মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০১৪, ১৭ অগ্রহায়ন ১৪২১
সাউথ সাউথ এ্যাওয়ার্ড লাভে সংসদে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন
সংসদ রিপোর্টার ॥ জাতিসংঘ কর্তৃক সম্মানজনক ‘সাউথ সাউথ কো-অপারেশন ভিশনারী এ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করায় রবিবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সর্বসম্মতিক্রমে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেছেন, নির্বাচনে না এসে এখন ভুল বুঝতে পেরে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া এখন নির্বাচনের জন্য চেঁচামেচি করছেন। দেশে জনসমর্থন না পেয়ে এখন বিদেশীদের কাছে ধরনা দিচ্ছেন। কিন্তু তিনি যতই হুমকি-ধামকি কিংবা ষড়যন্ত্র করুক, আগামী নির্বাচনের জন্য খালেদা জিয়াকে ৫ বছরই অপেক্ষা করতে হবে। রাষ্ট্রকে উনি হামলা করলে রাষ্ট্র কর্তৃক তাঁকে আক্রান্ত হতেই হবে।
জাতীয় সংসদের স্পীকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে রবিবার সংসদ অধিবেশনে আনিত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনা করতে গিয়ে তাঁরা এসব কথা বলেন। জাতিসংঘ কর্তৃক ‘সাউথ সাউথ কো-অপারেশন ভিশনারী এ্যাওয়ার্ড’ প্রাপ্ত হয়ে দেশ ও জাতির জন্য বিরল সম্মান অর্জন করায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন সরকারী দলের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস। এর ওপর আলোচনা শেষ সর্বসম্মতিক্রমে প্রস্তাবটি পাস হয় এবং টেবিল চাপড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা।
সাধারণ আলোচনায় অংশ নেন সরকারী দলের বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, অধ্যাপক আলী আশরাফ, এ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু, মাহবুব উল আলম হানিফ, উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ, ড. আবদুর রাজ্জাক, লে. কর্নেল (অব) ফারুক খান, ড. হাছান মাহমুদ, পংকজ দেবনাথ, এ্যাডভোকেট তারানা হালিম, ফজিলাতুন্নেছা বাপ্পি, ওয়ার্কার্স পার্টির মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, জাসদের মইনউদ্দীন খান বাদল, বিরোধীদলীয় চীফ হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরী, জাতীয় পার্টির রুহুল আমিন হাওলাদার, কাজী ফিরোজ রশিদ, তরিকত ফেডারেশনের নজিবুল বশর মাইজভা-ারী, বিএনএফের আবুল কালাম আজাদ, স্বতন্ত্র সদস্য হাজী মোহাম্মদ সেলিম ও ডাঃ রুস্তম আলী ফরাজী।
শিল্পমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, উনি বলেন দেশে নাকি কোনই উন্নয়ন হয়নি! উনি কোন গণতান্ত্রিক দেশে বসবাস করেন? বিএনপি নেত্রী না দেখলেও দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবেই। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ সারাবিশ্বের কাছে উন্নয়নশীল সমৃদ্ধিশালী দেশের মর্যাদা পেয়েছে। ’৭২ সালে সারাবিশ্বের মধ্যে দ্বিতীয় দরিদ্র দেশ ছিল, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজ সেই বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, গণতন্ত্রের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর অবিচল আস্থা আগামীতেও দেশকে উন্নয়নের স্বর্ণশিকড়ে উন্নীত করবে। তথ্যপ্রযুক্তিতে বাংলাদেশ আজ সারাবিশ্বের কাছে অগ্রগামী দেশ হিসেবে পরিচিত। আমাদের উন্নয়ন প্রক্রিয়া সারাদেশে বিস্তৃত হওয়ার কারণেই বিশ্বমন্দার মধ্যেও আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পেরেছি। অসাধারণ অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির পথে আজ বাংলাদেশ। প্রধানমন্ত্রীর এ বিশাল অর্জন শুধু প্রধানমন্ত্রীর নয়, গোটা দেশের মানুষের।
কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে বসে যারা পাকিস্তানের স্বপ্ন দেখেন, তাদের নেতৃত্বে দেশ কোনদিন এগিয়ে যেতে পারে না। ’৭৫-এর পর থেকে বিপরীতমুখী অবস্থানে থেকে ক্ষমতা দখলকারীদের বাংলাদেশকে কিভাবে চুষে খাওয়া যায়, তারই প্রতিযোগিতা চলেছে। এ কারণে বিগত সরকারগুলোর সময় বাংলাদেশ কোন অর্জন বা পুরস্কার অর্জনের কথা তো দূরের কথা, তিরস্কার পাওয়ারও যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। শেখ হাসিনা দেশকে সঠিক পথে পরিচালিত করছেন বলেই বাংলাদেশ সারাবিশ্বের কাছ থেকে পুরস্কার ও সুনাম অর্জন করছে। এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ, এগিয়ে যাবেই।
ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও বিমানমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বাংলাদেশের জন্য বিরল এ সম্মান অর্জন এনে দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তাঁর যোগ্য নেতৃত্ব, প্রজ্ঞা ও দক্ষ রাষ্ট্র পরিচালনার কারণেই বাংলাদেশ একটির পর একটি আন্তর্জাতিক সম্মান অর্জন করছে।
বিরোধীদলীয় চীফ হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন না হলে গণতন্ত্রের কী হতো? হাজার হাজার মানুষ মারা যেত, দেশ ধ্বংস হয়ে যেত, গণতন্ত্র হরণ হতো। জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে বলেই অগণতান্ত্রিক শক্তি ক্ষমতায় আসতে পারেনি। বিএনপি নির্বাচনে না এসে এখন ভুল বুঝতে পেরেছে, নির্বাচনের জন্য চেঁচামেচি করছে। কিন্তু বিএনপিকে আগামী ৫ বছর নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
জাসদের মইন উদ্দীন খান বাদল প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, খালেদা জিয়া না জেতা পর্যন্ত কোন নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে কি না, জানি না। রাষ্ট্রকে হামলা করলে রাষ্ট্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করবেই। গণতন্ত্র আছে বলেই খালেদা জিয়া রাষ্ট্রকে হামলা করলে তাঁকে আক্রান্ত হতেই হবে, মামলারও মুখোমুখি হতে হবে। আপনাকে ৫ বছর ধৈর্য ধরতেই হবে।
সরকারী দলের মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, খালেদা জিয়া জনগণের কাছে আস্থা হারিয়ে আজ বিদেশীদের কাছে ধরনা দিচ্ছেন। সংলাপ বিষয়ে তিনি বলেন, মানুষ আর সংলাপ চায় না। বাংলাদেশের মানুষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নত, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে চায়।
জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে জাতীয় পার্টি ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে না আসলে দেশের এতো অর্জন কোনদিনই সম্ভব হতো না। সংঘাত-সংঘাত, সংসদ বর্জন, অশোভন আচরণ ও ফাইল ছোড়াছুড়ির রাজনীতিতে জাতীয় পার্টি বিশ্বাস করে না। এ দেশের কল্যাণের জন্য সরকার ও বিরোধী দল একসঙ্গে কাজ করব।
সরকারী দলের লে. কর্নেল (অব) ফারুক খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের জন্য সুনাম অর্জন করছেন, পুরস্কার নিয়ে আসছেনÑ ঠিক তখন বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া দেশকে অগ্রগতির মিছিল থেকে পিছিয়ে দিতে নানা ষড়যন্ত্র করছে। কিন্তু কোন ষড়যন্ত্রই সফল হবে না।
বিএনএফের আবুল কালাম আজাদ, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন না হলে দেশে গণতান্ত্রিক সরকার থাকত না। বিএনপি সেটাই চেয়েছিল, কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছে। এই নির্বাচন না হলে সিপিএ, আইপিইউ বা সাউথ সাউথ পুরস্কার অর্জিত হতো না। শেখ হাসিনা চ্যালেঞ্জ নিয়েই নির্বাচন করে গণতন্ত্রকে রক্ষা করেছেন।
তারানা হালিম প্রশ্ন রেখে বলেন, দেশের ক্ষতি করে, ধ্বংস করে কী ভাবে খালেদা জিয়া দেশনেত্রী হোন? ক্ষমতার লোভে উনি দেশকে বিশ্বের কাছে ছোট করছেন। দেশকে পিছিয়ে দিতে জঙ্গীদের সঙ্গে নিয়ে খালেদা জিয়া যে অশুভ খেলা শুরু করেছে, তা কোনদিন সফল হবে না।