মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বৃহস্পতিবার, ২০ জানুয়ারী ২০১১, ৭ মাঘ ১৪১৭
মূসক নিবন্ধন না করলে জেলজরিমানা
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ কর আইনের নতুন খসড়া প্রকাশ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। কর আইন যুগোপযোগী করতে নতুন এ আইন প্রকাশ করছে সংস্থাটি। ইতোমধ্যে এ আইনের খসড়া বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে মতামতের জন্য পাঠানো হয়েছে। তাছাড়া, মত প্রদানের জন্য এনবিআরের ওয়েবসাইটেও তা দেয়া হয়েছে। খবর শীর্ষ নিউজ।
আগামী ২০১১-১২ অর্থবছর থেকে নতুন মূল্য সংযোজন কর (মূসক) আইন কার্যকর হবে এবং ২০১২-১৩ অর্থবছর থেকে আয়কর আইনটি কার্যকর হবে। নতুন এ আইনে সম্পদ কর, ভ্রমণ কর, দান কর আরোপ করা হয়েছে। এছাড়া ভুয়া টিনধারীদের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। আগের আইন অনুযায়ী স্থাবর সম্পদের উপর কর আরোপ করার কোন বিধান ছিল না। স্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে জমি, অলঙ্কার, বিভিন্ন নিদর্শন এমন কী কেউ ৫০ হাজার টাকার উপর ঘড়ি ব্যবহার করলেও বার্ষিক কর দিতে হবে। তবে বসবাসের জন্য বাড়ি বা জমির কোন কর দেয়ার প্রয়োজন নেই। একই সঙ্গে পৌর এলাকায় কোন ফ্ল্যাট থাকলেও তার কর দিতে হবে। এদিকে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দানকৃত সম্পদ ছিল করমুক্ত। বর্তমান আইন অনুযায়ী এসব সম্পদের ওপর করারোপ করার বিধান রাখা হয়েছে। প্রকাশিত এ আইনের বিপরীতে কেউ কর না দিলে শাসত্মিরও বিধান রয়েছে।
অন্যদিকে মূসক নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নিবন্ধন না করলে জরিমানাসহ জেল দেয়ার বিধান রাখা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের মূসকের আওতায় আনার জন্য আইনটি কঠোর করা হয়েছে। প্রকাশিত আইনে বলা হয়েছে বিভিন্ন কারণে ভুয়া টিন নেয়া হচ্ছে। কিন্তু এসব ভুয়া টিনধারীরা কখনও রিটার্ন দাখিল করেন না। ফলে বিভিন্ন জটিলতা দেখা দেয়। নতুন আইনের ফলে এসব ভুয়া টিনধারীদের শাসত্মির মধ্যে নিয়ে আসা সম্ভব হবে বলে মনে করছে সংস্থাটি।
এ বিষয়ে এনবিআর সদস্য শম্ভুনাথ দাস বলেন, বর্তমানে প্রায় ২৮ লাখ টিনধারী থাকলেও রিটার্ন জমা পড়ে মাত্র ৮ থেকে ৯ লাখ। বাকি প্রায় ২০ লাখ টিনধারী তাদের রিটার্ন করেন না। কারণ এরমধ্যে অর্ধেকের বেশি রয়েছে ভুয়া টিনধারী। নতুন আইনের ফলে এসব ভুয়া টিনধারীর শাসত্মির বিধান রাখায় কেউ ভুয়া টিন করবেন না। তাছাড়া এর ফলে সঠিক সংখ্যাটিও বের করা যাবে। তিনি জানান, ভুয়া টিনধারীকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করার বিধান রাখা হয়েছে।
এনবিআর সদস্য আব্দুল মান্নান পাটোয়ারি বলেন, কর আইনকে সময়োপযোগী করতে এ আইন করা হয়েছে। বর্তমান আর্থসামাজিক ব্যবস্থাকে বিবেচনায় রেখে আইনটি করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, আইনটি কার্যকর হলে আগামী অর্থবছরে ১ লাখ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হবে।