মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৩, ২৪ অগ্রহায়ন ১৪২০
শিল্পকলার আয়োজনে নৃত্য-গীত ও কবিতায় নবান্ন উৎসব
সংস্কৃতি সংবাদ
স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর আয়োজনে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো নবান্ন উৎসব। শনিবার হেমন্তের সন্ধ্যায় হালকা শীতের আবহে একাডেমীর উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। কণ্ঠশিল্পীর মায়াবী গানের সুর, মুদ্রার তালে নূপুরের ঝংকার তুলে নৃত্যশিল্পীর নৃত্যশৈলীর প্রদর্শন এবং বাকশিল্পীর শিল্পিত উচ্চারণে কবিতাপাঠের মেলবন্ধনে সাজানো হয় নবান্ন উদযাপনের এ আয়োজন। শ্রোতা ও দর্শনার্থীর সরব উপস্থিতিতে মুখরিত হয়ে ওঠে উৎসব প্রাঙ্গণ। আবহমান বাংলা সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত বৈচিত্র্যময় নানা পরিবেশনা দারুণভাবে উপভোগ করেন উৎসবে শামিল হওয়া আনন্দপিপাসু দর্শক-শ্রোতা।
প্রধান অতিথি হিসেবে উৎসব উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি সচিব ড. রণজিৎ কুমার বিশ্বাস। বিশেষ অতিথি ছিলেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সহসভাপতি গোলাম কুদ্দুছ। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন একাডেমীর সঙ্গীত ও নৃত্যকলা বিভাগের পরিচালক সোহরাব উদ্দীন। সভাপতিত্ব করেন একাডেমীর মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী।
পরিবেশনা পর্বের শুরুতে সমবেত সঙ্গীত নিয়ে মঞ্চে আসে রবীন্দ্র সঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের শিল্পীবৃন্দ। অনেক কণ্ঠ এক সুরে গেয়ে যায় ‘কান্না হাসির দোল দোলানো’ ও ‘পৌষ তোদের ডাক দিয়েছে’। ‘হেঁইচা মালো ধান হো’ ও ‘আজ জীবন খুঁজে পাবি’ গান দুটি সম্মেলক কণ্ঠে পরিবেশন করে শিল্পকলা একাডেমীর রেপার্টরি সঙ্গীত দল। এ ছাড়াও দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করে বহ্নিশিখা, পঞ্চভাস্বর, গানের দল ভাওয়াইয়া, ঢাকা সাংস্কৃতিক দল, সত্যেন সেন শিল্পী গোষ্ঠী প্রভৃতি। লালন সঙ্গীত গেয়ে শোনান লালন সম্রাজ্ঞী ফরিদা পারভিন। এর বাইরে একক কণ্ঠে গান শোনান মোখলেসুর রহমান মিন্টু, দীপ্তি রাজবংশী, পলি রহমান, ইয়াসমিন আলী, আবু বকর সিদ্দিক ও তপন চৌধুরী। মুনমুন আহমদের পরিচালনায় ‘বারো মাসের ঢোল’ গানের সুরে নৃত্য পরিবেশন করে রেওয়াজ পারফরমার্স স্কুল। কবিরুল ইসলাম রতনের পরিচালনায় ‘বাজে রে বাংলাদেশের ঢোল’ গানের সুরে নৃত্য করে নৃত্যালোক। দীপা খন্দকারের পরিচালনায় দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে দিব্য, এম আর ওয়াসেকের পরিচালনায় নৃত্য পরিবেশন করে নন্দন কলা কেন্দ্র। এ ছাড়াও দলীয় নৃত্য পরিবেশনায় অংশ নেয় নৃত্যাক্ষ, বাংলাদেশ একাডেমী অব ফাইন আর্টস ও স্পন্দন। কবিতার দোলায়িত ছন্দে আবৃত্তি করেন নাসিমা খান বকুল, জালাল উদ্দিন হীরা, রবিশংকর মৈত্রী, তামান্না তিথি, শহিদুল ইসলাম রাজু। সব শেষে সঙ্গীত পরিবেশন করে সময়ের জনপ্রিয় ব্যান্ড দল জলের গান।
বীরমাতা রমা চৌধুরীর একক বইমেলা ॥ সারা জীবন তিনি নিভৃতে-নির্জনে থেকেছেন। খালি পায়ে হেঁটে বিক্রি করেছেন নিজের লেখা বই। তিনি রমা চৌধুরী। আমাদের বীরমাতা, বীরাঙ্গনা। আজীবন মাথানত না করা মহীয়সী এ নারীর একক বইমেলার আয়োজন করেছে আজীবন চট্টগ্রামবাসী। শনিবার সুফিয়া কামাল জাতীয় গণগ্রন্থগারে এ বইমেলার উদ্বোধন হয়। এদিন সকালে নিজের বইমেলার নিজেই উদ্বোধন করেন রমা চৌধুরী। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আরেক বীরমাতা ভাস্কর ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী। তিন দিনের এ মেলা চলবে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত উন্মুক্ত থাকবে।
