মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ২৯ মার্চ ২০১১, ১৫ চৈত্র ১৪১৭
বজলুর রহমান ছিলেন দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার অন্যতম পথিকৃৎ
বজলুর রহমান স্মৃতিপদক প্রদান
স্টাফ রিপোর্টার ॥ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সাংবাদিকতায় ' বজলুর রহমান স্মৃতিপদক ২০১০' প্রদান করা হয়েছে সোমবার। পদক প্রদান উপলৰে শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর। এবার প্রিন্ট মিডিয়ায় পদক পেয়েছেন দৈনিক যায়যায়দিনের রীতা ভৌমিক। 'মুক্তিযুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের শহীদ নির্যাতিতা নারী' প্রতিবেদনের জন্য তিনি এ পদক পান। ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় পদকপ্রাপ্ত নির্মাতা লে. কর্নেল (অব) কাজী সাজ্জাদ আলী জহির বীর প্রতীক। বৈশাখী টিভিতে প্রচারিত 'করিম মাঝির দাফন হলো না' অনুষ্ঠান নির্মানের জন্য তাকে এ পদক প্রদান করা হয়। এ ছাড়া বিশেষ সম্মাননা পুরস্কার দেয়া হয় চ্যানেল আইয়ে প্রচারিত 'মুক্তিযুদ্ধ প্রতিদিন' অনুষ্ঠানকে। সম্মাননাপ্রাপ্ত নির্মাতা হলেন চ্যানেল আইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জাতীয় সংসদের স্পীকার আবদুল হামিদ এ্যাডভোকেট পদকপ্রাপ্তদের হাতে পদক তুলে দেন। এ সময় বজলুর রহমানের সহধর্মিণী, আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী দর্শক সারিতে উপস্থিত ছিলেন। দৈনিক সংবাদের সম্পাদক বজলুর রহমান বাংলাদেশে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার অন্যতম পথিকৃৎ ছিলেন। তিনি সাংবাদিকতাকে অবলম্বন করে অসাম্প্রদায়িক সমাজ ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অবদান রেখেছেন। বজলুর রহমানের আকস্মিক মৃতু্যর পর তার স্মৃতি সংরৰণের জন্য তাঁর পরিবার ও বন্ধুদের সহায়তায় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রতিবছর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সাংবাদিকতার জন্য প্রিন্ট মিডিয়ার একজন সাংবাদিক ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার একজন নির্মাতাকে বজলুর রহমান স্মৃতিপদক ও নগদ অর্থ প্রদান করে আসছে। বজলুর রহমান স্মৃতিপদক-২০১০ প্রাপ্ত সাংবাদিক রীতা ভৌমিক এবং ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় পদকপ্রাপ্ত নির্মাতা লে. কর্নেল (অব) কাজী সাজ্জাদ আলী জহিরের হাতে পদক ছাড়াও এক লাখ টাকার চেক এবং বিশেষ সম্মাননাপ্রাপ্ত নির্মাতা ফরিদুর রেজা সাগরের হাতে পদক ছাড়াও পঞ্চাশ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয়। পরে পদকপ্রাপ্তরা অনুষ্ঠানের অতিথিবৃন্দ এবং বেগম মতিয়া চৌধুরীর সঙ্গে গ্রম্নপ ফটোসেশনে অংশ নেন। পদকপ্রাপ্তদের হাতে পদক ও চেক তুলে দেয়ার পর প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্পীকার আবদুল হামিদ এ্যাডভোকেট বলেন, বজলুর রহমান আমৃতু্য দায়িত্বশীল সাংবাদিকতায় নিবেদিতপ্রাণ ছিলেন। তিনি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও জনগণের অধিকার রৰার জন্য বিশেষ অবদান রেখে গেছেন। তিনি ষাটের দশকে ছাত্রাবস্থায় গণতন্ত্র ও স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে আন্দোলন শুরম্ন করেন। কর্মজীবনে বজলুর রহমান একজন সফল সাংবাদিক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। দৈনিক সংবাদের আমৃতু্য সম্পাদক বজলুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশকে একটি অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য সাংবাদিকতা পেশাকে অবলম্বন করে নিরলসভাবে কাজ করেছেন। বজলুর রহমানকে মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক উলেস্নখ করে স্পীকার বলেন, স্বাধীনতা অব্যবহিত পর বজলুর রহমান আফ্রো-এশীয় গণসংহতি পরিষদের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশসমূহে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্বীকৃতির জন্য বিশেষ ভূমিকা রাখেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে বজলুর রহমান ঝুঁকি নিয়ে নির্ভেজাল গণতন্ত্রের জন্য কলম ধরেছেন ও বক্তব্য রেখেছেন। বজলুর রহমান সকল প্রলোভন উপেৰা করে অনাড়ম্বর সহজ সরল জীবন যাপন করে গেছেন। তাঁর আকস্মিক মৃতু্যতে দেশ একজন অকুতোভয় সাংবাদিক ও গণতন্ত্রপ্রেমিক ব্যক্তিত্বকে হারিয়েছে। স্পীকার তার বক্তব্যে বজলুর রহমানের নামে পদক প্রবর্তন করায় মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরকে ধন্যবাদ জানান। স্পীকার বলেন, বজলুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের ভাবাদর্শে গভীরভাবে বিশ্বাসী ছিলেন এবং এই চেতনা বিসত্মারে সাংবাদিকতাকে প্রধান অবলম্বন হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। আবদুল হামিদ এ্যাডভোকেট পদকপ্রাপ্তদের অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, আমি আশা করি, তাঁদের এ কৃতিত্ব এদেশে মুক্তিসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস বর্তমান ও নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে অনুপা্রণিত করবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও জুরি বোর্ডের সভাপতি আআমস আরেফিন সিদ্দিকের সভাপতিত্বে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ডা. সারওয়ার আলী। প্রিন্ট মিডিয়ায় পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিকের নাম ঘোষণা করেন জুরি বোর্ডের সদস্য জগলুল আহমেদ চৌধুরী। ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় পদকপ্রাপ্ত নির্মাতার নাম ঘোষণা করেন জুরি বোর্ডের সদস্য মেজর (অব) এএসএম সামছুল আরেফিন। বিশেষ সম্মান ঘোষণা করেন জুরি বোর্ডের সদস্য কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন।