মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বৃহস্পতিবার, ২০ জানুয়ারী ২০১১, ৭ মাঘ ১৪১৭
ঘুরে দাঁড়িয়েছে পোশাক শিল্প ॥ প্রথম ছয় মাসে রফতানি প্রবৃদ্ধি ৭৩ শতাংশ
স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ মন্দার ধকল কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প। কমমূল্যের পোশাকের জন্য বিদেশী ক্রেতারা এখন চীনের পরিবর্তে বাংলাদেশমুখী হচ্ছেন। দেশের পোশাক শিল্পের বাজার এখন আমেরিকা ও ইউরোপ ছাড়িয়ে সমপ্রসারিত হচ্ছে জাপান, লাতিন আমেরিকা, ভারতসহ বিভিন্ন দেশে। চীন ও দক্ষিণ কোরিয়া তাদের দেশে বাংলাদেশের পোশাক রফতানির ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রদান করায় সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। ফলে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয়মাসে তৈরি পোশাক রফতানির প্রবৃদ্ধি উন্নীত হয়েছে ৭৩ শতাংশে। কাফেঙ্পো (চিটাগাং এ্যাপারেল, ফ্রেবিক এ্যান্ড এঙ্সেরিজ এঙ্পোজিশন) ২০১১ কে সামনে রেখে বুধবার চট্টগ্রামে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দ উপরোক্ত তথ্যগুলো প্রকাশ করেন।
চট্টগ্রাম নগরীর একটি রেসত্মরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের বর্তমান অবস্থা ও সম্ভাবনার দিকসমূহ তুলে ধরেন সংগঠনের প্রথম সহসভাপতি নাসির উদ্দিন চৌধুরী। এ সময় নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ পরিচালক লিয়াকত আলী চৌধুরী, এএম চৌধুরী সেলিম, হাসানুজ্জামান চৌধুরী, ফরহাদ আব্বাস, সাবেক প্রথম সহসভাপতি এরশাদ উলস্নাহ, এমএ সালাম, মোঃ ফেরদৌস, নাসির উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, একরামুল হক প্রমুখ। বিজিএমইএর পক্ষ থেকে তুলে ধরা তথ্য উপাত্তে বলা হয়, গত ১ জানুয়ারি থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নে এক সত্মরের ুরম্নলস অব অরিজিন সুবিধা প্রদান করায় সেখানে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি উলেস্নখযোগ্য হারে বেড়ে যাবে। গত ২০০৯-১০ অর্থবছরে ইউরোপীয় ইউনিয়নে রফতানি মূল্য ছিল ৭ হাজার ১৯০ দশমিক ৭৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। রম্নলস অব অরিজিন শিথিল করায় ভবিষ্যতে রফতানি সেখানে দ্বিগুণ হয়ে যেতে পারে। ইতোমধ্যেই বিশ্ব পোশাক শিল্প বাজারে রফতানিকারক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ তৃতীয় অবস্থানে উন্নীত হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও পোশাক রফতানিতে বাংলাদেশের অবস্থান তৃতীয়। রফতানি বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের প্রথম ছয়মাসে প্রবৃদ্ধি এসে দাঁড়িয়েছে ৭৩ দশমিক ১১ শতাংশে। অথচ এর আগের অর্থবছরে একই সময়ে প্রবৃদ্ধি ছিল ৪৩ শতাংশ। বিজিএমইএ জানায়, বর্তমানে বস্ত্র ও পোশাক মিলে বিশ্বে প্রায় ৪শ' বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাজার আছে, যার গড় প্রবৃদ্ধির হার ১০ দশমিক ৯২ শতাংশ। এ বিশাল সম্ভাবনাময় বাজারে এখনও বাংলাদেশের রফতানির যোগান মাত্র ৪ শতাংশ। বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের অংশ আরও বাড়াতে হবে। সে লক্ষ্যে পণ্যের মান উন্নয়ন ও বহুমুখীকরণ, ভাবমূর্তি উন্নয়ন এবং সামাজিক দায়িত্বশীলতা নিয়ে নিরনত্মর চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
চট্টগ্রামে আজ বৃহস্পতিবার শুরম্ন হতে যাচ্ছে তিন দিনব্যাপী কাফেঙ্পো। নগরীর সিজেকেএস ইনডোর স্টেডিয়ামে (জিমনেসিয়াম) সকাল ১১টায় এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন স্থানীয় সরকার, পলস্নী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। এতে বিশেষ অতিথি থাকবেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এম মঞ্জুর আলম এবং বস্ত্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান আখতারম্নজ্জামান চৌধুরী এমপি। একই দিনে বিকেলে লালখানবাজারের পিটস্টপ রেস্টুরেন্টে জার্মান ইন্টারন্যাশনাল কো অপারেশনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হবে এক সেমিনার। এতে দেশী-বিদেশী বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত থাকবেন। সেমিনারে প্রধান অতিথি থাকবেন শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান এবিএম আবুল কাশেম এমপি, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. হোসেন জিলস্নুর রহমান এবং জার্মান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের সমন্বয়ক ড. দাইয়েটিচ স্টোটস। আলোচনা করবেন সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরম্ন মাহমুদ চৌধুরী ও প্যাসিফিক জিন্সের চেয়ারম্যান মোঃ নাসির উদ্দিন। আগামী ২২ জানুয়ারি শেষ হবে ৩ দিনব্যাপী কাফেঙ্পো। বিকেল সাড়ে ৩টায় সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সাবেক বাণিজ্য মন্ত্রী আমীর খসরম্নু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিশেষ অতিথি থাকবেন সাবেক বন ও পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী জাফরম্নল ইসলাম চৌধুরী এমপি।
সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দ জানান, পোশাক শিল্পের উন্নয়ন এবং সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে তারা বেশকিছু উদ্যোগ নিয়েছেন, যার কিছু কিছু ইতোমধ্যে বাসত্মবায়িত হয়েছে। শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিজিএমইএর উদ্যোগে চট্টগ্রামে ৫০ সদস্যবিশিষ্ট একটি হাসপাতালের নির্মাণ কাজ দ্রম্নত এগিয়ে চলেছে। শ্রমিক-কর্মচারীদের সনত্মানদের বিনামূল্যে শিক্ষার জন্য মুরাদপুরে বিজিএমইএ'র উদ্যোগে ২০০৪ সাল থেকে একটি অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা করা হচ্ছে। পোশাক শিল্পে কর্মরতদের অধ্যয়নরত মেধাবী সনত্মানদের শিক্ষা কার্যক্রমে উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে চালু হচ্ছে শিক্ষা বৃত্তি কার্যক্রম, যা প্রতিবছর মে দিবসের অনুষ্ঠানে প্রদান করা হয়। এছাড়া দক্ষ শ্রমিক সৃষ্টির লক্ষ্যে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা, গ্রম্নপ বীমা সুবিধা বাধ্যতামূলক করণ, পোশাক শিল্পে কর্মরত মিডলেভেল ব্যবস্থাপকদের প্রশিক্ষণ প্রদানসহ নানা উদ্যোগ ইতোমধ্যে বাসত্মবায়ন করা হয়েছে। নেতৃবৃন্দ চট্টগ্রামে পোশাক শিল্পের উন্নয়নের জন্য যানজট নিরসন, নতুন নতুন শিল্প স্থাপনে গ্যাস সংযোগ প্রদান নিশ্চিত করা, শিল্প কারখানায় চাহিদামতো বিদু্যত সরবরাহ করা, দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারী ও পর্যটকদের আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে আনত্মর্জাতিকমানের হোটেল নির্মাণ ও পর্যটন কেন্দ্রসমূহকে আকর্ষণীয় ও নিরাপদ করা, শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে আনত্মর্জাতিক ফ্লাইটের কানেকভিটি বাড়ানো, চট্টগ্রামে পূর্ণাঙ্গ বন কমিশনারেট স্থাপনে সরকারের ঘোষণা অতিসত্বর বাসত্মবায়ন, ইন্ডাস্ট্রিয়াল আইআরসি নিয়মিতকরণের জন্য চট্টগ্রামে অবস্থিত আমদানি রফতানি নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের ক্ষমতায়ন চট্টগ্রামে জয়েন্ট স্টক কোম্পানি কার্যালয়ে সহকারী রেজিস্ট্রার নিয়োগ দান এবং যে কোন পরিস্থিতিতে বন্দর পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে যথাযথ কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।