মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০১৪, ১৭ অগ্রহায়ন ১৪২১
জঙ্গী অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ভারত লেজার ওয়াল ও ফ্লাডলাইট নির্মাণ করবে
মিয়ানমারই এখন জঙ্গীদের নিরাপদ আশ্রয়
শংকর কুমার দে ॥ ভারতে জঙ্গীদের বিরুদ্ধে ধরপাকড় হলেই জঙ্গীরা চলে যাচ্ছে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে। বাংলাদেশে জঙ্গীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে শেখ হাসিনার সরকার। এ কারণে জঙ্গীরা এখন চলে যাচ্ছে মিয়ানমারে। ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ধরনের মতামত ব্যক্ত করে। জঙ্গী অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ভারত সীমান্তে অদৃশ্য দেয়াল অর্থাৎ লেজার ওয়াল ও ফ্ল্যাড লাইট নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণের পরিকল্পনা করেছে। গোয়েন্দা সূত্র এ খবর দিয়েছেন।
সীমান্তে অদৃশ্য দেয়াল বা লেজার ওয়াল এমনই প্রযুক্তি যে হঠাৎ করে হন্তদন্ত হয়ে কেউ সীমান্ত অতিক্রম করতে চাইলে কিছুই দেখতে পাবেন না, অথচ দেয়ালে ধাক্কা খাবেন। এমন এক প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যবহার করে সীমান্তে জঙ্গী অনুপ্রবেশ ঠেকানোর পরিকল্পনা নিয়েছে ভারত। ভারতের কলকাতায় সফররত বাংলাদেশের সাত সদস্যের তদন্ত প্রতিনিধি দল বর্ধমান খাগড়াগড়ের জেএমবির বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা তদন্ত শেষে আজ ঢাকায় ফিরে এসেছে বলে জানা গেছে।
রবিবার ভারতের গুয়াহাটিতে ডিজিপি সম্মেলন হতে যাচ্ছে। এই সম্মেলনে বক্তব্য রাখবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এতে উত্তর-পূর্বের সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা উপস্থিত থাকবেন। পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি অসমসহ উত্তর-পূর্বে যেভাবে মৌলবাদী ও জিহাদী শক্তি ঘাঁটি মজবুত করেছে তা ধ্বংসে কেন্দ্রীয় সরকারের রণনীতি কি হবে সেই বিষয়ে সে দেশের প্রধানমন্ত্রী সুস্পষ্ট বার্তা দিতে পারেন বলে গোয়েন্দা সূত্রগুলো আভাস দিয়েছেন।
এদিকে বর্ধমান খাগড়াগড়ে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনার প্রেক্ষাপটে সীমান্তে জঙ্গী তৎপরতা রোধে কঠোর পদক্ষেপ করার ইঙ্গিত দিয়েছে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশের সফররত সাত সদস্যের তদন্ত প্রতিনিধি দলকেও ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পদক্ষেপের কথা জানিয়ে দেয়া হয়। দুই দেশই একসঙ্গে জঙ্গী প্রতিরোধে করার বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। জঙ্গীদের জিজ্ঞাসাবাদ, পলাতক জঙ্গীদের হদিসের সন্ধানসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বিনিময় করেছেন বাংলাদেশ ও ভারতের গোয়েন্দারা।
ভারতের গোয়েন্দারা মনে করছেন, বাংলাদেশ থেকে জঙ্গীরা তাড়া খেয়ে গা ঢাকা দিচ্ছে মিয়নামারে। মিয়ানমারই জঙ্গীদের এখন নিরাপদ আশ্রয়। আগামীতে বাংলাদেশের মতোই মিয়ানমারও যাতে জঙ্গীবিরোধী অবস্থান নেবে বলে আশা করছে ভারতের গোয়েন্দারা। পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতে অনুপ্রবেশ রুখতে অদৃশ্য দেয়াল বা লেজার ওয়াল, বেড়া ও ফ্ল্যাড লাইট বসানোর কাজ দ্রুত শেষ করা হবে বলে জানিয়েছে কলকাতায় সফররত বাংলাদেশের সাত সদস্যের প্রতিনিধি দলকে।
বাংলাদেশের নাগরিক জঙ্গী সাজিদ ওরফে রহমত উল্লাহ শেখ ওরফে নারায়ণগঞ্জের মাসুদ রানা ওরফে মাসুম, ভারতের নাগরিক জঙ্গী আবদুল হাকিম, মিয়ানমারের নাগরিক জঙ্গী খালিদ মুহম্মদকে বাংলাদেশ ও ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার জিজ্ঞাসাবাদ করে ত্রিদেশীয় জঙ্গী যোগাযোগের নেটওয়ার্ক পেয়েছে। বাংলাদেশের জেএমবির জঙ্গীরা এখানে ধাওয়া খেয়ে পশ্চিমবঙ্গে ঘাঁটি গাড়ার প্রমাণ দিচ্ছে বর্ধমান খাগড়াগড়ের বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাতে। আর ভারতের হায়দ্রাবাদ থেকে মিয়ানমারের নাগরিক জঙ্গী খালিদ মুহাম্মদের সঙ্গে জঙ্গীদের নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় মোবাইল ফোনের কললিস্ট পরীক্ষায়।
ভারতেই ৭০ এর বেশি জঙ্গী সংগঠন ॥ ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ বলেছেন, ভারতেই রয়েছে ৭০ এর বেশি জঙ্গী সংগঠন। জঙ্গীদের অনুপ্রবেশ দুশ্চিন্তার কারণ। জঙ্গীদের গোপন তৎপরতা নিত্য ঘটছে। এটা ঠেকানো একটি চ্যালেঞ্জ। জঙ্গী তৎপরতায় অন্যান্য অপরাধ ঘটছে।
লেডি হিট স্কোয়াড ॥ ভারতের কলকাতায় সফররত বাংলাদেশের সাত সদস্যের প্রতিনিধি দলটি কলকাতায় গ্রেফতার হওয়া নারায়ণগঞ্জের মাসুদ রানা ওরফে সাজিদকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার ছক সম্পর্কে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন বাংলাদেশের জেএমবির দুর্ধর্ষ জঙ্গী ও আত্মঘাতি (সুইসাইড স্কোয়াড) দলের সদস্যদের সম্পর্কে। ‘লেডি হিট স্কোয়াড’ স্কোয়াড গঠন করে বর্ধমানের খাগড়াগড়ের প্রশিক্ষণ দিয়েছিল রাজশাহীর নারী ও শাহনেওয়াজ ও জিন্নাতুল্লা। এই দুই নারী জঙ্গী তালেবানি আদর্শে বিশ্বাসী নারী মানববোমা হওয়ার প্রশিক্ষণ দিয়েছিল।
বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল ফিরে এসেছে ॥ জঙ্গীবাদ ও সন্ত্রাস দমন সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদানে ভারতে যাওয়া বাংলাদেশের ৭ সদস্যের প্রতিনিধি দল ঢাকা ফিরেছে। রবিবার সকাল ১০টার দিকে জেড এয়ার ওয়েজের একটি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তাঁরা।