মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ১৮ জানুয়ারী ২০১১, ৫ মাঘ ১৪১৭
সীমান্তে হত্যা বন্ধের দাবি জানাবে বাংলাদেশ
আজ দু'দেশের শীর্ষ কর্মকর্তা পর্যায়ের বৈঠক
কূটনৈতিক রিপোর্টার ॥ সীমান্তে হত্যা বন্ধে ভারতের কাছে দাবি জানাবে বাংলাদেশ। আজ মঙ্গলবার থেকে দুই দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের পৰ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই দাবি তুলে ধরা হবে। এ ছাড়া দুই দেশের সীমানত্মে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সমস্যা এবং সন্ত্রাসী হামলা মোকাবেলাসহ নিরাপত্তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হবে। প্রথমদিনে মঙ্গলবার সকালে জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রম্নপ অব সিকিউরিটিজ শীর্ষক যুগ্ম সচিব পর্যায়ের কর্মকতর্ারা বৈঠক করবেন। ১৯ ও ২০ জানুয়ারি স্বরাষ্ট্র সচিবরা বৈঠক করবেন। বৈঠকে বাংলাদেশের পৰে নেতৃত্ব দেবেন স্বরাষ্ট্র সচিব আবদুস সোবহান এবং ভারতের পৰে নেতৃত্ব দেবেন দেশটির স্বরাষ্ট্র সচিব জি কে পিলস্নাই। ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে ভারতের নয়াদিলস্নীতে দুই দেশের স্বরাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের সর্বশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ফুলবাড়ী উপজেলার অননত্মপুর সীমানত্মে গত ৭ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ফেলানী (১৫) নামে ওই কিশোরীকে হত্যা করে ভারতীয় সীমানত্ম রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। হত্যার পর তার লাশ কাঁটাতারের আটকে রাখা হয়। বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে এই ছবি প্রকাশের পর তোলপাড় শুরম্ন হয়। এ ঘটনা পর কূটনৈতিক পর্যায়ে নয়াদিলস্নীর কাছেও আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানায় ঢাকা। ফেলানী নাগেশ্বরী উপজেলার দক্ষিণ রামখানা ইউনিয়নের বানার ভিটা গ্রামের নুরম্নল ইসলাম নূরম্নর মেয়ে। নূরম্ন ভারতের দিলস্নীতে কাজ করেন। তার সঙ্গে সেখানে থাকতেন ফেলানী। দেশে বিয়ে ঠিক হওয়ায় বাবার সঙ্গে ফেরার পথে বিএসএফের হামলার শিকার হয় সে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সচিব পর্যায়ের বৈঠকের শুরম্নতেই বিএসএফের হাতে ফেলানি হত্যাকা-ের ঘটনা তুলে ধরে সীমানত্ম হত্যা বন্ধের দাবি জানাবে বাংলাদেশ। মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের হিসাব মতে, ২০১০ সালে বাংলাদেশ-ভারত সীমানত্মে বিএসএফের হাতে ৭৪ জন নিরীহ বাংলাদেশীর মৃতু্য হয়েছে। এর মধ্যে ৫০ জনকে গুলি করে এবং ২৪ জনকে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়। এ ছাড়া আরও ৪৩ বাংলাদেশীকে বিএসএফ অপহরণ করেছে বলে মানবাধিকার সংগঠনটি জানিয়েছে। দুই দেশের মধ্যে প্রায় চার হাজার কিলোমিটারের বেশি সীমানত্ম এলাকায় চলতি বছরও বিএসএফ নিরীহ বাংলাদেশীদের গুলি করে হত্যা করেছে। গত বছরের জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরকালে হাসিনা-মনমোহন স্বাৰরিত যৌথ ইশতেহারে দুই দেশের সীমানত্মরৰী বাহিনীর সর্ব্বোচ সংযম প্রদর্শনের ওপর গুরম্নত্বারোপ করেন। এর পরও সীমানত্মে নিয়মিত হত্যাকা-ের ঘটনা ঘটছে।
সূত্র জানায়, এর বাইরে মাদক অবৈধ ব্যবহার ও চোরাচালান বন্ধ, সন্ত্রাস দমন, সীমানত্ম নিরাপত্তা, মানবপাচার বন্ধ, সীমানত্মের অপদখলীয় ভূমি উদ্ধার, ছিটমহল সমস্যা সমাধান করাসহ বিভিন্ন বিষয় রয়েছে আলোচ্যসূচীতে। বিশেষ করে সন্ত্রাস দমন এবং মাদক চোরাচালান রোধে দুই দেশের সীমানত্ম রৰী বাহিনীর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো এবং সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করার ওপর জোর দেয়া হবে। এ ছাড়া যৌথ সীমানা ওয়ার্কিং গ্রম্নপের বৈঠকের আলোকে অপদখলীয় ভূমি ও ছিটমহল সমস্যা সমাধানের উপায় নিয়েও আলোচনা হবে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কুচবিহার জেলার অভ্যনত্মরে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম জেলার ১৮টি এবং লালমনিরহাট জেলার ৩৩টিসহ মোট ৫১টি ছিটমহল রয়েছে। এই ছিটমহলগুলোর আয়তন প্রায় ১১০ দশমিক শূন্য ২ একর। ছিটমহলগুলোতে প্রায় এক লাখ ৭০ হাজার লোক বাস করে। অন্যদিকে বাংলাদেশের অভ্যনত্মরে ভারতের কুচবিহার জেলার ১১১টি ছিটমহল রয়েছে। যার আয়তন প্রায় ১৭ হাজার ১৫৮ দশমিক শূন্য পাঁচ একর। ছিটমহলের জনসংখ্যা এক লাখ ৩০ হাজার। এর মধ্যে কুড়িগ্রাম জেলায় ১২টি, লালমনিরহাট জেলায় ৫৯টি, পঞ্চগড় জেলায় ৩৬টি এবং নীলফামারী জেলায় ৪টি ভারতীয় ছিটমহল রয়েছে। ১৭৭৪ সালের স্বাৰরিত মুজিব-ইন্দিরা চুক্তিতে ছিটমহলগুলোর পরস্পরের সঙ্গে একীভূত করার কথা বলা হয়েছিল। ভারতের পার্লামেন্টে চুক্তিটি পাস না হওয়ার ছিটমহল নিয়ে পারস্পরিক বিরোধ এখনও রয়ে গেছে।
জরিপ অধিদফতরের হিসাব অনুযায়ী, ভারতের প্রায় ২ হাজার ৬৮৫ দশমিক ৬২ একর জমি বাংলাদেশের এবং বাংলাদেশের প্রায় ৩ হাজার ২১৮ দশমিক ২০ একর জমি ভারতের অপদখলে রয়েছে। ইন্দিরা-মুজিব চুক্তির অনুচ্ছেদ-২ অনুযায়ী উভয় দেশের অপদখলীয় এলাকা সংশিস্নষ্ট দেশের কাছে ছেড়ে দেয়ার কথা বলা হয়েছে। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটারের বেশি অভিন্ন সীমানত্মের মধ্যে সাড়ে ছয় কিলোমিটারের মতো অচিহ্নিত সীমানা রয়েছে। এর মধ্যে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার লাঠিটিলায় তিন কিলোমিটার, ফেনীর মহুরীরচরে দুই কিলোমিটার এবং লালমনিরহাটের বেরুবাড়ির দইখাটায় দেড় কিলোমিটার অচিহ্নিত সীমানা রয়েছে।