তারেক মাসুদ উৎসবের সমাপ্তি : বাংলাদেশের চলচ্চিত্র আঙিনায় নবদিগন্তের সূচনাকারী বরেণ্য নির্মাতা তারেক মাসুদের ৫৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার থেকে শুরু হয় তারেক মাসুদ উৎসব। শনিবার ছিল দুই দিনব্যাপী উৎসবের শেষ দিন। শিল্পকলা একাডেমীর চিত্রশালা মিলনায়তনে এ উৎসবের আয়োজন করে তারেক মাসুদ মেমোরিয়াল ট্রাস্ট।
উৎসবের সমাপনী আয়োজনে শুরুতেই ছিল তথ্যচিত্র ‘ফেরা’র ডিভিডির মোড়ক উন্মোচন। এতে অতিথি ছিলেন মানবাধিকারকর্মী খুশি কবির, আরিফুর রহমান ও তথ্যচিত্রটির নির্দেশক প্রসূন রহমান। এরপর প্রদর্শিত হয় তথ্যচিত্রটি। তারেক মাসুদ ও মিশুক মুনীরের অকাল প্রয়াণকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে তথ্যচিত্রটি। তথ্যচিত্র প্রদর্শনী শেষে প্রদান করা হয় ‘তারেক মাসুদ ইয়াং ফিল্ম মেকার্স এ্যাওয়ার্ড’। প্রতিযোগিতায় অন্তর্ভুক্ত দশটি ছবির মধ্যে সেরা চলচ্চিত্রের পুরস্কার জিতে নেয় গাজী কামরুল ইসলাম ইমন নির্মিত ‘ওবলিভিয়াস মোমেন্ট’। এছাড়া বিশেষ পুরস্কার পেয়েছে আসফাক রিজওয়ান নির্মিত গন্তব্য ও শ্রাবন্ত হাবিব পরিচালিত স্মৃতিময় বাড়ির মৃত্যু নামে ছবি দুটি। চলচ্চিত্রকার নাসির উদ্দিন ইউসুফ এবং তারেক মাসুদের স্ত্রী ও তারেক মাসুদ মেমোরিয়াল ট্রাস্টের চেয়ারম্যান ক্যাথরিন মাসুদ পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
‘পাখিদেরও আছে নাকি মন’ ॥ প্রকৃতিবিদ ইনাম আল হকের ‘পাখিদেরও আছে নাকি মন’ বইয়ের প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হলো শনিবার। জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক এমিরেটাস ড. আনিসুজ্জামান। এতে বইটি নিয়ে আলোচনা করেন কথাশিল্পী সেলিনা হোসেন।
সেলিনা হোসেন বলেন, ইনাম আল হক তাঁর লেখনীর মাধ্যমে গ্রন্থটিকে পাখির দ্রোহ, আবেগ ও অস্তিত্ব বর্ণনা করেছেন। তিনটি ভাগে সজ্জিত বইয়ে লেখার পাশাপাশি ছবির ব্যবহার বইটিকে আরও বেশি আকর্ষণীয় করেছে। আর জীবনানন্দ দাশের পাখি ব্যবহার করে লেখক আমাদের পাখির প্রতি আরও বেশি দায়িত্বশীল হওয়ার বার্তা দিয়েছেন।
বাংলাদেশ বার্ড ক্লাব প্রকাশিত এ বইটিতে ২০ হাজার শব্দে লেখা ও ২৭০টি আলোকচিত্রে সজ্জিত হয়েছে পাখিচর্চার বিশটি সরস বিবরণ ও পাখি-বিলুপ্তির করুণ কাহিনী। চার রঙে ছাপা ও শক্ত মলাটে বাঁধানো ১৭০ পৃষ্ঠার বইটির মূল্য ৪৫০ টাকা। পাখিচর্চার পথিকৃৎ কাজী জাকের হোসেন ও ত্রৈমাসিক সম্পাদক মীজানুর রহমানকে বইটি উৎসর্গ করা হয়েছে। বইটির মুখবন্ধ লিখেছেন অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। প্রকাশনা অনুষ্ঠানে শেষে সঙ্গীত পরিবেশন করেন এস আই টুটুল। উল্লেখ্য, ইনাম আল হককে উদ্দেশ করে এস আই টুটুলের রচিত পাখির গান থেকে বইটির নামকরণ করা হয়েছে।
আইজিসিসিতে জলের গানের সঙ্গীতসন্ধ্যা ॥ ভারতীয় হাইকমিশনের ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের (আইজিসিসি) আয়োজনে শনিবার অনুষ্ঠিত হলো ভিন্নধারার গানের দল জলের গানের সঙ্গীতসন্ধ্যা। গানের বৈচিত্র্যময় বাণীর সঙ্গে ভিন্নধর্মী যন্ত্রসঙ্গীতের সুরের তালে তালে শ্রোতাদের বিমোহিত করে তোলে গানের দলটি। আইজিসিসির ছোট গ্রন্থাগার মিলনায়তনে প্রায় দেড় ঘণ্টা সঙ্গীত পরিবেশন করে ব্যান্ড দলটি। ‘বকুল ফুল’ শিরোনামের গানটি দিয়ে শুরু হয় পরিবেশনা। এরপর গানের দলটি একে একে পরিবেশন করে ‘ঝরাপাতা’, ‘কাগজের নৌকা’, ‘এমন যদি হতো’, ‘দূরে থাকা মেঘ’, ‘ফুলেতে ভ্রমর থাকে’, ‘পাতার ছবি’সহ বেশ কিছু গান।