মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
সোমবার, ৪ আগষ্ট ২০১৪, ২০ শ্রাবণ ১৪২১
খাদ্য নিরাপত্তা ইস্যুতে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় স্পষ্ট অবস্থান নিতে হবে
অধিকারভিত্তিক ১২ সংগঠনের সংবাদ সম্মেলন
স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নিতে বাণিজ্যমন্ত্রীর প্রতি অধিকারভিত্তিক ১২ সংগঠন আহ্বান জানিয়েছে। রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনগুলো এই আহ্বান জানায়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে বাণিজ্য সহায়তা চুক্তি বাস্তবায়নের আগে কৃষিতে মূল্য সহায়তা, সরকারী উদ্যোগে খাদ্য মজুদ এবং ভর্তুকি মূল্যে সুষ্ঠু বিতরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পক্ষে ভারত উত্থাপিত ইস্যুতে ইতিবাচক অবস্থান নেয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
লিখিত বক্তব্যে বরকত উল্লাহ মারুফ উল্লেখ করেন, বাণিজ্য সহায়তা চুক্তি বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে ডিউটি ফ্রি কোটা ফ্রি বাজার সুবিধার কোন অস্তিত্ব থাকবে না। অথচ বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোকে বার বার বাণিজ্য সহায়তা চুক্তির বদলে এই ডিউটি ফ্রি কোটা ফ্রি নামের সোনার হরিণের লোভ দেখানো হচ্ছে। তিনি বলেন, এই বাণিজ্য সহায়তা চুক্তি (টিএফএ) এ সব দেশের মানুষের কোন উপকারেই আসবে না, এর সুবিধা ভোগ করবে বহুজাতিক কোম্পানি ও ধনী দেশগুলো। এর মাধ্যমে আসলে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা ধনী দেশ এবং তাদের বহুজাতিক কোম্পানির স্বার্থ চরিতার্থ করার চেষ্টা করছে। সুরক্ষা ও অগ্রগতি ফাউন্ডেশনের জীবনানন্দ জয়ন্ত বলেন, ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশে যে দুর্ভিক্ষ হয়েছিল সেটা ছিল একান্ত একটি আন্তর্জাতিক খাদ্য রাজনীতির পরিণাম। যার ফলে মারা গিয়েছিল লাখো মানুষ। উন্নত বিশ্বের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে আমাদের সজাগ থাকতে হবে। উন্নত দেশগুলো বার বার তাদের প্রতিশ্রুতি ভাঙছে, তাদের আর বিশ্বাস করা ঠিক হবে না। আমরা এমডিজি পূরণে যথেষ্ট অগ্রগতি সাধন করেছি, কিন্তু এই লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ধনী দেশগুলো তাদের আন্তর্জাতিক সহায়তা তহবিলের প্রতিশ্রুতি পালন করেনি। আর তাই বাণিজ্য সহায়তা চুক্তির বিনিময়ে তারা যে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে সেগুলোও যে তারা রাখবে না সেটা নিশ্চিত।
উন্নয়ন ধারা ট্রাস্টের আমিনুর রসূল বাবুল বলেন, ডিউটি ফ্রি কোটা ফ্রি নামের বিশেষ সুবিধা লাভের লোভে বাংলাদেশ বালিতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নবম সম্মেলনে ভারতসহ উন্নয়নশীল দেশগুলো উত্থাপিত দরিদ্র মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা সম্পর্কিত আলোচনায় তেমন কোনও ভূমিকাই রাখেনি। ইক্যুইটিবিডি’র রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, নদী ভাঙ্গন, জলবায়ু পরিবর্তন, নগরায়ন, অপরিকল্পিত রাস্তাঘাট ও অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে বাংলাদেশ প্রতিবছর ৮৮ হাজার হেক্টর কৃষি জমি হারাচ্ছে। অন্যদিকে, জনসংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী ২০ বছর পরে বর্ধিত জনসংখ্যার জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য আমরা কিভাবে যোগান দেব সেটা ভেবে আমাদের উদ্বিগ্ন হতে হয়। আমাদের হাতে পর্যাপ্ত টাকা থাকলেও যদি অন্য দেশ আমাদের কাছে খাদ্য বিক্রি না করে তাহলে আমাদের কী হবে।
সংবাদ সম্মেলনটি যৌথভাবে আয়োজন করে অনলাইন নলেজ সোসাইটি, ইক্যুইটিবিডি, উন্নয়ন ধারা ট্রাস্ট, কোস্টাল ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপ, জাতীয় শ্রমিক জোট, বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশন, বাংলাদেশ কৃষি ফার্ম শ্রমিক ফেডারেশন, বাংলাদেশ ভূমিহীন সমিতি, সমাজ, সুরক্ষা ও অগ্রগতি ফাউন্ডেশন এবং হিউম্যানিটি ওয়াচ।
সংবাদ সম্মেলন থেকে বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে আমরণ অনশনরত গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করা হয় এবং আশা প্রকাশ করা হয় যে, অনতিবিলম্বে সরকার তাদের বেতন-ভাতা বুঝিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করবে।
সমাজের শবনম হাফিজ, লেবার রিসোর্স সেন্টারের শিবলী আনোয়ার এবং ইক্যুইটিবিডি’র মোস্তফা কামাল আকন্দ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন।