মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ২১ মে ২০১৩, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২০
বঙ্গবন্ধু মেডিক্যালে ভিআইপি বন্দীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন কারা কর্তৃপক্ষ
মসিউর রহমান ॥ বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দীদের নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে। শুধু প্রিজন্স এনেক্স ভবন ছাড়া সাধারণ কেবিন ও ওয়ার্ডে রাখাই এই নিরাপত্তাহীনতার কারণ। বন্দীদের যথাযথ নিরাপত্তার জন্য কারা কর্তৃপক্ষ দুই দফা চিঠি দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। এখন পর্যন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব) আব্দুল মজিদ কারা কর্তৃপক্ষের চিঠির কথা স্বীকার করে বলেন, হাসপাতালের প্রিজন্স এনেক্সে ভিআইপি রোগী রাখার মতো কোন সিট খালি নেই। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকগণও বন্দী ভিআইপি রোগীদের ছাড়তে চাচ্ছেন না। তবে শীঘ্রই আমরা এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ফরমান আলী কারা কর্তৃপক্ষের এই বক্তব্যে দ্বিমত প্রকাশ করে বলেন, প্রিজন্স এনেক্সে প্রয়োজনীয় সিট খালি নেই এ তথ্যটি ঠিক নয়। বর্তমান ব্যবস্থায় ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দী রোগীদের ওয়ার্ড ও কেবিনগুলোতে এপ্রোন পরে যে কোন ডাক্তার বা বাইরের লোক যখন তখন প্রবেশ করছে। তারা চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট ডাক্তার বা নার্স কিনা তা নিরাপত্তা রক্ষায় নিয়োজিত লোকদের পক্ষে নির্ণয় করা কোনভাবেই সম্ভব হচ্ছে না। এ ব্যাপারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই ব্যবস্থা নিতে হবে। কারা কর্তৃপক্ষ বন্দীদের পরিপূর্ণ নিরাপত্তা রক্ষায় ডিভিশনপ্রাপ্ত বন্দী রোগীদের হাসপাতালের বিশেষ নিরাপত্তাসমৃদ্ধ প্রিজন্স এনেক্সে রেখে চিকিৎসা প্রদান এবং চিকিৎসায় নিয়োজিত ডাক্তার ও নার্সদের ছবি সংবলিত তালিকা প্রদান করার জন্য বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষকে পর পর দুই চিঠি দিয়েছে। গত ২৯ এপ্রিল পাঠানো প্রথম চিঠিতে বলা হয়, শ্রেণীপ্রাপ্ত বন্দীগণ হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড বা কেবিনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে অবস্থান করছেন। ফলে কারা কর্তৃপক্ষকে বন্দীদের নিরাপত্তার স্বার্থে সর্বক্ষণিক কারারক্ষীসহ বিভিন্ন কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দায়িত্বে নিয়োজিত রাখতে হচ্ছে। কারাগারের জনবল সঙ্কটের ফলে এ সমস্ত রোগীদের ক্ষেত্রে যে কোন সময় নিরাপত্তা বিঘিœত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও সুচিকিৎসার স্বার্থে বন্দী রোগীদের জন্য নির্ধারিত স্থান প্রিজন্স এনেক্সে রেখে তাদের চিকিৎসা প্রদান করা হোক। চিঠি প্রদানের পরও বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ কোন প্রকার ব্যবস্থা না নেয়ায় পরবর্তীতে পহেলা এপ্রিল অতীব জরুরী উল্লেখ করে আরও একটি চিঠি পাঠানো হয়।