মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারী ২০১১, ৫ মাঘ ১৪১৭
রামপুরায় গৃহকর্মীর সারাদেহে গরম খুন্তির ছেঁকা
বর্বর নির্যাতনের অভিযোগে গৃহকর্তা আটক
স্টাফ রিপোর্টার ॥ রাজধানীর রামপুরায় আসমা খাতুন (১৫) নামে এক কিশোরী গৃহপরিচারিকাকে গোপনাঙ্গসহ সারা শরীরে গরম খুনত্মির ছঁযাকা দিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্মম নির্যাতন চালিয়েছে গৃহকর্তা ও গৃহকর্ত্রী। এরপর ওই কিশোরী গৃহকর্মীকে বাথরম্নমে আটকে রাখা হয়। এ সময় গৃহকর্মীর গোঙানি শুনে প্রতিবেশীরা পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে গৃহকমর্ীকে বাথরম্নম থেকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসিতে) ভর্তি করেছে। পুলিশ গৃহকর্তা ব্যবসায়ী কায়েস আহমেদ পলস্নবকে গ্রেফতার করেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৭ মাস ধরে আসমা খাতুন পূর্ব রামপুরার ডিআইটি রোডের ই/৩ নম্বর গ্রীন টাওয়ারের ব্যবসায়ী কায়েস আহমেদের বাসায় কাজ করে আসছে। কাজের সামান্য ত্রম্নটি হলেই গৃহকত্রর্ী জেসমিন আক্তার শিলা ওরফে লিমা কাজের মেয়ে আসমাকে হাত-পা বেঁেধ ও মুখে কাপড় গুঁজে বেদম প্রহার করত। সারারাত টয়লেটে আটকে রাখত। শনিবার রাতেও গৃহকমর্ী আসমাকে গোপনাঙ্গসহ সারা শরীরে গরম খুনত্মির ছেঁকা দিয়ে বাথরম্নমে আটকে রাখে। পরের দিন সোমবার ভোরে প্রতিবেশীরা গৃহকমর্ীর গোঙানির শব্দ পেয়ে পুলিশকে জানায়। এদিকে আহত গৃহকমর্ী আসমা খাতুনের মা আলেয়া বেগম জানান, মেয়ে আসমাকে পূর্ব রামপুরা গ্রীন টাওয়ারের ব্যবসায়ী কায়েস আহমেদের বাসায় কাজে দিই। কাজে যোগ দেয়ার কিছুদিন পর নানা অজুহাতে মেয়ে আসমাকে গৃহকর্তা কায়েস, গৃহকর্তা লিমা ও তার মা জাহানারা নির্যাতন করতেন। গত মাস থেকে তাদের নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায়। শনিবার রাতে খাবার দিতে একটু দেরি হওয়াতে আসমাকে মধ্যযুগীয় বর্বরতায় নির্যাতন চালায়। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় বাসার সবাই তাকে হুমকি দেয়।
পরবর্তীতে রামপুরা থানায় ৩ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়।
রামপুরা থানার ডিউটি অফিসার এসআই রফিক জানান, গৃহকর্তা কায়েস আহমেদকে গ্রেফতার করা হলেও অপর ২ আসামি গৃহকত্রর্ী জেসমিন আক্তার শিলা ওরফে লিমা ও তার মা জাহানারা বেগম পলাতক রয়েছে। আহত গৃহকমর্ীর মা আলেয়া বেগম বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। আসামি কায়েসকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
নির্যাতিত গৃহপরিচারিকা আসমা খাতুনের পিতা মরহুম ইব্রাহিম ঢালী। গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুর জেলার পালং থানার রম্নদ্রক গ্রামে। মামলার তদনত্ম কর্মকর্তা জানান, সোমবার সকালে আসমাকে উদ্ধার করে থানা হফাজতে নিয়ে আসা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আসমাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়। অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।