মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারী ২০১১, ৫ মাঘ ১৪১৭
গঠিত সামরিক আদালত ছিল অবৈধ ॥ দণ্ড প্রাপ্ত রবিউল
তাহের হত্যা মামলার শুনানি
স্টাফ রিপোর্টার ॥ মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার কর্নেল তাহেরের গোপন আদালতে বিচার চলার সময়কার অভিযুক্ত মুক্তিযোদ্ধা মোঃ রবিউল আলম আদালতে বলেছেন, ১৯৭৬ সালে গঠিত সামরিক আদালত ছিল অবৈধ। নিজের ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করতেই জিয়াউর রহমান এ সাজানো বিচারের আয়োজন করেন। কর্নেল তাহেরের গোপন বিচারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের শুনানিতে অংশ নিয়ে একই বিচারে দ-প্রাপ্ত মোঃ রবিউল আলম সোমবার আদালতকে এ কথা বলেন। ওই বিচারে রবিউলের পাঁচ বছর সাজা হয়েছিল। তিনি আদালতে বলেন, আমার জীবন থেকে ৫টি বছর নিয়ে গেছে জিয়াউর রহমান। এ নিয়ে মোঃ রবিউল আলমসহ ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আব্দুর আলী জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, মেজর (অব) জিয়াউদ্দিন, আওয়ামী লীগ নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না ও সার্জেন্ট (অব) সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বীরপ্রতীক সাৰ্য দিয়েছেন। আজ আব্দুল আলীর দেয়া এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার তৎকালীন জেলা প্রশাসক ও বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা শওকত আলীকে হাইকোর্টে তলব করা হয়েছে।
এ পর্যনত্ম যাঁরা সাৰ্য প্রদান করেছেন তাঁরা সবাই বলেছেন, জিয়াউর রহমান ৰমতা কুৰিগত করতেই তাহেরকে ফাঁসিতে ঝুলিয়েছেন। তাঁদের সাৰ্যে দেখা যায় গোপন বিচারের মূল লৰ্য ছিল সেক্টর কমান্ডার কর্নেল তাহেরকে ফাঁসি দেয়া। আদালতের আহ্বানে সাড়া দিয়ে মোঃ রবিউল আলম, যশোর থেকে ঢাকায় এসে গোপন বিচার সম্পর্কে আদালতকে অবহিত করেন। বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি শেখ মোঃ জাকির হোসেন সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চে সোমবার ষষ্ঠদিনের মতো শুনানি হয়। আজ ঘটনার সময়কার ঢাকার জেলা প্রশাসক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এমএম শওকত আলীর আদালতে হাজির হবার কথা রয়েছে। এ ছাড়া গোপন আদালতের সদস্যদের বর্তমান অবস্থান এবং ওই সময়কার নীতিনির্ধারক সেনা কর্মকর্তাদের তালিকা জমা দেয়ার কথা। গত সপ্তাহে এ বিষয়ে হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল।
আদালতের কাছে হারানো সম্মান ও ক্ষতিপূরণস চেয়ে রবিউল আলম বলেন, সেদিন কোন বিচার হয়নি। কোন চার্জশীট দেয়নি। ১৬৪ ধারায় কোন জবানবন্দী নেয়া হয়নি। অভিযুক্তদের পৰে কোন আইনজীবী নিয়োগ করতে দেয়া হয়নি। জিয়াউর রহমানের সব সময়ই পাকিসত্মানী প্রীতি ছিল। রাজাকারদের তিনি পুনর্বাসন করেছেন। শত শত মুক্তিযোদ্ধাকে হত্যা করেছেন জিয়াউর রহমান। যাঁরা নিজের ইচ্ছার বিরম্নদ্ধে মুক্তিযুদ্ধে গেছেন তাঁদের মধ্যে জিয়াউর রহমান একজন। জিয়াউর রহমানের মুখে কোনদিন জয় বাংলা শুনিনি জিয়াউর রহমানের বিচার হওয়া উচিত। মোঃ রবিউল আলম বলেন, সাজানো বিচারের মাধ্যমেই সেদিন কর্নেল তাহেরসহ আমাদের সাজা দেয়া হয়েছিল। আমার বিরম্নদ্ধে কী অভিযোগ তা আজ পর্যনত্ম জানানো হয়নি। বিচার চলাকালে আমাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়া হয়নি। এমনকি, আইনজীবী বা পরিবারের সঙ্গেও দেখা বা কথা বলতে দেয়া হয়নি।
কর্নেল তাহেরের গোপন বিচারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে তাঁর ভাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোঃ আনোয়ার হোসেন, তাহেরের স্ত্রী লুৎফা তাহের ও সামরিক আদালতের বিচারে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত তাঁর আরেক ভাই প্রয়াত ফ্লাইট সার্জেন্ট আবু ইউসুফ খানের স্ত্রী ফাতেমা ইউসুফ ২০১০ সালের আগস্ট মাসে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন। এ প্রেক্ষিতে ২৩ আগস্ট হাইকোর্ট সরকারের প্রতি রুল জারি করে।

দুই রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল
রিক্রুটিং এজেন্সি মেসার্স সানরাইজ এজেন্সিস (আরএল-০১৬), ১/৮ ফকিরাপুল, হোটেল নুরানী বিল্ডিং, মতিঝিল এবং মেসার্স মারিয়া ওভারসিজ (আরএল-৫৭২), ইস্টার্ন ভিউ (৪র্থ তলা), রম্নম নং-১০, ডিআইটি এঙ্টেনশন রোড, ৫০ নয়া পল্টনের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। কতর্ৃপক্ষের সঙ্গে অসদাচরণ ও শর্ত ভঙ্গের জন্য বহির্গমন অধ্যাদেশ ১৯৮২-এর ১৪ ধারা অনুযায়ী রিক্রুটিং এজেন্সি দুটির লাইসেন্স বাতিলসহ সমুদয় জামানত বাজেয়াফত করা হয়েছে।
বাজেয়াফতের আদেশ প্রত্যাহার ॥ রিক্রুটিং এজেন্সি 'মেসার্স শাহজাহান ওভারসিজ (আরএল-৮৮১)' এর লাইসেন্স বাতিল ও জামানত বাজেয়াফতসংক্রানত্ম আদেশটির কার্যকারিতা প্রত্যাহার করা হয়েছে। _তথ্য বিবরণী।