মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৩, ২৪ অগ্রহায়ন ১৪২০
উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণির পড়াশোনা
পৌরনীতি ও সুশাসন ১ম পত্র
ষোড়শ অধ্যায় : সরকারের অঙ্গসমূহ
নিচের উদ্দীপকটি পড়ে সংশ্লিষ্ট প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
‘ক’ রাষ্ট্রের একটি বিভাগ নারী ও শিশু পাচার প্রতিরোধ আইন করে। এই বিভাগটি অর্থবছরের শুরুতে সরকারের আয়-ব্যয় নির্ধারণ করে দেয়। দেশ ও জাতির প্রয়োজনে বিভাগটি এ পর্যন্ত ১৫ বার সে দেশের সংবিধান সংশোধন করেছে। তবে শাসন ও বিচার সংক্রান্ত কাজে এ বিভাগের তেমন কোন সুযোগ নেই। বর্তমানে শাসন সংক্রান্ত কাজ নিয়ন্ত্রণকারী বিভাগটি বেশি শক্তিশালী হচ্ছে।
প্রশ্ন : ক) সরকারের অঙ্গ কয়টি?
খ) শাসন বিভাগ বলতে কী বুঝায়?
গ) উপরের উদ্দীপকে সরকারের যে বিভাগের কথা বলা হয়েছে তার ৬টি কাজ লিখ।
ঘ) উক্ত বিভাগটি অপেক্ষা শাসন সংক্রান্ত কাজ নিয়ন্ত্রণকারী বিভাগটি অধিক ক্ষমতার অধিকারী হচ্ছেÑ তোমার পাঠ্য বইয়ের আলোকে ব্যাখ্যা কর।
উত্তর : (ক) সরকারের বিভাগ মোট ৩ (তিন)টি।
(খ) রাষ্ট্রের শাসনকার্য পরিচালনার দায়িত্ব যে বিভাগের ওপর ন্যস্ত থাকে তাকে শাসন বিভাগ বলে। আইন বিভাগ কর্তৃক আইনকে বাস্তবে প্রয়োগ করাই শাসন বিভাগের কাজ। ব্যাপক অর্থে শাসন বিভাগ বলতে রাষ্ট্রের প্রধান পরিচালক থেকে শুরু করে প্রশাসনিক কাজে নিয়োজিত সাধারণ কর্মচারী পর্যন্ত সকলকে বোঝায়। কিন্তু সঙ্কীর্ণ অর্থে শাসন বিভাগ বলতে রাষ্ট্রের প্রধান কর্মকর্তার এবং তার মন্ত্রিপরিষদকে বোঝায়।
গঠন ও কার্যাবলীর ভিত্তিতে শাসন বিভাগ দু’ভাগে বিভক্ত যথা :
(১) রাজনৈতিক শাসক (চড়ষরঃরপধষ ঊীবপঁঃরাব)
(২) অ-রাজনৈতিক শাসক (ঘড়হ-চড়ষরঃরপধষ ঊীবপঁঃরাব)
শাসন বিভাগের রাজনৈতিক অংশ নির্দিষ্ট সময়ের জন্য জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত হন। তারা তাদের সম্পাদিত কার্যাবলির জন্য জনগণের নিকট দায়ী থাকেন। প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনকারী স্থায়ী, বেতনভুক্ত কর্মচারীরা হল শাসন বিভাগের অ-রাজনৈতিক অংশ।
সুতরাং বলা যায়, সরকারের শাসন সংক্রান্ত কাজ পরিচালনাকারী বিভাগই শাসন বিভাগ।
(গ) উপরের উদ্দীপকে সরকারের আইন বিভাগের কথা বলা হয়েছে। আইন বিভাগ সরকারের আইন প্রণয়ন, পরিবর্তন ও সংশোধন করে থাকে। আইন বিভাগের অনুমোদন ছাড়া সরকারের আর্থিক কাজ সম্পন্ন হতে পারে না। আইন বিভাগ শাসন বিভাগকে সংগঠন করে, সংসদীয় গণতন্ত্রে মন্ত্রিসভা গঠন করে এবং মন্ত্রিসভাকে পদচ্যুতও করে থাকে।
নিম্নে আইন সভার গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি কাজের বর্ণনা দেয়া হলোÑ
ক্স আইন প্রণয়ন : আইন বিভাগের প্রধান কাজ হচ্ছে আইন প্রণয়ন করা। এছাড়া আইন পরিবর্তন ও সংশোধন করে থাকে।
ক্স সংবিধান প্রণয়ন ও সংশোধন : আইনসভা সংবিধান রচনা ও প্রয়োজনবোধে তা সংশোধন করে থাকে। যেমনÑ বাংলাদেশে ১৯৭২ সালে গণপরিষদ সংবিধান রচনা করেছে। আবার এ পর্যন্ত ১৫ বার বাংলাদেশ সংবিধান সংশোধনের কাজও করেছে আইন বিভাগ। পৃথিবীর অন্যান্য দেশেও আইনসভা এরূপ কাজ করে থাকে।
ক্স সংবিধানের ব্যাখ্যা : পৃথিবীতে অনেক দেশেই আইন সভা সংবিধানের ব্যাখ্যা প্রদান করা থাকে। যেমনÑ সুইজারল্যান্ড।
ক্স জাতীয় অর্থ নিয়ন্ত্রণ ও তদারক : গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে আইনসভা জাতীয় অর্থ তহবিলের অভিভাবক ও রক্ষক। আইনসভার সম্মতি ব্যতীত কোন কর ধার্য বা ব্যয় বরাদ্দ করা হয় না। সরকারের বার্ষিক বাজেট আইন সভাতেই উত্থাপিত হয়।
