মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০১৪, ১৭ অগ্রহায়ন ১৪২১
অপুষ্টির শিকার বেঁটে শিশু বেশি বান্দরবানে, কম ঢাকায়
অপুষ্টি ম্যাপ প্রকাশ
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ পুষ্টিহীনতার কারণে বেঁটে শিশুর হার সারাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বান্দরবান জেলায়। এ হার ৪৭ দশমিক ৭ শতাংশ। অন্যদিকে ঢাকা বিভাগে বেঁটের হার কম। এ হার ৩৪ দশমিক ২ শতাংশ। পাশাপাশি কম ওজনের শিশুর ক্ষেত্রে খারাপ অবস্থায় রয়েছে সিলেটের সুনামগঞ্জ জেলা। এ হার ৪০ দশমিক ৯ শতাংশ। ভাল অবস্থানে রয়েছে ঢাকা জেলা। এ হার ২২ দশমিক ৮ শতাংশ। চাইল্ড এ্যান্ড মাদার নিউট্রিশন সার্ভের (সিএমএনএস) ফলাফলের ভিত্তিতে অপুষ্টি সংক্রান্ত ম্যাপে এ চিত্র উঠে এসেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস), ওয়ার্ল্ডফুড প্রোগ্রাম এবং ইফাদ যৌথভাবে এ ম্যাপ প্রকাশ করেছে। রবিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এ ম্যাপ প্রকাশ করা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব সুরাইয়া বেগম। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক গোলাম মোস্তফা কামাল এতে সভাপতিত্ব করেন।
ম্যাপ অনুযায়ী দেখা যায়, বেঁটে শিশুর ক্ষেত্রে বরিশাল বিভাগের সর্বোচ্চ ভোলা জেলায় ৪২ দশমিক নয় শতাংশ এবং সর্ব নিম্ন ঝালকাঠি জেলায় ৩৭ শতাংশ। চট্টগ্রাম বিভাগের বান্দরবান জেলায় সর্বোচ্চ ৪৭ দশমিক সাত শতাংশ (জাতীয়ভাবেও সর্বোচ্চ) এবং সর্বনিম্ন চাঁদপুর জেলায় ৪০ দশমিক এক শতাংশ। ঢাকা বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ কিশোরগঞ্জ জেলায় ৪৪ দশমিক তিন শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ৩৪ দশমিক দুই শতাংশ (জাতীয় পর্যায়েও সর্বনিম্ন)। খুলনা বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ কুষ্টিয়া জেলায় ৪১ দশমিক সাত শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ৩৬ দশমিক সাত শতাংশ। রাজশাহী বিভাগের মধ্যে সর্বোচ্চ সিরাজগঞ্জ জেলায় ৪৫ দশমিক এক শতাংশ এবং সর্বনিম্ন ৩৬ দশমিক নয় শতাংশ। রংপুর বিভাগে সর্বোচ্চ নীলফামারি জেলায় ৪৩ দশমিক তিন শতাংশ এবং সর্বনিম্ন পঞ্চগড় জেলায় ৪০ দশমিক ছয় শতাংশ। সিলেট বিভাগে সর্বোচ্চ সুনামগঞ্জ জেলায় ৪৬ দশমিক এক শতাংশ এবং সর্বনিম্ন মৌলভীবাজারে ৪৩ দশমিক আট শতাংশ।
কম ওজনের শিশুর ক্ষেত্রে দেখা গেছে, বরিশাল বিভাগে সবচেয়ে বেশি কম ওজনের শিশু রয়েছে ভোলা জেলায়। এ হার ৩৮ দশমিক এক শতাংশ। সবচেয়ে কম রয়েছে ঝালকাঠি জেলা, এ হার ২৮ দশমিক আট শতাংশ। চট্টগ্রাম বিভাগে সবচেয়ে বেশি লক্ষ্মীপুর জেলায় ৩৯ দশমিক সাত শতাংশ এবং সবচেয়ে কম রাঙ্গামাটি জেলায় ৩২ দশমিক আট শতাংশ। ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি নেত্রকোনা জেলায় ৩৯ দশমিক এক শতাংশ আর সবচেয়ে কম ২২ দশমিক আট শতাংশ (জাতীয়ভাবেও সবচেয়ে কম)। খুলনা বিভাগে সবচেয়ে বেশি চুয়াডাঙ্গা জেলায় ৩৪ দশমিক দুই শতাংশ এবং খুলনা জেলায় সবচেয়ে কম ২৯ দশমিক এক শতাংশ।
রাজশাহী বিভাগের সবচেয়ে বেশি সিরাজগঞ্জ জেলায় ৩৬ দশমিক সাত শতাংশ এবং সবচেয়ে কম জয়পুরহাট জেলায় ৩০ দশমিক এক শতাংশ। রংপুর বিভাগে সবচেয়ে বেশি কুড়িগ্রাম জেলায় ৩৮ দশমিক সাত শতাংশ এবং সবচেয়ে কম দিনাজপুর জেলায় ৩৩ শতাংশ। সিলেট বিভাগে সুনামগঞ্জে সবচেয়ে বেশি ৪০ দশমিক নয় শতাংশ (জাতীয়ভাবে সর্বোচ্চ) আর সবচেয়ে কম মৌলভীবাজার জেলায় ৩৬ দশমিক সাত শতাংশ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এম এ মান্নান বলেন, এই সব তথ্য কোন সমস্যার সমাধান নয়। তবে সমাধানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যে সব এলাকায় পুষ্টির অভাব পরিলক্ষিত হয়েছে সেসব এলাকায় বরাদ্দ বাড়ানোর ব্যবস্থা করা হবে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর মাধ্যমে পুষ্টি সমস্যা সমাধান করা যাবে। তিনি জানান, ২ দশক আগে দেশে অপুষ্টির হার ছিল ৭০ শতাংশ। কিন্তু এখন সেটি ৪০ শতাংশে নেমে এসেছে। তারপরও এটি সন্তোষজনক নয়। তিনি আরও বলেন, এমডিজির অনেকগুলোর লক্ষ্যই যখন পূরণের পথে তখন অপুষ্টি ও কম ওজনের শিশুর এ চিত্র কাক্সিক্ষত নয়। তার পরও বলব এ চিত্র ঠিক হলে বিষয়টির প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সুরাইয়া বেগম বলেন, আগে রংপুর অঞ্চল পিছিয়ে থাকলেও এখন সিলেট বিভাগ পুষ্টির ক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে রয়েছে। এদিকে সরকারকে নজর দিতে হবে। এমডিজির লক্ষ্য পূরণে এই ম্যাপ অনুযায়ী সম্পদের সুষম বন্টন করতে হবে। তিনি বলেন, বাস্তবতার ভিত্তিতে এ ম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। এ বিষয়ে সরকারকে বিশেষ নজর দিতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে গোলাম মোস্তফা কামাল বলেন, ২০২৫ থেকে ৩০ সালের মধ্যে দেশের দারিদ্র্য সর্বনিম্ন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ হার ৫ থেকে ৬ শতাংশে নিয়ে যেতে চায় সরকার।