মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বৃহস্পতিবার, ২০ জানুয়ারী ২০১১, ৭ মাঘ ১৪১৭
মুদ্রাবাজারে ৮ হাজার কোটি টাকা সরবরাহ
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ মানি মার্কেটের তারল্য বা নগদ অর্থের যোগান দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক জোরালো ভূমিকা পালন করছে। রেপো ও তারল্য সহায়তার মাধ্যমে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতিদিনই হাজার হাজার কোটি টাকা প্রদান করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাইমারী ডিলার (পিডি) ১৫টি ব্যাংকসহ অন্যান্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে তারল্য সরবরাহ করা হচ্ছে। বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিস থেকে আট হাজার কোটি টাকার ওপরে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, মানি মার্কেটের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি রোধ করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার নির্দেশনা অব্যাহত রেখেছে। এরই অংশ হিসেবে মানি মার্কেটে নগদ অর্থের যোগান দেয়া হচ্ছে। প্রতিদিনই ৭ থেকে ৮ হাজার কোটি টাকার ওপরে তারল্য সহায়তা দেয়া হচ্ছে। বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ৮ হাজার ২৫১ কোটি টাকা প্রদান করা হয়। এর মধ্যে তারল্য সহায়তা (লিকুউডিটি সাপোর্ট) হিসেবে প্রদান করা হয়েছে ৪ হাজার ৭৭০ কোটি ৫৬ লাখ এবং রেপোর মাধ্যমে দেয়া হয়েছে ৩ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা। যা গত মঙ্গলবারের চেয়ে প্রায় ৪৮৩ কোটি টাকা বেশি। মানি মার্কেটের সঙ্কট কাটাতেই বাংলাদেশ ব্যাংকের তারল্য সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।
বিদ্যমান পুঁজিবাজার উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের উর্ধতন কর্মকর্তারাও কাজ করছেন। যদিও এটি তাদের কাজের আওতায় পড়ে নয়। কারণ পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণ করছে সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এঙ্চেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। এরপরও দেশের স্বার্থে এবং ক্যাপিটাল মার্কেটের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের অধিকাংশ নীতিতে ছাড় দিয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুদ্রানীতির সঙ্গে সংঘর্ষ রেখেই ক্যাপিটাল মার্কেটের সুবিধার জন্য কিছু কিছু সিদ্ধানত্ম নিয়েছে বলেও এ খাতের বিশেস্নষকরা মনত্মব্য করেছেন।
বিশেস্নষকরা আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক যদি দ্বৈতনীতি অবলম্বন করে তাহলে ব্যাংকিং খাতের ওপর নিয়ন্ত্রণ কিছুটা হলেও শিথিল হয়ে পড়বে। আর এতে কোন ব্যাংক যদি সমস্যায় পড়ে তাহলে এর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকই দায়ী থাকবে। তারা আরও বলছেন, বাংলাদেশ ব্যাংক একদিকে বাজার থেকে অতিরিক্ত তারল্য প্রত্যাহার করবে, অন্যদিকে নতুন করে তারল্যের যোগান দেবে। এ ধরনের দ্বৈতনীতি চলতে থাকলে মানি মার্কেটে অস্থিতিশীল অবস্থা বিরাজ করাসহ মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাবে।
এদিকে ক্রেডিট রেসিই'র চেয়ে অতিরিক্ত ঋণ বিতরণ করায় বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক দু'টি বেসরকারী বাণিজ্যিক ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নর ড. আতিউর রহমান, ডেপুটি গবর্নর মোঃ নজরম্নল হুদা, জিয়াউল হাসান সিদ্দিকী এবং সংশিস্নষ্ট ব্যাংক দুটোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে ব্যাংকগুলো বিতরণকৃত ঋণ আদায় এবং নতুন করে ক্রেডিট রেসিউর অতিরিক্ত ঋণ বিতরণ থেকেও বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছে বলেও জানা গেছে। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, কোন ব্যাংকের ১শ' কোটি টাকা ডিপোজিট থাকলে ওই ব্যাংকটি ৮১ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করতে পারবে। কিন্তু কিছু কিছু ব্যাংক রয়েছে যেগুলো ১শ' টাকা ডিপোজিট নিয়ে প্রায় ৯৫ কোটি টাকা আবার এর চেয়ে বেশিও ঋণ বিতরণ করেছে। এতে ব্যাংকের তারল্য সঙ্কট দেখা দিয়েছে। বিদ্যমান এ সঙ্কট সমাধানে বাংলাদেশ ব্যাংক সংশিস্নষ্ট বাণিজ্য ব্যাংকগুলোকে সতর্ক করে দিতে বৈঠক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক বলেও জানা গেছে।