মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
সোমবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০১১, ২ ফাল্গুন ১৪১৭
ঢাকার নদী ও জলাশয় দূষণমুক্ত করতে ৩ কৌশলপত্র প্রণয়ন
সংসদ কমিটির আশঙ্কা দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বছরে সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকার ৰতি হতে পারে
সংসদ রিপোর্টার ॥ বুড়িগঙ্গা, শীতলৰ্যা, বালু, তুরাগসহ ঢাকা ও এর আশপাশের জলাশয় দূষণমুক্ত করতে ২ হাজার ১শ' কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রেখে তিনটি পৃথক কৌশলপত্র প্রণয়ন করেছে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। জলাশয় দূষণমুক্ত করতে খুব শীঘ্রই পদৰেপ গ্রহণ করা না হলে বছরে সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে কমিটি।
জাতীয় সংসদ ভবনের পুরনো মন্ত্রী হোস্টেলে রবিবার সকালে খসড়া কৌশলপত্র উত্থাপন করা হয়। গণমাধ্যমের সামনে এই খসড়া কৌশলপত্র তুলে ধরে এ বিষয়ে জনগণের মতামত চাওয়া হয়েছে। জনগণের মতামতের ভিত্তিতে এ বিষয়ে সুপারিশমালা চূড়ানত্ম করে কমিটির পৰ থেকে সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট প্রসত্মাবনা তুলে ধরার সিদ্ধানত্ম নেয়া হয়েছে।
কৌশলপত্রে গেজেটে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে প্রাকৃতিক জলাশয় ও সংরৰিত জলাধার নিয়ে গঠিত ঢাকার পূর্ব পাশের ৪০ শতাংশ নিষ্কাশন এলাকাকে পরিবেশগত সঙ্কটাপন্ন এলাকা হিসাবে চিহ্নিত ও ঘোষণা করা, ওয়াটার শেড ব্যবস্থাপনা কতর্ৃপৰ নামক একটি নতুন প্রতিষ্ঠান গঠন করে তার ওপর ঢাকা অঞ্চলের সকল জলাশয় পুনরম্নদ্ধার, সুরৰা, উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনার পূর্ণ কর্তৃত্ব ও দায়িত্ব ন্যসত্ম করাসহ বিভিন্ন প্রসত্মাব করা হয়েছে।
সংসদীয় কমিটির সভাপতি আব্দুল মোমিন তালুকদারের সভাপতিত্বে এই সভায় কমিটির সদস্য ও উপ-কমিটির আহবায়ক সাবের হোসেন চৌধুরী, মোঃ একাব্বর হোসেন, মোঃ সোহরাব আলী সানা, গোলাম সবুর ও গিয়াস উদ্দিন আহমেদ এবং বাংলাদেশে ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফান প্রিজনার উপস্থিত ছিলেন।
সভায় উত্থাপিত খসড়া কৌশলপত্রে জলাশয়ের দূষণ রোধে আশু পদৰেপ গ্রহণে আগামী বাজেটে ২ হাজার ১শ' কোটি টাকা বরাদ্দের প্রসত্মাব করা হয়েছে। কৌশলপত্রে দূষণ রোধের পাশাপাশি পরিবেশ সংরৰণের জন্য নীতিমালা ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ক এবং কারিগরি ও অবকাঠামোগত পদৰেপের প্রসত্মাব করা হয়েছে। আর এই পদৰেপ গ্রহণ না করা হলে দেশ প্রতি বছরই ভয়াবহ ৰতির মুখোমুখি হবে। বছরে ৰতির পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা। একই সঙ্গে রাজধানীর পরিবেশ সঙ্কটাপন্ন হয়ে পড়বে বলে কৌশলপত্রে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
কমিটির সভাপতি আব্দুল মোমিন তালুকদার প্রতিবেদনের লৰ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরে বলেন, জলাশয় রৰায় কার্যকর ব্যবস্থা না নিতে পারলে দেশ ভয়াবহ ৰতির মুখে পড়বে। সে বিষয়টি গুরম্নত্বের সঙ্গে নিয়ে সংসদীয় কমিটি কৌশলপত্র প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এ সংক্রানত্ম প্রসত্মাবনা বাসত্মবায়ন হলে দ্রম্নত ইতিবাচক ফল পাওয়া সম্ভব হবে। তিনি পরিবেশ দূষণ রোধে দলমত নির্বিশেষে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
সভায় সাবের হোসেন চৌধুরী টেকসই উন্নয়ন লৰ্য, দূষণ মোকাবেলার কৌশল এবং ঢাকা ও পাশর্্ববতর্ী এলাকার নদী ও জলাশয়সমূহ সংরৰণের টেকসই কৌশলের বিষয়ে তিনটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। প্রতিবেদন তিনটির ভূমিকা ও প্রেৰাপট বর্ণনা করে তিনি বলেন, পরিবেশ দূষণ এখন বিশ্বব্যাপী একটি আলোচিত বিষয়। বাসযোগ্য বিশ্ব গড়তে হলে পরিবেশ দূষণের মাত্রা কমানোর বিকল্প নেই। এলৰ্যে তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরম্ন করে প্রতিটি সত্মরে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
কৌশলপত্রে যা বলা হয়েছেই কৌশলপত্রে নীতিমালা বিষয়ক পদৰেপ বিষয়ে বলা হয়েছে, বিভিন্ন ধরনের দূষণ, শিল্পকারখানার কর্মকা-ে পরিবেশ রৰা এবং তা পরীবিৰণের ওপর শিল্পকারখানাগুলো যথাযথ গুরম্নত্ব দিচ্ছে কিনা সে বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং জনগণের তথ্য প্রাপ্তির অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। দূষণ কমানো এবং মোকাবেলা সম্পর্কিত কর্মকা- যেমন-কর মওকুফ, স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধা, প্রযুক্তি সহায়তা ইত্যাদি করতে হবে। গেজেটে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে প্রাকৃতিক জলাশয় ও সংরৰিত জলাধার নিয়ে গঠিত ঢাকার পূর্ব পাশের ৪০ শতাংশ নিষ্কাশন এলাকাকে পরিবেশগত সঙ্কটাপন্ন এলাকা হিসাবে চিহ্নিত ও ঘোষণা করা এবং এ সংক্রানত্ম বিধিবিধান কার্যকর করার মাধ্যমে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।