মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শনিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০১১, ৭ ফাল্গুন ১৪১৭
রাজধানীতে তৈরি হবে সাড়ে ১২ হাজার ফ্ল্যাট
০ ব্যয় হবে ১৪ হাজার ৬৭১ কোটি ৭৭ লাখ ৯৩ হাজার টাকা
০ স্বল্প ও মধ্যআয়ের মানুষ কিনতে পারবে
হামিদ-উজ-জামান মামুন ॥ স্বল্প ও মধ্যআয়ের মানুষের আবাসন নিশ্চিত করতে রাজধানীতে ১২ হাজার ২৭২টি ফ্ল্যাট নির্মাণের প্রসত্মাব করেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। পরিকল্পনা কমিশনে দেয়া পৃথক দু'টি প্রসত্মাবে উত্তরা-১৮ নম্বর সেক্টরে ১ হাজার ৮টি এবং মিরপুর-৯ নম্বর সেক্টরে ১১ হাজার ২৬৪টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। সকল প্রক্রিয়া শেষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পেলে ২০১৫ সালের জুনের মধ্যে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করার কথা বলা হয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪ হাজার ৬৭১ কোটি ৭৭ লাখ ৯৩ হাজার টাকা।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার উত্তরা-১৮ নং সেক্টরে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের জনসাধারণের জন্য এ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণ শীর্ষক এ প্রকল্পটি চলতি মাসের ৩ তারিখ গৃহায়ন ও গতপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে পরিকল্পনা কমিশনে প্রস্তাব পাঠানো হয়। এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৯ হাজার ৪১৩ কোটি ৮৬ লাখ ৯৩ হাজার টাকা। প্রকল্পটি চলতি অর্থবছরের (২০১০-১১) বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীতে (এডিপি) সবুজ পাতায় অন্তর্ভুক্ত নয়। স্বঅর্থায়নে এটি বাসত্মবায়ন করবে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। তিনটি উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে এ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এগুলো হচ্ছে আবাসন সমস্যা সমাধানে পরিকল্পিত উপায়ে অল্প জায়গায় অধিক লোকের থাকার ব্যবস্থা করা, আধুনিক নাগরিক সুবিধা প্রদান এবং যৌক্তিক মূল্যে স্বল্পআয়ের মানুষের জন্য ফ্ল্যাট ক্রয়ের সুযোগ সৃষ্টি করা।
এ প্রকল্পের আওতায় মূল কার্যক্রম হচ্ছে ১০ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা, ৭৫০ বর্গফুটের ১ হাজার ৮টি ফ্ল্যাট নির্মাণ। এজন্য মোট ১৮টি ১৫ তলা ভবন নির্মাণ করা হবে। এছাড়া প্রকল্প এলাকায় লেক, রাসত্মা, কালভার্ট, প্রত্যেক ফ্লোরে লিফট, জরম্নরী নির্গমন সিঁড়ি এবং এয়ার সার্কুরেশনের ব্যবস্থাসহ নাগরিক সকল সুবিধা অনত্মর্ভুক্ত থাকবে। পরিকল্পনা কমিশনের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ প্রকল্পটির প্রাথমিক প্রক্রিয়াকরণের কাজ শুরম্ন হয়েছে। শীঘ্রই হয়ত প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হতে পারে।
অপরদিকে মিরপুর-৯ নম্বর সেকশনে স্বপ্ননগর আবাসিক প্রকল্প শীর্ষক প্রকল্পটি ডিসেম্বর মাসে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে পরিকল্পনা কমিশনে প্রসত্মাব পাঠানো হয়েছে। এর জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ হাজার ২৫৭ কোটি ৯১ লাখ টাকা। সংশিস্নষ্ট মন্ত্রণালয় ও জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপৰের অর্থায়নে এটি বাসত্মবায়ন করবে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপৰ।
সম্প্রতি প্রকল্পটির ওপর প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে একনেকে চূড়ানত্ম অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে।
প্রকল্পটি পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) আওতায় বাসত্মবায়নের জন্য আনত্মঃমন্ত্রণালয়ের সভায় পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, প্রকল্পের মূল কার্যক্রম হচ্ছে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপৰের নিজস্ব ১৪৫ দশমিক ৯১ একর জমির ভূমি উন্নয়ন করা, এ জমিতে সিঙ্গেল বেজমেন্টসহ ১২ তলা ৬৯টি ভবনে ১ হাজার ২৫০ বর্গফুট (সিঁড়ি, লিফট ও লবিসহ ১৬২৫ বর্গফুট) আয়তনের ৬ হাজার ৭২টি ফ্ল্যাট, সিঙ্গেল বেজমেন্টসহ ১২ তলা ৩৫টি ভবনে ১ হাজার ৬৬ বর্গফুট (সিঁড়ি, লিফট ও লবিসহ ১৩৩৬ বর্গফুট) আয়তনের ৩ হাজার ৮০টি ফ্ল্যাট এবং সিঙ্গেল বেজমেন্টসহ ১২ তলা ২৪টি ভবনে ৮০০ বর্গফুট ( সিঁড়ি, লিফট ও লবিসহ ১০৪০ বর্গফুট) আয়তনের ২ হাজার ১১২টি ফ্ল্যাটসহ মোট ১১ হাজার ২৬৪টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। এছাড়া ৩৯ হাজার ৬৪৩ দশমিক ৬৩ বর্গমিটার রাসত্মা কার্পেটিংসহ প্রয়োজনীয় ড্রেন, কালভার্ট, বৈদু্যতিক সাবস্টেশন, গ্যাস সংযোগ, কম্পাউন্ড ও স্ট্রীট লাইট এবং এর সঙ্গে সংশিস্নষ্ট অন্য কাজ করা হবে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশের মোট জনসংখ্যার ৩৫ শতাংশ বাস করছে ঢাকা শহরে। কর্মসংস্থান ও নাগরিক সুবিধা লাভের আশায় প্রতিদিন প্রত্যনত্ম অঞ্চল থেকে রাজধানীমুখী মানুষের সংখ্যা বাড়ছেই। এ প্রেৰিতে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপৰ একমাত্র সরকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে মিরপুর-৯ নম্বর সেকশনে সাইট এ্যান্ড সার্ভিসেস আবাসিক পস্নট উন্নয়ন কাজের মূল প্রকল্পটি ১৯৯৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর একনেকে মোট ৫৮ কোটি ৪৯ লাখ ২৫ হাজার টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে সরকারী অর্থে বাসত্মবায়নের জন্য অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। ডিপিপি অনুযায়ী প্রকল্পটির বাসত্মবায়নকাল ১৯৯৪ সালের জুলাই থেকে ১৯৯৭ সালের জুন পর্যনত্ম ধরা হয়। এটির মূল উদ্দেশ্য ছিল স্বল্প ও মধ্যআয়ের মানুষের জন্য ছোট ও মাঝারি আকারে আবাসিক পস্নট উন্নয়ন করে বরাদ্দ দেয়া। একল্পে এডিপির বরাদ্দ কম থাকায় বাসত্মবায়নের গতি ছিল মন্থর। প্রকল্প এলাকা নিচু ও প্রকল্পের মাধ্যমে কিছু মাটি ভরাটের কাজ শেষ করা হয়েছিল। পরে বিভিন্ন কারণে প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ২০০৩ সালের আগস্টে প্রকল্পের সংশোধিত ডিপিপি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়। কিন্তু তা অনুমোদন লাভ করেনি। ঐ সংশোধিত ডিপিপির ওপর ২০০৪ সালের ৫ এপ্রিল পিইসি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভার সিদ্ধানত্ম অনুযায়ী বাসত্মবায়ন, পরিবীৰণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি), পরিকল্পনা কমিশন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপৰের প্রতিনিধির সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠিত হয়। এ কমিটি একই বছর ২৭ এপ্রিল প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে এবং একাধিকবার আলোচনাসভায় মিলিত হয়। পরবর্তীতে একই বছর ১৮ ডিসেম্বরে একটি প্রতিবেদন দাখিল করে। ওই প্রতিবেদনে অনত্মর্ভুক্ত নঙ্ার ভিত্তিতে প্রকল্পে পস্নটের পরিবর্তে স্বঅর্থায়নে ২২ হাজার ৩০৮টি ফ্লাট নির্মাণের সুপারিশ করা হয়। সুপারিশের আলোকে ১৬৮ একর জমির ওপর ১২৫০, ১০০০ ও ৮০০ বর্গফুটের ১৪ তলাবিশিষ্ট ২৬৩টি ভবনে ২২ হাজার ৩০৮ ফ্ল্যাট নির্মাণের জন্য ডিপিপি তৈরি করে ২০০৭ সালে মন্ত্রণালয় থেকে পরিকল্পনা কমিশনে দাখিল করা হয়। কিন্তু মামলাজনিত কারণে সেই ডিপিপি অনুমোদন লাভ করেনি।
প্রসত্মাবিত বর্তমান প্রকল্পে ১৬৮ একর জমির কোন কোন দাগের জমির হুকুমদখল বহির্ভূত থাকার কারণে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপৰ প্রথম পর্যায়ে সংস্থার নিজস্ব ১৪৫ দশমিক ৯১ একর জমির ওপর ১১ হাজার ২৬৪টি ফ্ল্যাট নির্মাণের প্রসত্মাব দিয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনের অপর একটি সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ে একটি আনত্মঃমন্ত্রণালয় সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বেশকিছু পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রকল্পটি ২০১১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৫ সালের জুন পর্যনত্ম বাসত্মবায়নকাল ধরার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া বলা হয়েছে, পিপির আওতায় দেশী অথবা বিদেশী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে প্রকল্পটি বাসত্মবায়ন করা হলে একটি ভাড়াটে পরিবার প্রতিমাসে যে ভাড়া পরিশোধ করে তার ভিত্তিতে ফ্ল্যাট ক্রয় করতে পারবে। অন্যদিকে লিঙ্ক প্রকল্প হিসেবে ভূমি উন্নয়ন ও রাসত্মাঘাটসহ অন্যান্য কাজ বাসত্মবায়নকারী সংস্থার স্ব অর্থায়নে করা যাবে।