ক্স শাসন বিভাগের ওপর নিয়ন্ত্রণ : সংসদীয় সরকার পদ্ধতিতে শাসন বিভাগ বা মন্ত্রিসভা তাদের কাজের জন্য যৌথভাবে আইনসভার নিকট দায়ী থাকে। আইনসভা সাধারণত প্রশ্ন জিজ্ঞাসা, বিতর্ক ও আলোচনা, নিন্দা প্রস্তাব আনয়ন, মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপন এবং অনাস্থা প্রস্তাব পাস করে শাসন বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।
ক্স আলোচনা ও বিতর্ক : আইন প্রণয়নে রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণ এবং সরকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নের কৌশল নির্ণয় প্রসঙ্গে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের আইনসভাসমূহে আলোচনা ও বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়।
সুতরাং বলা যায়, আইনসভা সরকারের খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ। উল্লিখিত কাজ ছাড়াও আইনসভা আরো অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে থাকে।

(ঘ) উদ্দীপকে উল্লিখিত বিভাগ অর্থাৎ আইন বিভাগ অপেক্ষা শাসন সংক্রান্ত কাজ নিয়ন্ত্রণকারী বিভাগ বা শাসন বিভাগ বর্তমানে অধিক ক্ষমতার অধিকারী হচ্ছে। অর্থাৎ শাসন বিভাগের ক্ষমতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বর্তমান সময়ে আইনসভার ক্ষমতা ও প্রভাব অনেক বৃদ্ধি পাচ্ছে। যেসব কারণে শাসন বিভাগের ক্ষমতা ও প্রভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে সেগুলো নিম্নরূপ :
 রাষ্ট্রের কাজ বৃদ্ধি : বর্তমানে রাষ্ট্রের কাজ বৃদ্ধি পেয়েছে। রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রত্যক্ষ নেতৃত্ব দান করে শাসন বিভাগ। কাজেই রাষ্ট্রের কাজ বেড়ে যাওয়ার অর্থ হচ্ছে শাসন বিভাগের ক্ষমতা বৃদ্ধি পাওয়া।
জনহিতকর রাষ্ট্রের ধারণা : বর্তমান রাষ্ট্র জনহিতকর বা কল্যাণমুখী রাষ্ট্র। জনগণের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা প্রভৃতি সবকিছুই রাষ্ট্রকে দেখতে হয় বিধায় শাসন বিভাগের কাজ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
 দলীয় শৃঙ্খলার উদ্ভব : দলীয় শৃঙ্খলার অজুহাতে সরকার প্রধান খুব সহজেই দলীয় সংসদগণকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। ফলে সরকারের শাসন বিভাগের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
 যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক সঙ্কট : যুদ্ধ ও আঞ্চলিক সংঘাত ও আন্তর্জাতিক সঙ্কট শাসন বিভাগের ক্ষমতা বৃদ্ধি করেছে।
 হস্তান্তরিত আইন : শাসন বিভাগ শুধু শাসনই করে না বরং আইন বিভাগ স্বেচ্ছায় বা বাধ্য হয়ে আইন প্রণয়ন সংক্রান্ত অনেক ক্ষমতাই এখন শাসন বিভাগের হাতে ন্যস্ত করতে বাধ্য হয়েছে। এই হস্তান্তরিত আইনের কারণে শাসন বিভাগের ক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
 আইন প্রণয়নে জটিলতা ও জটিল বিষয়ে আইন প্রণয়ন : আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ ও জটিল হওয়ায় এবং জটিল কিছু কিছু বিষয়ে আইন প্রণয়নে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের শরণাপন্ন হতে হয়। আইনসভার সদস্যরা অনেক সময় বিশেষ জ্ঞানের অভাবে এসব আইন শাসন বিভাগের বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের ওপর অর্পণ করে, ফলে শাসন বিভাগের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
এছাড়াও সুযোগ-সুবিধা বণ্টন। জরুরি অবস্থার মোকাবেলা প্রভৃতি কারণে বর্তমানে শাসন বিভাগের ক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুতরাং বলা যায়, বর্তমান সময়ে বিভিন্ন কারণেই শাসন বিভাগের ক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।