মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৯ ভাদ্র ১৪২০
রকি হত্যাকাণ্ডে আটক গিয়াস ও মনিরের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ
স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানীর পল্লবীতে ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা শাহ আলী রকিকে (৩০) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত গিয়াস ও মনিরের রিমান্ড চেয়েছে পুলিশ। সোমবার দুপুরে তাদের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে হাজির করা হয়। পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল লতিফ জনকণ্ঠকে জানান, রকি হত্যাকা-ের ঘটনায় পুলিশ ও গিয়াস কিলিং মিশনে সরাসরি জড়িত ছিল বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে স্বীকার করেছে। আর এদের ইন্ধনদাতা মনির হোসেন। পুলিশ তাদের কাছ থেকে রক্তমাখা চাপাতিও উদ্ধার করেছে। সন্ধ্যায় এ রিপোর্ট লেখার সময় ওসি জানান, এখনও পর্যন্ত তাদের রিমান্ড মঞ্জুরের বিষয়টি তারা হাতে পাননি।
উল্লেখ্য, শনিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে পল্লবীর ৭ নম্বর সেকশনের ৫ নম্বর মিল্কভিটা রোডের ৮৪৫ নম্বর নিজ বাসার কাছেই হোটেলের সামনে শাহ আলী রকি (২৫) কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় তিনি কিছু বুঝে ওঠার আগেই ৫-৬ সন্ত্রাসী তাঁকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। তাঁর চিৎকারে লোকজন এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা চারটি চাপাতি ঘটনাস্থলে ফেলেই পালিয়ে যায়। এরপর ঢামেক হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু ঘটে। ঘটনার দিন গভীর রাতে নিহতের বাবা স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা মতিয়ার রহমান খোকন বাদী হয়ে গ্রেফতার দু’জনসহ মোট সাত সন্দেহভাজনের নাম উল্লেখ্য করে অজ্ঞাত আরও ৫-৬ জনকে আসামি করে পল্লবী থানায় মামলা করেছেন। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা ঝুট ব্যবসার লেনদেন নিয়ে নিজ দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে আওয়ামী লীগ নেতা রকিকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, রাজনীতির পাশাপাশি রকি পল্লবী ও রূপনগরে গার্মেন্টেসে ঝুট ব্যবসা করতেন। এতে গিয়াস উদ্দিনের নেতৃত্বে স্বেচ্ছাসেবক লীগের একটি অংশের সঙ্গে তার বিরোধের সৃষ্টি হয়। ঝুট ব্যবসায় আধিপত্য ধরে রাখতে গিয়ে অপর যুবলীগ নেতা হারুন ওরফে লেবার হারুন, ফিরোজ ও জাহাঙ্গীরের সঙ্গেও রকির বিরোধ দেখা দেয়। এরা বিএনপি একটি অংশের সঙ্গে হাত মেলায়। এরপরই এই ঝুট ব্যবসা নিয়ে রকির সঙ্গে বিরোধ বাধে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ওই অংশটির। এ ব্যাপারে মামলার বাদী নিহত রকির পিতা মতিউর রহমান জানান. হত্যাকা-ের কয়েকদিন আগে একই আসামিরা রকি ও তাঁর শ্বশুর দুলাল হোসেনের ওপর হামলা চালিয়েছিল। এটি স্থানীয়ভাবে মীমাংসাও করা হয়েছিল। কিন্তু ওরা কারও মানেনি। পরে প্রতিশোধ পরায়ন হয়ে আমার ছেলে রকিকে ওরা নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করেছে। তিনি জানান, এত কিছুর পর গিয়াস কিংবা মনিরের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। মতিউর রহমান জানান, রকির শ্বশুর দুলাল হোসেন ৯২ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সহসভাপতি। আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই।
এ ব্যাপারে মিরপুর বিভাগের পুলিশের উপকমিশনার ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে আসামিদের চিহ্নিত করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তাদের গ্রেফতার করলে খুব শীঘ্রই খুনের আসল রহস্য উদঘাটন হবে।