মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৯ ভাদ্র ১৪২০
নির্বাচনে ধর্মের ব্যবহার নিষিদ্ধের দাবি গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার
স্টাফ রিপোর্টার ॥ চলমান ব্যবস্থায় দেশপ্রেমিক মানুষের নির্বাচনে প্রার্থিতা, প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও জয়ী হবার কোন সুযোগ নেই। এই অবস্থায় চরম বৈষম্যমূলক ও অগণতান্ত্রিক নির্বাচনী ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন জরুরী বলে মনে করে গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা। সেই সঙ্গে চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে যুক্তদের নির্বাচনে প্রার্থী হতে না দেয়াসহ নির্বাচনে ধর্মের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধের দাবি জানানো হয়েছে মোর্চার পক্ষ থেকে।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ইস্যুকে সামনে রেখে এই বাম জোটের নেতৃবৃন্দ বলেছেন, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানে কালো টাকা, পেশীশক্তি, সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। সমগ্র নির্বাচনী ব্যবস্থায় বিত্তবান, কালো টাকার মালিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত, সন্ত্রাসী, মাফিয়া ও ক্ষমতাবানদের নিরঙ্কুশ দৌরাত্ম্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে ১৬ দফা প্রস্তাবনাও তুলে ধরা হয় বৃহত্তর এই বাম জোটের পক্ষ থেকে। সোমবার গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ কমরেড নির্মল সেন মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব দাবি দাওয়া উত্থাপন করেন।
গণতান্ত্রিক নির্বাচনী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় করণীয় ॥ নির্বাচন কমিশন হবে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণমুক্ত। প্রকৃত অর্থেই স্বাধীন, স্বতন্ত্র ও ক্ষমতাবান সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। জনবল ও বাজেটের দিক থেকেও নির্বাচন কমিশনের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে। জাতীয় সংসদের অনুমোদন সাপেক্ষে নির্বাচন কমিশনার সাংবিধানিক কমিশন কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত হবেন। জনগণের কাছে তাদের দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতার বিধান সাংবিধানিকভাবে নিশ্চিত করতে হবে। জাতীয় সংসদ তাদেরকে অপসারণ করতে পারবে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সিডিউল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনী প্রক্রিয়াসম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত জাতীয় নিরাপত্তা ব্যতীত বেসামরিক প্রশাসন, সশস্ত্র বাহিনীসহ যাবতীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, স্বরাষ্ট্র, জনপ্রশাসন, অর্থ, তথ্য ও স্থানীয় সরকার বিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ নির্বাচনের সাথে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সহ নির্বাচন কমিশনের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারাই জেলা রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচন সংক্রান্ত যাবতীয় বিরোধ উচ্চ আদালতের কার্যক্রমসহ ৬ মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। এর মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে প্রয়োজনীয় ক্ষমতাসহ পর্যাপ্ত সংখ্যক আদালত গঠন করতে হবে। নির্বাচনে টাকার খেলা বন্ধ করতে এবং ধনী-দরিদ্র সকল প্রার্থীর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারণার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশন গ্রহণ করবে।
প্রার্থী ও সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলকে নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় প্রচার উপকরণ সরবরাহ, প্রচারণামূলক সভা ও গণমাধ্যমে সমান সুযোগ নিশ্চিত করবে। নির্বাচনে প্রার্থীর ব্যয়সীমা হবে সর্বোচ্চ পাঁচ লক্ষ টাকা। আর প্রার্থীদের জামানত কোনভাবেই দুই হাজার টাকার বেশী হওয়া বাঞ্ছনীয় নয়।
কমপক্ষে পাঁচ বছর রাজনৈতিক দলে সক্রিয় না থাকলে অবসরপ্রাপ্ত সামরিক-বেসামরিক আমলা, ব্যবসায়ীসহ কেউই নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না। চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ, কালো টাকার মালিক, ঋণখেলাপি, সরকারী সম্পদ আত্মসাতকারী, অর্থসহ জাতীয় সম্পদ পাচারকারী, অসৎ ব্যবসায়ী, ফৌজদারী অপরাধে দন্ডিত, চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী অপরাধী প্রভৃতি গণবিরোধী ব্যক্তিগণ নির্বাচনে প্রার্থী হবার সুযোগ পাবেন না। সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি তার আপীল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাম মোর্চার সমন্বয়ক বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। উপস্থিত ছিলেন, মোর্চার কেন্দ্রীয় নেতা শুভ্রাংশু চক্রবর্তী, এ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম, মোশাররফ হোসেন নান্নু, শহীদুল ইসলাম সবুজ, হামিদুল হক, মহিনউদ্দীন চৌধুরী লিটন, অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, বহ্নিশিখা জামালী, মানস নন্দি, ফখরুদ্দীন আতিক প্রমুখ।