মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
রবিবার, ২৪ এপ্রিল ২০১১, ১১ বৈশাখ ১৪১৮
শাস্তি নয়, শিক্ষাকে আনন্দময় করে তুলুন
শিক্ষকদের প্রতি শিক্ষামন্ত্রী
স্টাফ রিপোর্টার ॥ শিক্ষার্থীদের ওপর শারীরিক ও মানসিক শাসত্মি বন্ধের লৰ্যে শিক্ষক প্রশিক্ষণ নির্দেশিকা (ম্যানুয়াল) তৈরি করতে যাচ্ছে সরকার। এই নির্দেশিকার আলোকে দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক সত্মরের শিক্ষার্থীদের ওপর শারীরিক ও মানসিক শাসত্মি বন্ধে শিৰকদের প্রশিৰণ দেয়া হবে। ম্যানুয়াল চূড়ানত্ম করার লৰ্যে শনিবার রাজধানীতে আয়োজিত এক আলোচনাসভায় শিৰামন্ত্রী নুরম্নল ইসলাম নাহিদ শিৰকদের উদ্দেশে বলেছেন, শারীরিক-মানসিক শাসত্মি নয়, শ্রেণীকক্ষে শিক্ষাকে আনন্দময় বিষয় হিসেবে তুলে ধরম্নন। শারীরিক-মানসিক শাসত্মি, অপমান, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য, উপহাস ছাত্রছাত্রীদের সাহস, মনোবল, মেধা, সৃজনশীলতাকে ধ্বংস করে।
ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজ মিলনায়তনে 'প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ওপর শারীরিক ও মানসিক শাসত্মি নিরোধকল্পে শিক্ষক প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল' শীর্ষক আলোচনাসভায় শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। শিৰা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিৰা অধিদফতরের (মাউশি) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক নোমান উর রশিদ। আরও বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব একেএম আবদুল আউয়াল মজুমদার, প্রধানমন্ত্রীর একানত্ম সচিব নজরম্নল ইসলাম খান, কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শামীম এফ করিম, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক (প্রশিৰণ) তাসলিমা বেগম প্রমুখ। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষকের শিক্ষা দানের পথ-পদ্ধতি, চরিত্র, জীবনাচরণ, চলা-বলা সবই ছাত্রছাত্রীদের জন্য হবে অনুকরণীয় দৃষ্টানত্ম। আপনারা শারীরিক-মানসিক শানত্মির, শ্রেণীকক্ষে শিক্ষাকে আনন্দময় বিষয় হিসেবে তুলে ধরম্নন। শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান প্রজন্মের শিশুরা বড় হচ্ছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষতার মধ্য দিয়ে। ঘরে ঘরে পেঁৗছে গেছে প্রযুক্তির নানা সুবিধা। আজকের অধিকাংশ শিশুর এসব বিষয়ের জ্ঞান-ধারণা বড়দের চেয়ে অনেক ক্ষেত্রে বেশি। তাদের খাটো করে দেখা যাবে না। বর্তমান শিক্ষকদের শিশুকালের সঙ্গে আজকের শিশুদের এক করে মিলিয়ে দেখলে হবে না। দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন আনতে হবে। শিক্ষকতা পেশাকে জগতের সবচেয়ে মহৎ পেশা উলেস্নখ করে মন্ত্রী বলেন, এটি শুধু একটি পেশা নয় এটি একটি ব্রত। আত্মসম্মানবোধ সম্পন্ন, আত্মপ্রত্যয়ী ও মর্যাদাবান সুনাগরিক গড়ে তোলাতেই তাঁর গৌরব। শিক্ষার্থীকে নিজের চেয়ে উঁচু অবস্থানে ওঠাতে পারলেই তাঁর আনন্দ। শত বাধা, দুঃখ-কষ্ট, সীমাবদ্ধতার মাঝেও এ পেশার মহত্ব সেখানে।
শিৰার্থীদের সম্পর্কে শিৰকদের আচরণ সম্পর্কে বলেন, শারীরিক শাসত্মি দিয়ে নয়, নানাভাবে উদ্দীপ্ত করে শিক্ষার্থীদের জানার আগ্রহটি বাড়িয়ে দিন, ওদের মনোযোগ বেড়ে যাবে। মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষার সামগ্রিক মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করছে। শিক্ষানীতি প্রণয়ন, বিনামূল্যে বই প্রদান, কারিকুলাম পরিবর্তন, ক্লাসরম্নমে মাল্টিমিডিয়া চালু, শিক্ষায় তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধিসহ নানা উদ্যোগের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রতি শিক্ষকদের শারীরিক ও মানসিক শাসত্মি বন্ধেও সরকার আনত্মরিক। উলেস্নখ্য, গত বছর ৯ আগস্ট সকল শিৰা প্রতিষ্ঠানে শিৰাথর্ীদের শারীরিক শাসত্মি প্রদান সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করেছে শিৰা মন্ত্রণালয়। শিৰা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র জারি করে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এখন থেকে শারীরিক শাসত্মিকে অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করা হবে। শারীরিক শাসত্মি প্রদান বন্ধ করার জন্য জেলা শিৰা অফিসার এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিৰা অফিসারদের কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ আছে। তারা শারীরিক শাসত্মি প্রদানকারীদের বিরম্নদ্ধে দ-বিধি-১৮৬০, ১৯৭৪ সালের শিশু আইন এবং ৰেত্রমতে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেবেন। সরকারের নির্দেশনায় বলা আছে, শিৰা প্রতিষ্ঠান প্রধানরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে শারীরিক শাসত্মি প্রদান বন্ধের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদৰেপ গ্রহণ করবেন। বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটি নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে শারীরিক শাসত্মি প্রদানকারী শিৰকদের চিহ্নিত করে বিধি মোতাবেক প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন। শিৰা মন্ত্রণালয়ের অধীন দফতর, অধিদফতর ও শিৰা বোর্ডের পরিদর্শকরা শিৰা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনকালে শারীরিক শাসত্মি প্রদানের বিষয়টি পর্যবেৰণ করবেন এবং এ বিষয়ে পরিদর্শন প্রতিবেদনে উলেস্নখ করবেন। তবে সরকারের এ আদেশের পরেও অনেক শিৰা প্রতিষ্ঠানে শিৰার্থীদের ওপর শিৰকদের নানা কারণ দেখিয়ে অমানবিক ও নির্মম শারীরিক শাসত্মি প্রদানের ঘটনা ঘটছে। বিষয়টিকে মাথায় রেখেই শিৰা মন্ত্রণালয় ও শিৰা অধিদফতর শিৰকদের প্রশিৰণের মাধ্যমে এ বিষয়ে যথাযথ প্রশিৰণ দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে।