মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
সোমবার, ১ ডিসেম্বর ২০১৪, ১৭ অগ্রহায়ন ১৪২১
ইইউর আস্থা অর্জনে যৌথ কমিশন কার্যকরের উদ্যোগ
বাংলাদেশের গার্মেন্টসের ৬০% ইউরোপের বাজারে রফতানি হয়
এম শাহজাহান ॥ অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগসহ নানা খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের যৌথ অর্থনৈতিক কমিশন কার্যকর করার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। বাংলাদেশের রফতানির সবচেয়ে বড় বাজার হচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। কিন্তু রানা প্লাজা ধস ও তাজরীন গার্মেন্টসে ভয়াবহ অগ্নি দুর্ঘটনার পর ইইউ অর্থনৈতিক বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশকে চাপ দিয়ে আসছে। এক সময় রফতানিতে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা স্থগিতেরও ঘোষণা দেয় ইইউ। এই সঙ্কট দূর করে ইইউ’র আস্থা অর্জনে এবার যৌথ অর্থনৈতিক কমিশন কার্যকর করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকার ও ইউরোপীয়ান কমিশনের মধ্যে উন্নয়ন, বাণিজ্যিক, পরিবেশ, অর্থনৈতিক, আঞ্চলিক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, তথ্য, সংস্কৃতি ও যোগাযোগ এবং মানব সম্পদ উন্নয়ন বিষয়ে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ ও ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে গত ২০০০ সালের ২২ মে একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী যৌথ কমিশনের কাজের সহায়তা, প্রকল্প প্রণয়ন এবং প্রকল্পের কার্যক্রম বাস্তবায়ন সমন্বয়ের লক্ষ্যে তিনটি বিশেষায়িত সাব গ্রুপ সুশাসন ও মানবাধিকার, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং পারস্পরিক উন্নয়ন সহযোগিতা গঠিত হয়। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে ইইউতে বাংলাদেশের রফতানি বাড়লেও আর বাণিজ্য বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে। এ কারণে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে ঢাকায় ৭ম বারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের বৈঠক।
জানতে চাইলে এ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ জনকণ্ঠকে বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রফতানি বাজার হচ্ছে ইইউ। ইইউ’র ২৭টি দেশে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, চিংড়িসহ বিভিন্ন পণ্য রফতানি হচ্ছে। শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা দিয়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রেখেছে ইইউ। এ কারণে আগামী বছরের শুরুতে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগসহ নানা খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ ইউরোপীয় ইউনিয়নের যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের বৈঠক আহ্বান করা হবে। ওই বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাবনা দেয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। আশা করছি, যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের বৈঠকের পর ইইউ’র সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে।
এদিকে, বিভিন্ন কারণে ইইউসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এতদিন যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়েছিল। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বাণিজ্যিক সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এ কমিশন ব্যাপক ভূমিকা রেখে আসছিল। বেশ কয়েকটি কমিশন বৈঠক আয়োজন করে উল্লেখযোগ্য সাফল্যও আসে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) একটি সূত্র জানিয়েছে, এ কমিশনের কার্যক্রম স্থিমিত হওয়ার অন্যতম কারণ আর্থিক অনটন। ‘রুলস অব বিজনেস’ অনুযায়ী যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করা এবং দেশের বৃহত্তর স্বার্থ বজায় রাখা হয়। আর এ যৌথ অর্থনৈতিক কমিশন-এর সুফলও ভোগ করে আসছিল বাংলাদেশ। ইউরোপীয় দেশগুলো বাংলাদেশ থেকে চিংড়ি আমদানি বন্ধ করে দিলেও এ কমিশনে বৈঠকের ফলে আবার তারা বাংলাদেশ থেকে চিংড়ি আমদানি শুরু করে। অপরদিকে এ কমিশনের কারণে ইন্দোনেশিয়ায় বাংলাদেশ সরকারের কর্মকর্তাদের জন্য সে দেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে ভিসা ব্যবস্থা সহজ করা হয়েছে। সর্বপ্রথম ২০০৮ সালের এপ্রিল মাসের ৭-৮ তারিখে সৌদি আরবের সঙ্গে যৌথ কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় সৌদি আরব বাংলাদেশ থেকে নতুন শ্রমিক নেয়ার আশ্বাস দেয়। আশ্বাস মোতাবেক তারা শ্রমিকও নেয়া শুরু করে। ২০০৯ সালের ২৮ জুলাই চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের যৌথ কমিশন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে চীন বাংলাদেশের বেশ কিছু নতুন প্রকল্পে অর্থায়ন করার প্রতিশ্রুতি দেয়। এর অংশ হিসেবে চীন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন টেলিটকের থ্রিজি প্রযুক্তি চালুকরণ এবং টু পয়েন্ট ফাইভজি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ প্রকল্প, সিলেটের শাহজালাল সার কারখানা প্রকল্প ও দ্বিতীয় মেঘনা সেতু নির্মাণসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ব্রিজ নির্মাণে আর্থিক সহায়তা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। এছাড়া ২০১০ সালের ৩১ মে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাংলাদেশের যৌথ কমিশন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক সহায়তা বৃদ্ধি, চিংড়ি রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইউইর অর্থায়নে চলমান প্রকল্পের বাস্তবায়ন সন্তোষজনক হলে নতুন প্রকল্পগুলোর অর্থায়ন করার প্রতিশ্রুতি দেয়।
চার শর্তে ইউরোপে জিএসপি সুবিধা বহাল ॥ চার অঙ্গীকার পূরণের শর্তে ইউরোপের বাজারে জিএসপি সুবিধা বহাল রয়েছে। সরকারকে এ অঙ্গীকারগুলো পূরণ করতে হবে। চার শর্তের বাইরে আরও কয়েকটি নির্দেশনা রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের। তবে সরকার ও পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তারা বলছেন, অনেক শর্ত উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত ছাড়া বাংলাদেশের পক্ষে পরিপালন করা সম্ভব নয়। এজন্য আরও সময় প্রয়োজন। ইউরোপীয় ইউনিয়নকে দেয়া গুরুত্বপূর্ণ চার অঙ্গীকার হচ্ছে-চলতি বছরের মধ্যে শ্রম আইনের সংশোধন ও পাশাপাশি এ আইন প্রয়োগের নিশ্চয়তা বিধান। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার বিদ্যমান নীতি অনুযায়ী এ সম্পর্কে প্রতিবেদন। আইএলও কনভেশন এ্যাক্ট ৮৭ ও ৯৮ ধারার সঙ্গে সংশোধিত শ্রম আইনের সামঞ্জস্যতা রক্ষার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার পরামর্শ গ্রহণ।