মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০১৪, ১৭ অগ্রহায়ন ১৪২১
বিশ্ব এইডস দিবস আজ ॥ দেশে এইডস রোগীর সংখ্যা ১২৯৯
০ বিশ্বে এইচআইভি আক্রান্ত মানুষ সাড়ে ৩ কোটি
০ বিশ্বের ৫৪ শতাংশ মানুষ জানেই না তারা এ রোগে আক্রান্ত
নিখিল মানখিন ॥ দেশে এইচআইভি সংক্রমণের হার এখন কম হলেও আশঙ্কামুক্ত নয়। কয়েক হাজার মানুষ নিজের অজান্তে এইচআইভি জীবাণু বহন করছে এবং অন্যদের শরীরে ছড়াচ্ছে। এইচআইভি আক্রান্ত সব মানুষ এ্যান্টিরেট্রোভাইরাল ওষুধ পাচ্ছে না। দেশে বর্তমানে এইডস রোগীর সংখ্যা ১২৯৯ এবং প্রায় সাড়ে ৯ হাজার মানুষ এইচআইভি আক্রান্ত। তবে বেসরকারী হিসেবে এইচআইভি পজিটিভ লোক ও এইডস রোগীর সংখ্যা আরও বেশি হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, এইচআইভি সংক্রমণের এই নিম্নমাত্রা ধরে রাখা এখন একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশসমূহের রয়েছে নানা প্রতিবন্ধকতা ও সীমাবদ্ধতা। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সম্পদের সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি আছে সামাজিক কুসংস্কার। দেশে দ্রুতহারে এইচআইভি সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার সমস্ত কারণ ও ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ বিদ্যমান রয়েছে। সংক্রমণের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজনীয় সেবাগুলো নিশ্চিত করা না গেলে সংক্রমণের এই হার ধরে রাখা সম্ভব নয়। গোপনে তা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। এমন অবস্থা সামনে রেখে আজ সোমবার পালিত হচ্ছে বিশ্ব এইডস দিবস। এইডস প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।
জাতিসংঘের এইচআইভি ও এইডসবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইডসের সর্বশেষ ‘ইউএনএইডস গ্যাপ রিপোর্ট’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এইচআইভি আক্রান্তদের ৫৪ শতাংশ অর্থাৎ বিশ্বের ১ কোটি ৯০ লাখ মানুষ জানেই না যে তারা এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত। বিশ্বে এইচআইভি সংক্রমণ নিয়ে বসবাস করছে সাড়ে ৩ কোটি মানুষ। বাংলাদেশে এ সংখ্যা সাড়ে ৯ হাজার। বাংলাদেশে শুধু ২০১৩ সালে সংক্রমণের শিকার হয়েছে ১ হাজার ৩শ’ জন। এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ১৫ বছর বছরের কম বয়সী ২শ’ শিশু এইচআইভি সংক্রমণের শিকার আর ১৫ বছরের বেশি বয়সী ৩ হাজার ৩শ’ নারী এর শিকার। এ পর্যন্ত এইডসের কারণে বাংলাদেশে কমপক্ষে ২শ’ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ৪২২ পৃষ্ঠার এ প্রতিবেদনে ব্যবধান (গ্যাপ) কমানোর ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইউএনএইডসসহ বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার উদ্যোগের ফলে ২০৩০ সালের মধ্যে ১ কোটি নতুন সংক্রমণ এবং ১ কোটি ১২ লাখ এইডসের কারণে মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, বর্তমানে দেশে ১ হাজার ২৯৯ জন এইডস রোগী শনাক্ত হয়েছে। এনজিও পরিচালিত ৬টি কেন্দ্র থেকে সরকারী অর্থায়নে ক্রয় করা ‘এ্যান্টিরিট্রোভাইরাল ড্রাগ’ এইডস রোগীদের মাঝে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করা হয়। এছাড়া ৮টি সরকারী হাসপাতালে সিডি-৪ সেন্টারের মাধ্যমে এইডস রোগীদের শারীরিক অবস্থা নির্ণয় করাসহ এ সব প্রতিষ্ঠানে রোগীদের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও কাউন্সিলিং সেবা প্রদান করা হচ্ছে। ঢাকার মহাখালীতে অবস্থিত সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ১১ শয্যা বিশিষ্ট পৃথক ওয়ার্ডের মাধ্যমে রোগীদের চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। শিগগিরই সারাদেশে ২০টি কেন্দ্রের মাধ্যমে সরকারী অর্থায়নে এইডস রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদানের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। যেহেতু দেশে এইডস রোগীর সংখ্যা তুলনামূলক কম। তাই বর্তমান সরকারের এইডস রোগীদের চিকিৎসার জন্য পৃথক হাসপাতাল তৈরির পরিকল্পনা এ মুহূর্তে নেই। তবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়সহ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, সিলেট এমএজি ওসমানি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এইডস রোগীদের চিকিৎসা প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে।
বাংলাদেশে শুধু ২০১৩ সালেই এইডস আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৮২ নারী-পুরুষ। ২০১০ সালে যা ছিল ৩৭ জন। ২০১৩ সালে ২৭০ জনের শরীরে এইচআইভি সংক্রমণ ঘটে। যার মধ্যে ৯৫ জনের শরীরে এটি এইডস আকারে রূপান্তরিত হয় এবং ওই সংখ্যক মানুষ মারা যায়।