মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বৃহস্পতিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০১৩, ৪ মাঘ ১৪১৯
বই নিয়ে অনিয়ম বন্ধে জেলা ও উপজেলায় অভিযান চালানো হবে
সব ডিসিকে চিঠি ॥ অনুলিপি যাচ্ছে এসপি, ইউএনও ও ওসির কাছে
স্টাফ রিপোর্টার ॥ অবৈধ নোট-গাইড, বিনামূল্যের সহায়ক ও পাঠ্যবই বিক্রির বিরুদ্ধে রাজধানীর সঙ্গে সঙ্গে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অভিযান শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে সকল জেলা প্রশাসককে (ডিসি) চিঠি দিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। চিঠির অনুলিপি যাচ্ছে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) কাছেও। এদিকে বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির (বাপুস) নীতিমালা উপেক্ষা করে সৃজনশীল ও অনুশীলন বইয়ে অতিরিক্ত মূল্য বসিয়ে বেপরোয়া বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে কয়েক অসাধু প্রকাশনী সংস্থার বিরুদ্ধে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সমিতির পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র, শিক্ষা ও অর্থ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন ব্যবসায়ীরা।
এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোস্তফা কামাল উদ্দিন কঠোর হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করে বলেছেন, বিনামূল্যের পাঠ্য ও সহায়ক বই বিক্রি এবং নোট গাইডের বিরুদ্ধে সরকারের অভিযান অব্যাহত থাকবে। ‘নিষিদ্ধ নোট-গাইড এবং বিনামূল্যের পাঠ্য ও সহায়ক বই বিক্রির বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে ডিসি, এসপি, ইউএনও ও ওসিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছি আমরা। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরকেও মাঠ পর্যায়ের এই অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছি। ইতোমধ্যেই আমরা ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠানের প্রায় দেড় লাখ কপি নিষিদ্ধ বই জব্দ করেছি। এই অভিযান চলবে। এর আগে সোমবার রাজধানীতে অবৈধ নোট-গাইড, সহায়ক ও পাঠ্যবই বিক্রির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়েছে। প্রথম দিনই পুরান ঢাকায় অভিযান চালিয়ে লেকচার পাবলিকেশন্সের দেড় লক্ষাধিক অবৈধ গাইড বই উদ্ধার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি। বাধাই কারখানার ম্যানেজারসহ চারজনকে আটক করে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দিয়েছে পুলিশ। জানা গেছে, এরই ধারাবাহিকতায় এবার সারাদেশে বই নিয়ে অনিয়ম বন্ধে অভিযান পরিচালনা করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। মাঠ পর্যায়ের প্রশাসনের কাছে পাঠানো এনসিটিবির চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত নোট ও গাইড বই মুদ্রণ ও বাজারজাত করা সম্পূর্ণরূপে হাইকোর্ট কর্তৃক (রিট নং-১৩৬৪/০৮ দ্বারা) নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ঢাকার বাংলাবাজারসহ সারাদেশে কিছু সংখ্যক অসাধু ব্যবসায়ী নোট-গাইড বই মুদ্রণ, ক্রয় ও বিক্রয় করে কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের বিভ্রান্ত করছে, যা সস্পূর্ণ আইনের পরিপন্থী। এ অবস্থায় প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত সকল ধরনের নোট-গাইড বই মুদ্রণ, ক্রয় ও বিক্রয় প্রতিরোধকল্পে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। এদিকে নীতিমালা উপেক্ষা করে সৃজনশীল ও অনুশীলন বইয়ে অতিরিক্ত মূল্য বসিয়ে বেপরোয়া বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের হাতে ধরাপড়া প্রতিষ্ঠান লেকচার প্রকাশনী এবং আরেক প্রতিষ্ঠান কাজল ব্রাদার্স লিমিডেটের বিরুদ্ধে। সব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সমিতির পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র, শিক্ষা ও আইন মন্ত্রণালয়ে অনুরোধ জানানো হয়েছে। জানা গেছে, আন্তঃমন্ত্রণালয়ের নির্দেশক্রমে গত বছর পুস্তক প্রকাশন ও ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত একটি নীতিমালা প্রকাশ করা হয়। গত ১০ নবেম্বর বাপুসর সাধারণ সভায় এটি অনুমোদন করা করা হয়। নীতিমালায় তিনটি পয়েন্টে স্কুল পর্যায়ে প্রথম থেকে নবম ও দশম শ্রেণীর সৃজনশীল অনুশীলনমূলক পুস্তকের মূল্য (কাগজের ধরন-এসডিডি ও ডিডি) ৪টি সøাবে নির্ধারণ করা হয়। এগুলোর মধ্যে ফর্মা অনুযায়ী বইয়ের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩ টাকা ৯০ পয়সা এবং সর্বনিম্ন ৩ টাকা ৪০ পয়সা ধার্য করা হয়। এর বাইরে কভারপ্রতি ৮ টাকা এবং ইনার পেজের মূল্য ৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু দেখা গেছে, লেকচার পাবলিকেশন্সের প্রকাশিত তৃতীয় শ্রেণীর অনুশীলনমূলক ৭০ ফর্মার (প্রতি ৮ পৃষ্ঠায় এক ফর্মা) বইটি বিক্রি হচ্ছে ৩৫২ টাকায়। অথচ বাপুস নীতিমালা অনুযায়ী ওই বইটির মূল্য হয় সর্বোচ্চ ২৭১ টাকা। একইভাবে ওই প্রকাশনীর চতুর্থ শ্রেণীর ৮৬ ফর্মার বইটির বিক্রি হচ্ছে ৪২৯ টাকায়, বাপুসর নীতিমালা অনুযায়ী যার মূল্য হয় সর্বোচ্চ ৩২৭ টাকা।
এছাড়া কাজল ব্রাদার্স লিমিটেডের অনুপম সিরিজের তৃতীয় শ্রেণীর ৬৮ ফর্মার একটি বই বিক্রি হচ্ছে ৩২২ টাকায়, নীতিমালা অনুযায়ী যার মূল্য হয় সর্বোচ্চ ২৬৪ টাকা। আর ওই প্রকাশনীর চতুর্থ শ্রেণীর ৮০ ফর্মার একটি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৩৭২ টাকায়, নীতিমালা অনুযায়ী যার মূল্য হওয়া উচিত ৩০৬ টাকা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সচিব এমএ খালেক বলেন, বাপুস নীতিমালা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমরা স্বরাষ্ট্র ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানিয়েছি। এরপর কাজল ব্রাদার্স লিমিটেড এখন নীতিমালা মেনে চলছে, কিন্তু লেকচার প্রকাশনী তা মানছে না। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, বই নিয়ে কোন অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। সাধারণ মানুষের স্বার্থের কথা চিন্তা করে একটি নীতিমালা করেছেন ব্যবসায়ীরা। এখন তাদের লোকজনই নীতিমালা মানছেন না। এটা অগ্রহণযোগ্য।