মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বৃহস্পতিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০১৩, ৪ মাঘ ১৪১৯
মেয়েলী কণ্ঠ ব্যবহার করে বিচারপতি পরিচয়ে প্রতারণা ॥ গ্রেফতার ২
স্টাফ রিপোর্টার ॥ সুপ্রীমকোর্টের বিচারপতি পরিচয়দানকারী দুই ভুয়া বিচারপতিকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এরা হচ্ছে রাকিব হাসান বাদল (২৪) ও মঞ্জুরুল হক রিপন (৩৪)। মঙ্গলবার মধ্যরাতে ডিবির অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মশিউর রহমানের নেতৃত্বে গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য (পশ্চিম) বিভাগের দল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানাধীন পাড়াগাঁও এলাকা থেকে তাদের আটক করে। বুধবার গোয়েন্দা পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানা গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে ডিবির পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মশিউর রহমান জানান, আসামি বাদল মেয়েলী কন্ঠ ব্যবহার করে বাংলা কবিতা এবং হিন্দী গান এবং নির্দিষ্ট কিছু ইংরেজী বাক্য ব্যবহার করে দীর্ঘ দিন ধরে সহজ সরল মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন। তিনি কখনও নিজেকে ঝালকাঠির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত জাহান, কখনও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী, কখনও উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী বলে পরিচয় দিয়ে সাধারণ লোকজনের সঙ্গে ফোনে কথা বলে প্রতারণা করে আসছিলেন। এ ক্ষেত্রে তাঁর প্রধান টার্গেট অবিবাহিত প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, বখাটে যুবক ও কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা। পাশাপাশি বাদল তার ব্যবহৃত ফেসবুক এ্যাকাউন্টে সুন্দরী তরুণীর ছবি ব্যবহার করে ছাত্র, যুবক, মধ্য বয়সীদের আকৃষ্ট করেন এবং বিভিন্ন অজুহাতে সুবিধা গ্রহণ করে থাকেন। মহিলাদের নাম এবং কণ্ঠস্বর ধারণকারী বাদল তার সহযোগীদের সহযোগিতায় নিজেকে কখনও ইউএনডিপির কান্ট্রি ডিরেক্টর মিস কার্নিয়াল পরিচয় এবং স্ট্যাম্প-সিল ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রজেক্ট পাইয়ে দেয়ার নাম করেও একাধিক প্রতারণার ঘটনা ঘটিয়েছেন। কখনও কখনও তিনি নিজেকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উর্ধতন কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে শিক্ষকপ্রার্থীদের কাছ থেকে চাকরি দেয়ার কথা বলে এবং কখনও আসামিকে জামিন করে দেবেন বলে ডাচ্-বাংলা মোবাইল ব্যাংকিং ও বিকাশের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাত করেছেন। এছাড়াও তিনি কখনও নিজেকে বিভিন্ন প্রতিভা অন্বেষণমূলক প্রতিযোগিতার বিচারক পরিচয় দিয়ে অংশগ্রহণকারী প্রতিযোগীদের কাছ থেকে অর্থ আত্মসাত করেন। অসাধু আইনজীবীদের সহায়তায় মামলার আসামিকে মহিলা জজ ও মহিলা বিচারপতির পরিচয়ে জামিন করিয়েও থাকেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে ডিবির পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মশিউর রহমান জানান, গত ৮ জানুয়ারি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুর রহমানের ল্যান্ডফোনে ফোন করে বাদল নিজেকে বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানার পরিচয়ে রমনা থানার একটি মামলার আসামি কামাল উদ্দিন খানকে জামিন দেয়ার জন্য বলেন। তাঁর কথায় ম্যাজিস্ট্রেটের সন্দেহ হলে তিনি বিষয়টি চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটকে অবহিত করেন।