মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০১১, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৮
প্রকল্প এলাকার স্থাপনা বদলালে ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে না ॥ ঢাকা উড়াল সড়ক
কোন আদালত নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারবে না ॥ ভূমি অধিগ্রহণ অধ্যাদেশ জারি
তপন বিশ্বাস ॥ ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত দুর্নীতি রোধে ঢাকা এলিভেটেড এক্সেসওয়ে প্রকল্প (ভূমি অধিগ্রহণ) অধ্যাদেশ জারি করেছে সরকার। সংবিধানের ৯৩ (১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি বৃহস্পতিবার এই অধ্যাদেশ জারি করেছেন। এখন থেকে এলিভেটেড এঙ্প্রেসওয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষে অধিগ্রহণাধীন ভূমির ওপর নির্মিত বা নির্মাণাধীন কোন ঘর-বাড়ি বা স্থাপনা বা ভূমির শ্রেণী পরিবর্তন করলে তার জন্য কোন ব্যক্তি ৰতিপূরণ পাওয়ার অধিকারী হবে না। এ অধ্যাদেশের ক্ষমতাবলে গৃহীত কোন কার্যক্রম সম্পর্কে কোন আদালত কোন প্রকার নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারবে না।
সংশিস্নষ্ট সূত্র জানায়, অতীতে ভূমি অধিগ্রহণ নিয়ে নানা অনিয়ম দেখা গেছে। সরকারের প্রয়োজনে যে ভূমি অধিগ্রহণ করা হয় সে স্থানে রাতারাতি স্থাপনা তুলে তা মূল্যবান দেখানো হয়। আর মূল্যবান দেখিয়ে অনেকে সরকারের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা উত্তোলন করে থাকে। এ জাতীয় সুযোগ রোধে সরকার এ অধ্যাদেশ জারি করেছে।
অধ্যাদেশের বিশেষ বিধানে বলা হয়েছে, ঢাকা এলিভেটেড এঙ্প্রেসওয়ে প্রকল্প বাসত্মবায়নের লৰ্যে অধিগ্রহণাধীন ভূমির ওপর জনস্বার্থবিরোধী উদ্দেশ্যে নির্মির্র্র্র্ত বা নির্মাণাধীন ঘর-বাড়ি বা অন্য কোন প্রকার স্থাপনার জন্য বা একই উদ্দেশ্যে কোন ঘর-বাড়ি বা স্থাপনার বা ভূমির শ্রেণী পরিবর্তন করা হলে এ পরিবর্তনের জন্য কোন ব্যক্তি ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারী হবেন না। ভূমি অধিগ্রহণের ৰতিপূরণ নির্ধারণকালে ডেপুটি কমিশনার যদি এ মর্মে সন্তুষ্ট হন যে, ঢাকা এলিভেটেড এঙ্প্রেসওয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের লৰ্যে অধিগ্রহণাধীন কোন ভূমির ওপর নির্মিত বা নির্মর্াণাধীন কোন ঘর-বাড়ি বা অন্য কোন প্রকার স্থাপনা জনস্বার্থ বিরোধী উদ্দেশ্যে নির্মাণ করা হয়েছে বা নির্মাণাধীন কোন ঘর-বাড়ি নির্মাণাধীন আছে বা একই উদ্দেশ্যে কোন ঘর-বাড়ি বা স্থাপনা বা ভূমির শ্রেণীর পরিবর্তন করা হয়েছে, তা হলে তিনি এ রকম ঘর-বাড়ি বা স্থাপনা বা পরিবর্তনকে ৰতিপূরণ প্রদানের জন্য বিবেচনা করবেন না এবং ৰতিপূরণের দাবি প্রত্যাখ্যান করবেন। প্রত্যাখ্যানের কারণে সংৰুব্ধ কোন ব্যক্তি, প্রত্যাখ্যান আদেশ জারি হওয়ার ৭ দিনের মধ্যে ৰতিপূরণের দাবিতে কমিশনারের কাছে এ প্রত্যাখ্যানের বিরম্নদ্ধে আপীল দায়ের করতে পারবেন।
আপীল আবেদন প্রাপ্তির ৫ কর্মদিবসের মধ্যে আপীলের বিষয়টি সরেজমিন তদনত্ম করবেন এবং আপীলকারীকে শুনানির সুযোগ প্রদানপূর্বক অনধিক ৫ কর্মদিবসের মধ্যে আপীলের ওপর তাঁর সিদ্ধানত্ম প্রদান করবেন। আর আপীল নামঞ্জুর করা হলে আদেশ জারির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আপীলকারী সংশিস্নষ্ট ঘর-বাড়ি বা স্থাপনা নিজ খরচ ও দায়িত্বে সরিয়ে নেবেন। অন্যথায় ডেপুটি কমিশনার ওই ঘর-বাড়ি বা স্থাপনা প্রকাশ্য বিক্রি করে বিক্রিলব্ধ অর্থ সরকারী কোষাগারে জমা করবেন। আবার ডেপুটি কমিশনার কর্তৃক ৰতিপূরণের দাবি প্রত্যাখ্যানের বিরম্নদ্ধে যদি দাবিদার নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপীল দায়ের না করেন, তা হলে ওই সময়ের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘর-বাড়ি বা স্থাপনা সরিয়ে নিতে হবে। অন্যথায় একই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, অধিগ্রহণকৃত ভূমির ৰতিপূরণ প্রত্যাশী সংস্থার কাছ থেকে অর্থ প্রাপ্তির ৬০ দিনের মধ্যে অধিগ্রহণকৃত জমির ৰতিপূরণ সংশিস্নষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ বা ওয়ার্ড কমিশনার বা কাউন্সিলর কার্যালয়ে ডেপুটি কমিশনার কর্তৃক পূর্ব ঘোষিত সময়সূচী অনুযায়ী প্রকাশ্যে পরিশোধ করতে হবে। ঢাকা এলিভেটেড এঙ্প্রেসওয়ে প্রকল্প বাসত্মবায়নের লৰ্যে অধিগ্রহণাধীন কোন ভূমির মাটি অসৎ উদ্দেশ্যে কেটে বা অন্য কোন উপায়ে ওই ভূমির শ্রেণী পরিবর্তন করা হলে ওই পরিবর্তনের জন্য ভূমির কোন ৰতি হলে, সরকার সংশিস্নষ্ট ভূমির মালিকের কাছ থেকে ওই ৰতি বাবদ যথাযথ পরিমাণ ৰতিপূরণ আদায় করতে পারবে। ঢাকা এলিভেটেড এঙ্প্রেসওয়ে প্রকল্প বাসত্মবায়নের লৰ্যে কোন ভূমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হলে, তা জনস্বার্থে প্রয়োজন বলে গণ্য হবে এবং কতর্ৃপৰ চাহিদা অনুযায়ী ভূমি অধিগ্রহণ করতে পারবে। ভূমি অধিগ্রহণের নোটিস জারির পর্যায়ে সংশিস্নষ্ট ডেপুটি কমিশনার কতর্ৃক অধিগ্রহণাধীন ভূমির যে ভিডিও চিত্রগ্রহণ ও সংরৰণ করা হয়েছে, ওই ভিডিও চিত্র, এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, এ অধ্যাদেশের অধীন গৃহীত ও সংরৰিত হয়েছে বলে গণ্য হবে এবং ওই ভিডিও চিত্রের ভিত্তিতে ভূমির ৰতিপূরণ নির্ধারণপূর্বক ৰতিপূরণ পরিশোধের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ অধ্যাদেশের ৰমতাবলে গৃহীত কার্যক্রম সম্পর্কে আদালত কোন প্রকার নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারবে না।