজার ৪৬০ হেক্টর। বছরে তিন ফসলী জমি চাষের জন্য বাংলাদেশ এশিয়ার মধ্যে অন্যতম। ফলে ঝড় জলোচ্ছ্বাস, খরা বন্যার পরও খাদ্য উদ্বৃত্ত থাকে দেশে। কিন্তু প্রতি বছর জ্যামিতিক হারে চাষের জমি কমে যাওয়া কৃষি সংশিস্নষ্টরা দুশ্চিনত্মাগ্রসত্ম হয়ে পড়েছে। এ জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জমি লিজ নেয়ার কথা চিনত্মাভাবনা করে সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নব্বইয়ের দশকের শুরম্নতে বাংলাদেশ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর কাছ থেকে জমি লিজ নিয়ে চাষাবাদ করার পরিকল্পনা করে। প্রথমদিকে পরীৰামূলকভাবে মিয়ানমারে জমি লিজ নেয়া হলেও নানা জটিলতার কারণে বাংলাদেশী কৃষকরা দেশটিতে চাষাবাদের জন্য অনাগ্রহ দেখাতে থাকে। তারপরও দেশের কিছু কিছু ব্যবসায়ী নিজ উদ্যোগে জমি লিজ নেয়া অব্যাহত রেখেছিলেন। কিন্তু গত সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ-মিয়ানমার যৌথ বাণিজ্য কমিশনের (জেবিসি ) চতুর্থ বৈঠক মিয়ানমারের পৰ থেকে সাফ জানিয়ে দেয়া হয়, দেশটির জমি বিশ্বের অন্য কোন দেশের কাছে লিজ দেয়া হবে না। এতে করে বাংলাদেশীদের মিয়ানমারের জমি লিজ নেয়ার সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যায়। তবে এরই মধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আফ্রিকা অঞ্চলে নাম মাত্র মূল্যে চাষ উপযোগী লিজ নেয়ার মতো জমির সন্ধান পায়। পররাষ্ট্র সচিব মোহাম্মদ মিজারম্নল কায়েস বলেছেন, আফ্রিকা অঞ্চলে একবার চাষাবাদ শুরম্ন করা গেলে বাংলাদেশের লাভবান হওয়ার সম্ভবনা খুবই উজ্জল আর এ লৰ্যে কার্যকরী পদৰেপ নেয়া হচেছ শীঘ্রই।
সূত্র জানায়, মিয়ানমারে বাংলাদেশীদের জমি লিজ নেয়ার সুযোগ হাত ছাড়া হওয়ার কারণে আফ্রিকার কৃষি মিশনকে গুরম্নত্ব দিচ্ছেন সরকারের নীতি নির্ধারকরা। ফলে ওই অঞ্চলের লাইবেরিয়া, ঘানা, সেনেগাল, আইভোরিকোস্ট ও কেনিয়ায় কৃষিখাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে ঢাকা। একইসঙ্গে দেশগুলোর কৃষিখাতে বাংলাদেশের কৃষি বিশেষজ্ঞদের কাজে লাগিয়ে বড় ধরনের সাফল্য আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে ভুটানে বাংলাদেশের এক প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী জমি লিজ নিয়ে কমলা চাষ করছেন।