মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
রবিবার, ২৪ এপ্রিল ২০১১, ১১ বৈশাখ ১৪১৮
বিআইডব্লিউটিএ'র বহরে যুক্ত হচ্ছে তিনটি নতুন ড্রেজার
আগামী মাসে হস্তান্তর
রশীদ মামুন ॥ দীর্ঘ ৩৬ বছর পর অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপৰের (বিআইডবিস্নউটিএ) বহরে তিনটি নতুন ড্রেজার যুক্ত হতে যাচ্ছে। দেশীয় একটি জাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আগামী মাসের প্রথম দিকে বিআইডবিস্নউটিএ'র কাছে ড্রেজারগুলো হস্তান্তর করবে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পরপরই সারাদেশের নদনদী খননের উদ্যোগ নেয়। এজন্য দেশীয় প্রতিষ্ঠানের সৰমতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে বিআইডবিস্নউটিএ'র বহরে মোট ২০টি ড্রেজার যোগ করার পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। যার মধ্যে প্রথম কিসত্মিতে তিনটি ড্রেজার যোগ হচ্ছে মে মাসের প্রথম সপ্তাহে।
সংশিস্নষ্টরা বলছেন, ড্রেজার যোগ হওয়ার মাধ্যমে বিআইডবিস্নউটিএ'র সৰমতা বৃদ্ধির সঙ্গে দেশীয় জাহাজ প্রস্তুতকারক কোম্পানিগুলোর নামের পাশে নতুন সাফল্য যোগ হবে। দেশীয় কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্সের সঙ্গে নেদারল্যান্ডসের ভোস্টা এলএনভি যৌথ উদ্যোগে ড্রেজার তিনটি নির্মাণ করছে। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের পৰে দাবি করা হচ্ছে শুধু বাংলাদেশ নয়, এর আগে এশিয়ার অন্য কোন দেশ ড্রেজার তৈরি করেনি। নেদারল্যান্ডসের নঙ্া ও যন্ত্রাংশে দেশেই ড্রেজার তিনটি নির্মাণ করা হয়েছে।
বিআইডবিস্নউটিএ'র খনন বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল মতিন এ প্রসঙ্গে জানান, নেদারল্যান্ডসের পরামর্শকরা এসেছেন। তাঁরা শেষবারের মতো ড্রেজার তিনটি পরীৰা-নিরীৰা করে দেখছেন। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান চলতি মাসে ড্রেজারগুলো হসত্মানত্মর করতে চাইলেও পরামর্শকরা আসতে দেরি করায় তা সম্ভব হয়নি। মে'র প্রথম সপ্তাহে নারায়ণগঞ্জে এনে পরীৰামূলকভাবে চালিয়ে দেখা হবে। ড্রেজিংয়ের আনুষঙ্গিক যন্ত্রাংশও আনন্দ শিপ বিল্ডার্স এবং ওয়েস্টার্ন মেরিন দু'টি জাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করছে। শীঘ্র আনুষঙ্গিক যন্ত্রাংশও হাতে পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিআইডবিস্নউটিএ'র সংশিস্নষ্ট সূত্র জনায়, বিআইডবিস্নউটিএ'র প্রসত্মাবের প্রেৰিতে জাপানী ঋণ সহায়তা মওকুফ ফান্ড (জেডিসিএফ) থেকে সরকারের প্রথম একনেক সভায় প্রথম প্রকল্প হিসেবে দু'টি ড্রেজার ক্রয়ের অনুমোদন দেয়া হয়। এছাড়া বিআইডবিস্নউটিএ নিজস্ব অর্থায়নে আরও একটি ড্রেজার কিনছে। দু'টি প্রকল্পে ড্রেজারসহ আনুষঙ্গিক যন্ত্রাংশ ক্রয়ের জন্য মোট বরাদ্দ ছিল ১৭০ কোটি টাকা। যেখানে তিনটি ড্রেজার নির্মাণে বরাদ্দ ছিল ৫৭ কোটি টাকা। বাকি অর্থে ড্রেজারের জন্য আনুষঙ্গিক যন্ত্রাংশ ক্রয়ের উদ্যোগ নেয়া হয়।
কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্সের কর্ণধার ইঞ্জিনিয়ার আব্দুর রশিদ জানান, ড্রেজারগুলো হসত্মানত্মর করার জন্য তারা বিআইডবিস্নউটিএ'কে চিঠি দিয়েছে। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে তারা ড্রেজারগুলো হসত্মানত্মরে প্রস্তুত রয়েছে। তিনি দাবি করেন, দেশে যেমন প্রথম তারা ড্রেজার নির্মাণ করছেন সে রকম এশিয়াতেও তারাই প্রথম ড্রেজার নির্মাতা। তিনি জানান, এর আগে চীন ড্রেজার নির্মাণ করতে গিয়েও সফল হয়নি। নেদারল্যান্ডসের নঙ্া, যন্ত্রাংশ ও তাদের কারিগরি সহায়তায় দেশেই ড্রেজারগুলো নির্মাণ করা হয়েছে। কর্ণফুলীর সঙ্গে জয়েনভেঞ্চারে থাকা ভোস্টা এলএনভি নেদারল্যান্ড এবং জার্মানির একটি যৌথ মূলধনী কোম্পানি বলে জানান তিনি।
নাব্য রৰায় ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু সরকার পাঁচটি ড্রেজার কিনেছিল। এরপর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও কোন সরকারই নৌযোগাযোগে গুরম্নত্বারোপ করেনি। পৰানত্মরে নৌপথকে ধ্বংস করে সড়ক এবং সেতু নির্মাণ করায় ক্রমান্বয়ে অধিকাংশ নৌপথকে মৃতু্যর দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে। মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ বছরের ব্যবধানে অনেক নৌপথ বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
বিআইডবিস্নউটিএ'র ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, স্বাধীনতার পরপরই ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠানটির জন্য দু'টি ড্রেজার কেনা হয়। পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালে আরও পাঁচটি ড্রেজার সংগ্রহ করা হয়। দীর্ঘদিনের পুরনো হওয়ায় এসব ড্রেজার দিয়ে কোনমতে দেশের অভ্যনত্মরীণ নৌরম্নটগুলো সচল রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সংশিস্নষ্টরা বলছেন, নৌপথের প্রাণ ফিরিয়ে আনতে ড্রেজিংয়ের কোন বিকল্প নেই। এজন্য সরকারী এবং বেসরকারী উদ্যোগে ড্রেজারের সংখ্যা বৃদ্ধি করে নৌরম্নট খননের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিআইডবিস্নউটিএ সূত্র জানায়, তিনটি ছাড়াও তাদের আরও ১৭টি ড্রেজার সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে ভারতীয় ঋণ সহায়তায় তিনটি এবং কুয়েত সরকারের কাছ থেকে অনুদান হিসেবে চারটি ড্রেজার পাওয়া যাবে। এছাড়া সরকারী অর্থায়নে আরও ১০টি ড্রেজার সংগ্রহের পরিকল্পনা অনুমোদনের অপেৰায় রয়েছে।
সূত্র মতে, বাংলাদেশে নদনদীর প্রকৃত দৈর্ঘ প্রায় ২৪ হাজার কিলোমিটার। বন্যার সময় দেশের অভ্যনত্মরে প্রবাহিত নদী দিয়ে পাঁচ মিলিয়ন কিউসেক পানি এবং দুই দশমিক চার বিলিয়ন টন পলি প্রবাহিত হয়। অন্যদিকে পৃথিবীর সকল নদী দিয়ে বছরে প্রায় ১৩ বিলিয়ন টন পলি পরিবাহিত হয়। সে হিসেবে বিশ্বের মোট পলির ১৮ দশমিক ৫০ ভাগ বাংলাদেশ দিয়ে প্রবাহিত হয়। প্রকৃতিগতভাবে দীর্ঘদিন পলি প্রবাহের ফলে নদনদী ভরাট হয়ে শুষ্ক মৌসুমে নৌচলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।