মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৩, ৬ কার্তিক ১৪২০
জলবায়ু উদ্বাস্তুদের দায়িত্ব নিতে হবে ধনী দেশগুলোকেই
ক্ষতিপূরণ আদায়ে যাতে উন্নত বিশ্ব ঠকাতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে : সেমিনারে ড. হাছান
স্টাফ রিপোর্টার ॥ জলবায়ুবিষয়ক সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, বিশ্বের ধনী দেশগুলোকে জলবায়ুতাড়িত উদ্বাস্তুদের দায়িত্ব নিতে বাধ্য করতে হবে। তারা বলেন, উন্নত বিশ্বকে জানাতে হবে বাংলাদেশ নিজেদের সীমিত সাধ্যের মধ্যেও নিরাপত্তা জাল কর্মসূচীর পেছনে বছরে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে। যাতে সামাজিক নিরাপত্তায় ভারতের চেয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে আছে। উন্নত দেশগুলো থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ে যেন আমাদের ঠকাতে না পারে সেইদিকে খেয়াল রাখার পরামর্শ দেন বক্তারা।
রবিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে জলবায়ুতাড়িত উদ্বাস্তু : জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আমাদের করণীয় শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। ছয়টি অধিকারভিত্তিক সংগঠন (বাপা, বিপনেটসিসিবিডি, সিসিডিএফ, সিএসআরএল, ক্লিন ও ইক্যুইটিবিডি) আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বন ও পরিবেশমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। সঞ্চালন করেন ইক্যুইটিবিডির রেজাউল করিম চৌধুরী। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিজিসির ড. আহসানউদ্দীন, বিসিএএসর গোলাম রব্বানী, বাংলাদেশ ক্লাইমেন্ট চেইঞ্জ জার্নালিস্ট ফোরামের প্রেসিডেন্ট কাওসার রহমান, বিইজিইএফের কামরুল ইসলাম চৌধুরী, অক্সফাম-সিএসআরএল এর জাকিয়া হক, বিসিসিজিএফর মোতাহার হোসেন, এনসিসিবির মিজানুর রহমান, বিপনেটসিসিবিডির প্রগতি চাকমা এবং কৃষক ফেডারেশনের বদরুল আলম। হিউম্যানিটি ওয়াচের হাসান মেহেদী সেমিনারে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
বন ও পরিবেশমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, সামাজিক নিরাপত্তায় ভারতের চেয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে। তিনি বলেন, ভারতের গ্রাম মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী দীনা নাথ একটি নিবন্ধে লিখেছেন ভারতের চেয়ে বাংলাদেশ সামাজিক নিরাপত্তায় এগিয়ে। তিনি জানান, বিশ্বব্যাংক বলেছে, পাকিস্তান ও মালদ্বীপের চেয়ে পরিবেশগত দিক দিয়ে বাংলাদেশ অনেক বেশি সোচ্চার । তিনি আরও বলেন, , ২০১০ সালে কানকুসে চুক্তিতে ১৪ (এফ) জলবায়ুতাড়িত বাস্তুচ্যুতি, অভিবাসন ও স্থানান্তর নিয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পরস্পরের মধ্যে আলোচনার কথা বলা হয়। কিন্তু তা আমরা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারিনি।
বনমন্ত্রী বলেন, ইন্স্যুরেন্স প্রদানের মাধ্যমে যাতে উন্নত বিশ্ব আমাদের ঠকাতে না পারে সেইদিকে খেয়াল রাখতে হবে। তিনি বলেন, কানকুন চুক্তিতে জলবায়ু উদ্বাস্তু ইস্যুটির আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়া হলেও ডারবান চুক্তিতে এসে এটি পিছিয়ে পড়ে, কারণ সেখানে নতুন চুক্তিটি ২০১৫ সাল পর্যন্ত পিছিয়ে দেয়া হয় এবং ২০২০ সালে তার বাস্তবায়ন শুরু হওয়ার কথা বলা হয়।
মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ঘোষণা করেন, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন কর্মপরিকল্পনা পর্যালোচনা করা হবে এবং জলবায়ু উদ্বাস্তু বিষয়টিতে গবেষণার জন্য বরাদ্দ দেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, বিশ্বের ধনী দেশগুলো জলবায়ুতাড়িত উদ্বাস্তুদের দায়িত্ব নিতে হবে এবং জাতিসংঘের উদ্বাস্তুর সংজ্ঞা পুনর্বিবেচনা করে তাতে জলবায়ু উদ্বাস্তু অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
কামরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, আসছে নবেম্বরে ওয়ারশ জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের উচিত হবে জলবায়ু উদ্বাস্তু বিষয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য কর্মসূচীর দাবি জানানো, যাতে ২০১৫ সালের প্যারিস চুক্তিতে এ বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হয়।
ড. আহসানউদ্দীন নিউজিল্যান্ডের একটি কেস তুলে ধরেন, যেখানে দেখা যায় কিভাবে একটি উন্নত দেশে প্যাসিফিক অঞ্চলের ছোট দ্বীপ রাষ্ট্রের জলবায়ু উদ্বাস্তুরা উন্নত দেশের কাছে তাদের অধিকার দাবি করে। তিনি বলেন, উন্নত বিশ্বকে জানাতে হবে বাংলাদেশ তার সীমিত সাধ্যের মধ্যেও নিরাপত্তা জাল কর্মসূচীর পেছনে বছরে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে।
বিসিএএসের গোলাম রব্বানী বলেন, দেশের অভ্যন্তরে জলবায়ু উদ্বাস্তু বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ছাড়া আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনায় গেলে আমাদের দাবি অনেক দুর্বল হিসেবে গণ্য হবে।
অক্সফামের জাকিয়া হক বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি সুশীল সমাজকেও সহায়তা করছে যাতে তারা এ বিষয়ে শক্তিশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে হাজির থাকে।