মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারী ২০১১, ৫ মাঘ ১৪১৭
রাজধানীতে দুই ব্যবসায়ীকে ছুরি মেরে সর্বস্ব ছিনতাই
স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানীর চকবাজার ও পল্টন থানা এলাকায় ছিনতাইকারীরা দুই ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাত করে সর্বস্ব ছিনিয়ে নিয়েছে। আহতরা হলেন জাহিদুল ইসলাম (৩০) ও সাইদুর রহমান (২৫)। তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জানা গেছে, সোমবার ভোর সাড়ে ৫টায় চকবাজার থানাধীন আলিয়া মাদ্রাসার সামনে ৩/৪ ছিনতাইকারী জাহিদুল ইসলামকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে নগদ টাকা ও মোবাইল সেট ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দিলে চকবাজার থানার এসআই আমিনুল ইসলাম তাকে রক্তাক্ত অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। আহত জাহিদুল ইসলামের পিতার নাম মজিবুর রহমান। গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধা জেলার ফুলতলা। এদিকে রবিবার রাত ১২টায় পল্টন থানাধীন কাকরাইলের ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের সামনের রাসত্মায় ছিনতাইকারীরা পথচারী ব্যবসায়ী সাইদুর রহমানকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে টাকা ও মোবাইল সেট নিয়ে যায়। পল্টন থানার সহকারী দারোগা মনির হোসেন টহল ডিউটি করার সময় সাইদুর রহমানকে রাসত্মায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পুলিশ জানিয়েছে, ছিনতাইকারীর কবলে পড়া আহত দু'জনই ব্যবসায়ী।

ইভটিজিংবিরোধী ক্যাম্পেন করায় ঢাবি শিক্ষককে হুমকি
বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার ॥ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিৰককে চিরকুটে হুমকি দেয়া হয়েছে। তার নাম মোঃ মুমিত আল রশিদ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসর্ী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের প্রভাষক। শাহবাগ থানায় জিডি করা হয়েছে। জিডি নম্বর ৬৮৯।
অভিযোগে বলা হয়, গত বছরের ১৬ এপ্রিল মোঃ মুমিত আল রশিদ ইভটিজিংবিরোধী ক্যাম্পেন শুরম্ন করেন। পরবর্তীতে তিনি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে ইভটিজিংয়ের ৰতিকর বিষয়গুলো তুলে কলাম লিখতে শুরম্ন করেন। সর্বশেষ গত ৭ ডিসেম্বর একটি জাতীয় দৈনিকে 'ইভটিজিংয়ের উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে প্রযুক্তি' শীর্ষক কলাম লেখেন। গত ১৩ জানুয়ারি ফাসর্ী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ঠিকানায় তাকে হুমকি দিয়ে ঠিকানাবিহীন চিরকুট পাঠানো হয়। এই অবস্থায় তিনি নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন বলে জিডিতে উলেস্নখ করেছেন।

সরকার দুই বছরে সবৰেত্রে ভাল করতে পারেনি ॥ ও. কাদের
স্টাফ রিপোর্টার ॥ সরকার গত দুই বছরে সবৰেত্রে ভাল রেজাল্ট করতে পারেনি, কিন্তু সার্বিক পরীৰায় সরকার পাস করেছে। তবে রাজপথ ও সংসদ দুটোতেই ফেল করেছে বিরোধী দল।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর ফটো জার্নালিস্ট এ্যাসোসিয়েশন মিলনায়তনে জনতার প্রত্যাশা সংগঠন আয়োজিত 'সুষ্ঠু ধারার রাজনীতি-আমাদের করণীয়' শীর্ষক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে এ কথা বলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ওবায়দুল কাদের এমপি।
বিরোধী দল সম্পর্কে তিনি বলেন, বিরোধী দলের অবস্থা হচ্ছে কখনও পূর্ণিমার চাঁদ, আবার কখনও অমাবস্যার চাঁদ। প্রথম দিন পৌর নির্বাচন চলাকালে দুপুরে তাঁরা বললেন নির্বাচনকে প্রভাবিত করা হচ্ছে, আবার সন্ধ্যায় দেখলাম তাঁদের মুখে পূর্ণিমার চাঁদের হাসি। আসলে বিরোধী দল বাসত্মবতাকে এখনও মেনে নিতে পারেনি। তিনি রাজনীতিবিদদের এমন সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিরোধী দলের উচিত দায়বদ্ধতা থেকে সংসদে ফিরে জনগণের জন্য কথা বলা।
ওবায়দুল কাদের বলেন, পৌর নির্বাচন নিয়ে কথা বলায় সময় এখনও আসেনি। বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে আওয়ামী লীগ হেরে গেছে এটাও বলা যাবে না। কারণ জাতীয় নির্বাচনের হিসাব-নিকাশ আর স্থানীয় নির্বাচনের হিসাব-নিকাশ এক নয়। স্থানীয় নির্বাচনে স্থানীয় এজেন্ডা কাজ করে। তার পাশাপাশি জাতীয় সমস্যা যেমন বিদু্যত, বাজারমূল্য ইত্যাদি সমস্যা আসবেই।
স্পষ্টবাদী এ নেতা আরও বলেন, আমাদের রাজনীতিতে সততা নৈতিকতার জায়গায় ভ-ামি আর অসৎ পর্যায়ে চলে গেছে, যা রাজনীতির জন্য শুভ নয়। বাসত্মব চিত্রকে কোন ভাবেই আড়াল করা যায় না উলেস্নখ করে তিনি বলেন, নির্বাচনী রাজনীতিতে জনপ্রিয়তা ওঠানামা করে। এটা হয় দৰতার ওপর। বারাক ওবামা ৭০ ভাগ জনপ্রিয়তা নিয়ে ৰমতায় এসে এখন তার জনপ্রিয়তা ৪০-এ নেমে এসেছে। ওবায়দুল কাদের বলেন, আগামী তিন বছরে আমাদের দেশে আরও পরিবর্তন আসবে। যাদের অস্ত্রবল, বাহুবল আছে_ রাজপথ এখন তাদের দখলে। ত্যাগী ও মরমী মানুষেরা রাজনীতিতে অযোগ্য হয়ে পড়ছে। দেশের রাজনীতিতে সঙ্কটকাল চলছে মনত্মব্য করে তিনি বলেন, রামগড় থেকে একটি ট্রাক আসতে যেমন টোকেন নিয়ে ঘাটে ঘাটে টাকা দিতে হয়, আমাদের নির্বাচনের অনত্মরালেও কত কিছু ঘটে। নির্বাচনের মাঝেও ঘাটে ঘাটে অনেককে খুশি করতে হয়।
তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক সততার সহাবস্থান করা সম্ভব হচ্ছে না। নির্বাচনে একজন কালোবাজারী ১৫ কোটি টাকা খরচ করলে, কোন সৎ লোক ৫ লাখ টাকা খরচ করেও ওই কালোবাজারীর সঙ্গে টিকে থাকতে পারবে না। তাই সত্যিকারের রাজনীতিবিদরা ক্রমেই নির্বাচনের জন্য অযোগ্য হয়ে পড়ছে। আমাদের দেশে প্রায় ৫০ জায়গায় নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করে ১০-১৫ কোটি টাকা খরচ করে।
সংগঠনের আহ্বায়ক এমএ করিমের সভাপতিত্বে আর বক্তব্য রাখেন কুমিলস্না উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম হুমায়ুন মাহমুদ, অরম্নণ সরকার রানা, আকরাম হোসেন, শেখ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম ও হুমায়ন কবির সুজন।