মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
শুক্রবার, ২১ অক্টোবর ২০১১, ৬ কার্তিক ১৪১৮
আনন্দ র্যালি নাচগান আতশবাজির বর্ণিল অনুষ্ঠান
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী
জবি রিপোর্টার ॥ শত বছরের পুরানো শিৰা প্রতিষ্ঠান জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বৃহস্পতিবার উদ্যাপিত হয়েছে। কেক কাটা, আনন্দ র্যালি, নাচ গানসহ নানা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনটি উদ্যাপন করে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার।
২০০৫ সালে ২০ অক্টোবর জাতীয় সংসদে আইন পাসের মধ্যেমে জগন্নাথ কলেজ পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ঘোষণা করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকে প্রতিবছর জাকজমকপূর্ণভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়ে আসছে। প্রতিবছরের তুলনায় এ বছরের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন একটু ভিন্ন রকমের ছিল। ডা. মোসত্মফা জালাল মহিউদ্দিন এবং উপাচার্য অধ্যাপক ড. মেসবাহউদ্দিন আহমেদ আকাশে বেলুন ও শানত্মির প্রতীক পায়রা অবমুক্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভ উদ্বোধন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মেসবাহউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে সকাল ১০টায় বর্ণাঢ্য র্যালির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিৰাথর্ীরা রংবেরংয়ের পোশাক পরে র্যালিতে অংশগ্রহণ করে। এ সময় শিৰাথর্ীরা বাঁশি বাজিয়ে, নেচে গেয়ে আনন্দ প্রকাশ করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পৰ থেকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলৰে মাথার টুপি সরবরাহ করা হয়। র্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার হতে ক্যাম্পাস ঘুরে রায়সাহেব বাজার এবং ভিক্টোরিয়া পার্ক প্রদক্ষিণ শেষে আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে শেষ হয়েছে। র্যালিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক মোঃ সেলিম ভঁূইয়া, রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মোঃ ওহিদুজ্জামান, গ্রন্থাগারিক অধ্যাপক ড. কামালউদ্দীন আহমেদ, পরিচালক (ছাত্র-কল্যাণ) ড. অরম্নণ কুমার গোস্বামী, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালক প্রকৌশলী মোঃ সারফুদ্দিন, ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. অশোক কুমার সাহা, সহকারী প্রক্টরবৃন্দ, শিক্ষক-ছাত্রছাত্রী-কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। এ ছাড়াও র্যালিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠনের নেতা অংশগ্রহণ করেন। শিৰাথর্ীরা স্ব-স্ব বিভাগের ব্যানারে শিক্ষক-ছাত্রছাত্রী-কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ অংশগ্রহণ করেন। র্যালিতে অংশ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মেসবাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, '২৭(৪) ধারা নামে একটি কালোআইন বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারে অশানত্মির কারণ হয়ে দেখা দিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর তা বাতিলের ঘোষণায় নিজেকে শিৰানুরাগী বলে প্রমাণ করেন। এখন আমরা শুধু সামনে এগিয়ে যেতে চাই'। এর পর বিভিন্ন বিভাগে কেক কেটে শিৰাথর্ীরা আনন্দের সূচনা করে। র্যালি শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিৰাথর্ীরা বিভিন্ন ভাগে ভাগ হয়ে আনন্দ করতে শুরম্ন করে। এ সময় তারা রং ছিটিয়ে আনন্দ করতে থাকে। তাদের এ আনন্দের সঙ্গে নতুন মাত্রা যোগ করেছে আতসবাজি। কিছু সময় পর পর হৃদয় কাপিয়ে শব্দ করতে থাকে আতসবাজি। শুধু বিশ্ববিদ্যালয় নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহনও সাজানো হয় বর্ণিল সাজে। নানা রংয়ের কাগজের ফুল দিয়ে সাজানো হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহনগুলো। এ সময় শিৰাথর্ীরা গাড়ির ভেতরে সাউন্ডবঙ্ দিয়ে গান বাজাতে থাকে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলৰে বিভিন্ন বিভাগের আয়োজনে দুপুরের খাবার সরবরাহ করা হয়। শিৰাথর্ীদের বাড়তি আনন্দ দেয়ার জন্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউট গ্রম্নপর্যালি ও স্কাউটিং কার্যক্রমের প্রদর্শনীর আয়োজন করে। উদীচী বাঙালীর প্রাচীন খেলা লাঠি খেলার আয়োজন করেন। বাঁধন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার শিৰাথর্ীদের বিনামূল্যে রক্তের গ্রম্নপ নির্ণয় কর্মসূচী পালন করেন।