মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বৃহস্পতিবার, ২০ জানুয়ারী ২০১১, ৭ মাঘ ১৪১৭
শেয়ারবাজারে সূচক হ্রাস বৃদ্ধির সীমা আরোপ
ডিএসই সাধারণ সূচক ২২৫ পয়েন্টের বেশি বাড়লে বা কমলেই ওইদিনের মতো লেনদেন বন্ধ হয়ে যাবে
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ পুঁজিবাজারে অস্বাভাবিক উত্থান-পতন ঠেকাতে একদিনে সূচক হ্রাস-বৃদ্ধির সর্বোচ্চ সীমা (সার্কিট ব্রেকার) আরোপ করেছে সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। বুধবার থেকেই সূচকের এই নতুন সীমা কার্যকর করা হয়েছে। এসইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঢাকা স্টক এঙ্চেঞ্জের (ডিএসই) সাধারণ সূচকের হ্রাস বা বৃদ্ধি ২৩৭ পয়েন্টকে ভিত্তি ধরা হয়েছে। এৰেত্রে দিনের লেনদেন শুরুর পর সূচক হ্রাস বা বৃদ্ধির পরিমাণ ২৩৭ পয়েন্টের ৫ শতাংশ কম বা বেশি হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে লেনদেন বন্ধ হয়ে যাবে। সেই হিসাবে সূচকের সর্বোচ্চ হ্রাস-বৃদ্ধির ফলে লেনদেন বন্ধ হওয়ার সর্বনিম্ন সীমা ২২৫ পয়েন্ট। অর্থাৎ, লেনদেন চলাকালে ডিএসই সাধারণ সূচক হ্রাস বা বৃদ্ধির পরিমাণ ২২৫ পয়েন্ট অতিক্রম করলে ওইদিনের মতো লেনদেন স্থগিত রাখা হবে। ডিএসইর লেনদেন বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চট্টগ্রাম স্টক এঙ্চেঞ্জেও (সিএসই) লেনদেন কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হবে।
এসইসির নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারুল কবীর ভুঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, পুঁজিবাজারে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি এড়াতে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থেই সূচক হ্রাস-বৃদ্ধির সর্বোচ্চ সীমা আরোপ করা হয়েছে। বুধবার এসইসির বাজার পর্যালোচনা কমিটির বৈঠকে সিদ্ধানত্ম নেয়ার পরপরই তা কার্যকর করা হয়েছে।
তিনি বলেন, লেনদেন চলাকালে প্রতি ৫ মিনিট পর পর সূচক সমন্বয় করা হয়। এ কারণে কোন একটি পয়েন্টে সূচকের সীমা নির্দিষ্ট করে দেয়া যায়নি। একবার সমন্বয়ের পর পরের ৫ মিনিটের মধ্যে যাতে বড় ধরনের উত্থান বা পতন ঘটতে না পারে সে জন্য ২৩৭ পয়েন্টকে ভিত্তি ধরা হলেও হ্রাস-বৃদ্ধির পরিমাণ ২২৫ পয়েন্টের বেশি হলেই লেনদেন বন্ধ করে দেয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে সূচক হ্রাস-বৃদ্ধির সীমা আরোপের ধারণা নতুন হলেও বিশ্বের অনেক দেশে এ ধরনের ব্যবস্থা চালু রয়েছে। এর ফলে একদিনের মধ্যে শেয়ারবাজারে অস্বাভাবিক দরপতন বা উত্থানের প্রবণতা অনেকটা রোধ করা সম্ভব হবে।
এদিকে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কায় আগের দিন (মঙ্গলবার) শেয়ারবাজারে লেনদেন স্থগিত রাখার পর বুধবার নির্ধারিত সময়ে (সকাল ১১টা) যথারীতি লেনদেন শুরম্নর ঘোষণা দিয়েছিল এসইসি ও ডিএসই। কিন্তু বুধবার সকাল থেকেই পুঁজিবাজারের বর্তমান পরিস্থিতিতে করণীয় নির্ধারণের লৰ্যে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে একের পর এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এ কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে যে কোন ধরনের বিভ্রানত্মি এড়াতে শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরম্নর সময় দু'ঘণ্টা পিছিয়ে দেয়া হয়। শেষ পর্যনত্ম সূচক হ্রাস-বৃদ্ধির সর্বোচ্চ সীমা আরোপের পর বেলা ১টা থেকে দুই শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরম্ন হয়।
সূচক হ্রাস-বৃদ্ধির সীমা আরোপের প্রথম দিনে লেনদেন শুরম্নর পর দেড় ঘণ্টার মধ্যেই শেয়ারবাজারে সর্বোচ্চ দরপতনের ঘটনা ঘটেছে। বেলা ১টার দিকে লেনদেন শুরম্নর পর ৫ মিনিটের মধ্যে অধিকাংশ শেয়ারের দরবৃদ্ধির প্রভাবে ডিএসই সাধারণ সূচক আগের দিনের চেয়ে ১৬০ পয়েন্টের মতো বেড়ে যায়। কিন্তু এরপরই ব্যাপকহারে কমতে থাকে শেয়ারের দর। ১৫ মিনিট ধরে এ ধারা চলার পর বেলা ১টা ২৫ মিনিটের দিকে কিছুটা উর্ধমুখী হয়ে উঠে সূচক। তবে ১৫ মিনিট পর থেকে একটানা দরপতন হতে থাকে। বেলা ২টা ৩০ মিনিটে ডিএসই সাধারণ সূচক হ্রাসের মাত্রা নির্ধারিত সর্বোচ্চ সীমা অতিক্রম করে। এ সময় এই সূচক আগের দিনের চেয়ে ২৩১ পয়েন্ট কমে ৬৯০২.৪৮ পয়েন্টে দাঁড়ায়। ফলে ওই অবস্থায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে দিনের লেনদেন বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় পর্যনত্ম লেনদেন হওয়া ২৪০টি কোম্পানির মধ্যে ২৩০টিরই শেয়ারের দর ব্যাপক মাত্রায় কমেছে। এর বিপরীতে ৭টির দর বেড়েছে এবং ৩টির অপরিবর্তিত রয়েছে।
অধিকাংশ শেয়ারের দর ও সূচকে ব্যাপক নেতিবাচক প্রবণতা থাকলেও আর্থিক লেনদেনের মাত্রা ছিল গত কয়েক দিনের তুলনায় বেশি। মাত্র দেড় ঘণ্টা সময়ের মধ্যে ডিএসই বুধবার ৫৩৭ কোটি ৪০ লাখ ৪৭ হাজার টাকার লেনদেন হয়েছে। আগের দিন ২ ঘণ্টা ৪০ মিনিটে লেনদেন হয়েছিল ৬০৯ কোটি ৮৬ লাখ ১১ হাজার টাকা।