মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারী ২০১১, ৫ মাঘ ১৪১৭
ভূমি জটিলতায় আবারও পেছাচ্ছে বিবিয়ানা-১ প্রকল্পের চূড়ান্ত চুক্তি
জনকণ্ঠ রিপোর্ট ॥ ভূমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতায় বিবিয়ানা-১ প্রকল্পের চূড়ান্ত চুক্তি পিছিয়ে যাচ্ছে। চুক্তি সম্পাদনের জন্য সামিট পাওয়ারকে এক মাসের সময় বেঁধে দিয়ে নোটিস দিলেও জমি সংক্রানত্ম জটিলতা নিরসন না হওয়া পর্যনত্ম সামিট চুক্তিতে অসম্মতি জানিয়েছে। ফলে এক মাসের স্থলে দুই মাস পেরিয়ে গেলেও বিবিয়ানা-১ ৪৫০ মেগাওয়াট বিদু্যত কেন্দ্রর চূড়ানত্ম চুক্তি হয়নি।
পাওয়ারসেল সূত্র জানিয়েছে, সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে সামিট পাওয়ারকে বিবিয়ানা-১ এর চুক্তি করার জন্য ১৪ নবেম্বর পাওয়ারসেল (এলওয়াই) নোটিস দেয়। দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী এলওয়াই দেয়ার এক মাসের মধ্যে চুক্তি সম্পাদন করার বিধান। হিসেব অনুযায়ী ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে বিবিয়ানা-১ এর চুক্তি হওয়ার কথা থাকলেও রবিবার পর্যনত্ম সামিটের সঙ্গে পাওয়ারসেলের চুক্তি হয়নি।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সামিট গ্রম্নপের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আজিজ খান জনকণ্ঠকে বলেন, কেন্দ্র নির্মাণ এবং গ্রিডনির্মাণের জন্য বিদু্যত উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এবং গ্রিড লাইন নির্মাণের জন্য পাওয়ারগ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) যে জমি প্রয়োজন তার কোনটাই তাদের দখলে নেই। জমি দখলে না আসা পর্যনত্ম চুক্তি করে কোন লাভ হবে না। আজিজ খান বলেন, আমাদের অন্যের যায়গা বুঝিয়ে দিলেই তো আমরা কাজ করতে পারব না। এখনও এ নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
সূত্রমতে, বিবিয়ানা-১ প্রকল্পে ৪৫০ মেগাওয়াটের বিদু্যত কেন্দ্র নির্মাণের জন্য হবিগঞ্জের বিবিয়ানায় পারকুল, বাটা এবং মজলিসপুর মৌজায় ৪২ একর ভূমি অধিগ্রহণ করা হয়। এরমধ্যে ১১ একর সরকারী জমি বাকিটা ব্যক্তিমালিকানার। প্রকল্পে ৪০ থেকে ৫০টি পরিবারকে ৰতিপূরণ দেয়া হচ্ছে। জমি বাবদ এক কোটি ৮১ লাখ টাকা ৰতিপূরণ দেয়া হয়। তবে ৰতিগ্রসত্ম ব্যক্তিরা প্রতি শতক জমির জন্য ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা দাবি করছে। পিডিবির পৰ থেকে এখন কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করতে গেলে স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের কাজ করতে দিচ্ছে না।
পিডিবির স্থানীয় সহকারী প্রকৌশলী ফজলুল হক মোলস্না এ প্রসঙ্গে জানান, কেন চুক্তি হচ্ছে না তা বলতে পারব না, কিন্তু স্থানীয়রা তাদের কাঁটাতারের বেড়া দিতে দিচ্ছে না। জেলা প্রশাসন থেকে জমি বুঝিয়ে দেয়ার পরও সমস্যা রয়ে গেছে। এ বিষয়ে একাধিক বৈঠক হলেও ফলপ্রসূ কোন সিদ্ধানত্ম হয়নি। ৰতিগ্রসত্মদের বাড়তি দাবি মানার বিষয়টি বিদু্যত মন্ত্রণালয়ের বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান তিনি।
