মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বৃহস্পতিবার, ২০ জানুয়ারী ২০১১, ৭ মাঘ ১৪১৭
এসএমই ঋণ বিতরণের লক্ষমাত্রা ৬২ হাজার কোটি টাকা
খায়রুল হোসেন রাজু ॥ আমদানি নির্ভরশীলতা হ্রাস করতে, রফতানি বাড়াতে, অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ব্যাপক কর্মসংস্থানের লক্ষেই ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) খাতে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায় থেকে। ঋণ বিতরণের লক্ষমাত্রা বৃদ্ধি, মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার এবং নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টির ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশিস্নষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা ব্যাপকহারে কাজ করে যাচ্ছেন। লৰ্যমাত্রা নির্ধারণও প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। এ বছর ঋণ বিতরণের জন্যে প্রায় ৬২ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। এ মাসের মধ্যেই বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নর ড. আতিউর রহমান অনুষ্ঠানিকভাবে এসএমই ঋণের লক্ষমাত্রা ঘোষণা করবেন বলেও জানা গেছে।
সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালে এসএমই খাতে প্রথম ২৪ হাজার কোটি টাকা লৰ্যমাত্রা নির্ধারণ করে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। পরে এ লক্ষমাত্রা বৃদ্ধি করে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়। গত জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরের হিসেব অনুযায়ী প্রায় ৩৯ হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া গত বছরের বাকি তিন মাসের হিসেবে (অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর) লক্ষমাত্রা অধিক্রম করবে।
এসএমই ঋণের ব্যাপক চাহিদা থাকার কারণে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এ বছর অনেক বেশি টার্গেট দিয়েছে। সর্বশেষ হিসেব অনুয়ায়ী ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় ৬২ হাজার কোটি টাকা এসএমই খাতে ঋণ বিতরণের লৰ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এর মধ্যে ব্যাংকগুলো প্রদান করবে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা এবং নন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ২ হাজার কোটি টাকা। সংশিস্নষ্টরা বলেছেন, এ বছরও এসএমই খাতের লক্ষমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি ঋণ বিতরণ করা হবে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নর ড. আতিউর রহমান জনকণ্ঠকে বলেন, বাংলাদেশকে একটি মধ্যআয়ের দেশের পরিণত করতে হলে দেশের অভ্যনত্মরের উৎপাদন বাড়াতে হবে। সে লৰ্যে ৰুদ্র ও মাঝারি শিল্প ও কৃষি খাতের ওপর ব্যাপকহারে গুরম্নত্ব দিতে হবে। এরই অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পৰ থেকে আমরা মূল্যস্ফীতি স্থিতিশীল অবস্থায় রাখার পাশাপাশি এসএমই ও কৃষির উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। ঋণ বিতরণের লৰ্যমাত্রা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। নতুন নতুন কৌশল গ্রহণ করা হচ্ছে। নারী উদ্যোক্তাদের এসএমইতে বেশি করে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। যেটি এর আগে ছিল না। অর্থাৎ কৃষির পাশাপাশি এসএমইতে বিপস্নব ঘটানোর লৰ্যেই আমি কাজ করে যাচ্ছি।
এসএমই এ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস বিভাগে গিয়ে গত মঙ্গলবার দেখা গেছে, মহিলা উদ্যোক্তাদের ঋণ প্রদান করার বিষয়ে এ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক সুকোমল সিংহ চৌধুরীসহ একাধিক কর্মকর্তা কাজ করছেন। তখন এসএমই ঋণ নিয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন এমন অভিজ্ঞতার কথা উলেস্নখ করছেন নাজমা পারভীন লাইজু। তিনি সাভার থেকে এসএমই বিভাগে এসেছেন। তিনি জনকণ্ঠকে বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গবর্নর ড. আতিউর রহমান এবং এসএমই বিভাগের মহাব্যবস্থাপক সুকোমল সিংহ চৌধুরীর অনুপ্রেরণায় এসএমই ঋণ গ্রহণ করে আমার ব্যবসাকে চাঙ্গা করি। এখন আমার 'নকশী মেয়া' প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৩শ' জন লোক কাজ করছেন। এর আগে ছিল ১৫০ জন। আমার মাসিক প্রায় ৯ থেকে ১০ লাখ টাকা মুনাফা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এসএমই ঋণ গ্রহণ করে আমি নিজেই স্বাবলম্বী হইনি, গ্রামের অনেক মহিলাদেরও স্বাবলম্বী করেছি। আমি বিএসটিআই থেকে ট্রেড মার্ট সার্টিফিকেট নিয়েছে। এছাড়া জাতীয় পর্যায়ে একাধিক পুরস্কারও পেয়েছি। এখন আমি একজন সফল নারী উদ্যোক্তা।