মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০১৪, ১৭ অগ্রহায়ন ১৪২১
ছিটমহল বিনিময় বিল লোকসভা কমিটিতে অনুমোদিত
নিজস্ব সংবাদদাতা, লালমনিরহাট ॥ ভারতীয় সংসদীয় কমিটিতে ছিটমহল বিনিময় বিল অনুমোদন হয়েছে। ১৬২টি ছিটমহল বিনিময়ে আর কোন বাধা রইল না। এখন ছিটমহল বিনিময়ের ঘোষণা দিনক্ষণের অপক্ষোয় রয়েছে দুই দেশের ছিটমহলবাসী।
বাংলাদেশ ও ভারতের অভ্যন্তরে থাকা ১৬২টি ছিটমহল রয়েছে। নিজ দেশে পরবাসী জীবনের অবসান ঘটতে যাচ্ছে ১৬ ডিসেম্বর। ১৬২টি ছিটমহলের মানুষের ৬৭টি বছরের পরাধীনতার গ্লানি মুছে যাবে। ছিটমহল বিনিময়ে দুই দেশের সীমান্তে অবৈধ বাণিজ্য বন্ধ করা সহজ হবে। সীমান্তের অপরাধ অনেক গুণে হ্রাস পাবে। নারীরা পাবে প্রকৃত সম্মান।
এই ৬৭ বছর ধরে ১৬২টি ছিটমহলে কোন বিচার ব্যবস্থা ছিল না। হয়নি কোন উন্নয়ন। শিশু কিশোর, কিশোরীরা শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। ছিটমহলগুলোর বেশিরভাগ মানুষ জীবন জীবিকা হিসেবে বেছে নিয়েছে ইটভাঁটি ও অন্যের বাড়িতে বছরভিত্তিক দাসত্ব। পরিবারের সবাই মিলে হয় অন্যের বাড়িতে, কৃষি জমিতে অথবা বাংলাদেশে ও ভারতের ইটভাঁটিতে বছরের পর বছর ধরে কাজ করে আসছে।
১৬২ ছিটমহলের মধ্যে ১১১টি ভারতের ছিটমহল বাংলাদেশের ভেতরে। ৫১টি বাংলাদেশের ছিটমহল ভারতের ভেতরে। লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, পঞ্চগড় ও সিলেট জেলায় বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের ১১১টি ছিটমহল রয়েছে। ১৭ হাজার ১৫৮ একর জায়গা নিয়ে এসব ছিটমহল। বর্তমানে এসব ছিটমহলে ৩৭ হাজার ৩৬৯ জন মানুষের বসবাস রয়েছে। অন্যদিকে ভারতের ভূখ-ের ভেতরে বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহল রয়েছে। এই ছিটমহলগুলোর সবক’টি পশ্চিমবঙ্গেও কোচবিহার জেলার মধ্যে পড়েছে। ভৌগোলিক অবস্থানে ছিটমহলগুলোর আয়তন ৭ হাজার ১১০ একর জায়গাজুড়ে। এখানে এই ছিটমহলে বসবাস করছে ১৪ হাজার ২১৫ জন মানুষ। আন্তর্জাতিক ভূমি আইনের বেড়াজালে আটকে গিয়ে ৬৭টি বছর ধরে দুই দেশের ভেতরে থাকা ছিটমহলগুলোর মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে।
ভারত বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক দীপ্তমান সেনগুপ্ত রবিবার দুপুরে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ি দাসিয়ার ছড়া ছিটমহলে এক বৈঠকে জানান, ভারতের সংসদে শীতকালীন বৈঠকে স্থলসীমান্ত চুক্তি সংসদীয় কমিটিতে অনুমোদন হয়েছে। এখন আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি ভারতের সংসদে বিলটি উত্থাপন হলে তা বিনা বাধায় পাস হবে। ছিটমহলবাসী এখন এই দিনটির অপেক্ষায় রয়েছে। তিনি আরও জানান, পুনর্বাসন সংক্রান্ত যেসব প্রশ্ন বিভিন্ন মহল থেকে তোলা হচ্ছে, তা নিয়ে চিন্তিত নয় সমন্বয় কমিটি। পুনর্বাসনের জন্য বাসস্থানের জায়গা, এক থেকে দেড় বছরের খাদ্য ব্যবস্থা, চিকিৎসা, পানীয় জলসহ অন্য বিষয়গুলোর ব্যবস্থা যদি সরকার না করে, সেটা সমন্বয় কমিটি করবে। তারা শুধু রাষ্ট্রীয়ভাবে আপাতত স্বীকৃতিটুকু যত তাড়াতাড়ি পারে দিয়ে দিক।
ভারতের সংসদে এই প্রথম কোন বিল সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে পাস হবে। বাংলাদেশের সংসদে ১৯৭৪ সালে ছিটমহল চুক্তির সংক্রান্ত বিল পাস করা হয়। এবারে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ছিটমহল বিনিময় বিলটি সংসদে উত্থাপন বিষয়ে নমনীয় আচরণ করেছেন। তিনিও ছিটমহল বিনিময় বিলের পক্ষে মত দিয়েছেন। এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্ভবত ডিসেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে বাংলাদেশে সফরে আসছেন। ধারণা করা হচ্ছে তাঁর সফরের আগেই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বাংলাদেশে সফরে আসবেন।