দরপত্রের শর্ত মতে, পিডিবি জমি অধিগ্রহণ করে সামিটকে বুঝিয়ে দেয়ার পর তারা কেন্দ্র নির্মাণের কাজ শুরম্ন করবে। এৰেত্রে পিডিবি জমিতে কোন স্থাপনা থাকলে তা উচ্ছেদ করে পুরো জমিতে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানকে বুঝিয়ে দেবে। এৰেত্রে ভূমি উন্নয়ন, রাসত্মা নির্মাণ সব কিছু সামিট নিজেই করবে।
এ প্রসঙ্গে হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ফারম্নক আহম্মেদ বলেন, আমরা গত ৬ তারিখে পিডিবিকে জমিটি বুঝিয়ে দিয়েছি। এখন তারা কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ করছেন। জমি বুঝিয়ে দেয়ার পর পিডিবির কেউ তাদের কাছে কোন অভিযোগ করেননি, অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নেব। জমি নিয়ে কোন সমস্যা আছে কিনা জানতে চাইলে ফারম্নক আহম্মেদ বলেন, আমরা সরকারী পদ্ধতি অনুযায়ী জমির মূল্য নির্ধারণ করলেও মালিকরা বেশি দাবি করেছিল। এ নিয়ে মাস ছয় আগে বিদু্যত সচিবের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। তখন তাদের অতিরিক্ত অর্থ দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছিলেন বিদু্যত সচিব।
পিডিবি সূত্র বলছে, এভাবে নানা কারণে দেশে বিদু্যত কেন্দ্র নির্মাণ বিলম্বিত হয়। আর কেন্দ্র নির্মাণের বিলম্বের কারণে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পের বিদু্যত পাওয়া যায় না। যাতে দুর্ভোগ পোহাতে হয় সকলকে। যেহেতু বিদু্যত কেন্দ্রটি আইপিপিতে তাই এখান থেকে ভাড়াভিত্তিক বিদু্যত কেন্দ্র থেকে অনেক কমদামে বিদু্যত পাওয়া যাবে। সঙ্গতকারণে বিদু্যত কেন্দ্র নির্মাণে আরও গতিশীল হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
পিডিবি চেয়ারম্যান এসএম আলমগীর কবির এ প্রসঙ্গে বলেন, জমির আগেও কিছু বিষয় আলোচনার প্রয়োজন ছিল তা করা হচ্ছে। এখন বিষয়গুলো প্রায় চূড়ানত্ম পর্যায়ে রয়েছে। শীঘ্রই চুক্তি করতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। আলমগীর কবির বলেন, জেলা প্রশাসন জমির দখল দিলেও মালিকরা অতিরিক্ত অর্থ দাবি করেছে। আমরা জেলা প্রশাসনকে বিষয়টি সমাধান করতে বলেছি।
একই বিষয়ে পাওয়ারগ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল আলম বলেন, গ্রিড নির্মাণের জন্য যে জমির প্রয়োজন তার অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া চলছে। প্রকল্পের জন্য জমি কোন সমস্যা হবে না উলেস্নখ করে তিনি বলেন, কেন্দ্র নির্মাণের পর বিবিয়ানায় সামিট সাবস্টেশন নির্মাণ করবে আর ঢাকার পাশে পিজিসিবি সাবস্টেশন নির্মাণ করবে। পিজিসিবি ইতোমধ্যে গ্রিড নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করেছে বলে জানান তিনি।
সামিট বর্তমান সরকারের সময় ছোট বড় মিলিয়ে ৫ বিদু্যত কেন্দ্র নির্মাণের কাজ পেয়েছে। এরমধ্যে মদনগঞ্জে-১০০ মেগাওয়াটের একটি বিদু্যত কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ চলছে। আগামী মার্চে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্রটির উৎপাদনে আসার কথা রয়েছে। এছাড়া অন্য কেন্দ্রগুলো নির্মাণের জন্য এখনও চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি।