মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
রবিবার, ৮ ডিসেম্বর ২০১৩, ২৪ অগ্রহায়ন ১৪২০
রেললাইন ও সরকারী স্থাপনায় নজরদারি ঊাড়ান
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের প্রতি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ
তৌহিদুর রহমান ॥ রেললাইন ও সরকারী স্থাপনাগুলোতে নজরদারির জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের প্রতি নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সারাদেশের মেয়র, প্রশাসক ও চেয়ারম্যানদের কাছে নির্দেশ পাঠিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এতে আরও বলা হয়েছে, রেললাইন ও সরকারী স্থাপনায় ক্ষতিসাধনের কোন আশঙ্কা দেখা দিলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে হবে। এ ছাড়া নাশকতা প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণকে এ কাজে সম্পৃক্ত করতে হবে।
দেশের সব সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, জেলা পরিষদের প্রশাসক, পৌরসভার মেয়র, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের কাছে পাঠানো এই নির্দেশনায় বলা হয়েছেÑ সম্প্রতি ব্যাপকভাবে রাষ্ট্রীয় সম্পদের ধ্বংস ও ক্ষতিসাধন করার খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকা-ের প্রধান লক্ষ্যবস্তু হলো দেশের রেল ও যোগাযোগ ব্যবস্থা। রেলের ফিশপ্লেট খুলে ফেলা, রেললাইন উপড়ে ফেলা, গুরুত্বপূর্ণ রেল স্থাপনাগুলোতে অগ্নিসংযোগ, রাস্তা কেটে ও গাছ ফেলে সড়ক অবরোধ, রেল ও যানবাহনে পেট্রোল বোমা মেরে মানুষ পুড়িয়ে মারার মতো বর্বর ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। দুষ্কৃতকারীরা জানমালের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করছে। তবে রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস ও ক্ষতিসাধন রাষ্ট্রবিরোধী গুরুতর ফৌজদারী অপরাধ। সকল মহল থেকে ইতোমধ্যে এ বিষয়ে কঠোর সমালোচনা করে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু আলম শহীদ খান স্বাক্ষরিত এ নির্দেশনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে বলা হয়Ñ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় আপনারা অঙ্গীকারাবদ্ধ। এক্ষেত্রে আপনাদেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। স্থানীয় সরকার আইন ও বিধিমালায় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো জননিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। সে কারণে আপনাদের নিজ নিজ এলাকার আওতাধীন রেললাইন, রেলস্থাপনা ও সড়কের নিরাপত্তা বিধানে আপানারা দায়বদ্ধ। অতএব রেললাইন ও সরকারী স্থাপনাগুলোতে আপনাদের অবশ্যই নজরদারি করতে হবে। ক্ষতিসাধনের কোন আশঙ্কা দেখা দিলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানাতে হবে। স্থানীয় জনগণকে এ কাজে সম্পৃক্ত করতে হবে। দৃষ্কৃতকারীদের আইনের আওতায় আনার ব্যাপারে কার্যকর সহায়তা করতে হবে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এ নির্দেশনার অনুলিপি রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী ও সব জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
১৮ দলীয় জোটের দফায় দফায় ডাকা অবরোধ চলাকালে সারাদেশের বিভিন্ন জায়গায় রেলপথে নাশকতা চালানো হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে রেললাইনের ফিশপ্লেট খুলে ফেলা হচ্ছে। রেললাইনও উপড়ে ফেলছে অবরোধকারীরা। ফলে রেল দুর্ঘটনায় নিহত হচ্ছেন অনেকেই। সর্বশেষ মঙ্গলবার গাইবান্ধায় পদ্মরাগ এক্সপ্রেস দুর্ঘটনায় মারা যায় ৫ জন। এতে আহত হয় প্রায় ৫০ জন। রেললাইনের প্রায় ৪০ ফুট ফিশপ্লেট খুলে ফেলায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। একইভাবে চাঁদপুর, নওগাঁ, খুলনা, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় রেলের ফিশপ্লেট খুলে ফেলে অবরোধকারীরা। ফলে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন রেলযাত্রীরা।
শুধু রেললাইনেই নয়, হরতাল অবরোধের সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে গাছ কেটে ফেলা হচ্ছে। বিভিন্ন সরকারী স্থাপনার ওপর হামলা চালিয়ে ক্ষতিসাধন করছে দুষ্কৃতকারীরা। এতে একদিকে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। অপরদিকে সরকারের কোটি কোটি টাকার সম্পদও নষ্ট হচ্ছে।
হরতাল-অবরোধে দেশের বিভিন্ন স্থানে নাশকতা চললেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা এ সব নিয়ে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলছেন না। সরকারী সম্পত্তির ক্ষতিসাধনের বিরুদ্ধে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা নিজ নিজ এলাকায় জনমত গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও তেমন ভূমিকা পালন করছেন না। সে কারণে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা ও মূল্যবান রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় উদ্যোগ নেয়ার জন্য এ নির্দেশনা দেয়া হলো।
এর আগে চলতি বছর ২৮ ফেব্রুয়ারি জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়ের পর সারাদেশে জামায়াত-শিবিরকর্মীরা নাশকতা চালায়। সে সময়ও রেলপথ ও সড়ক পথের ক্ষতিসাধন করা হয়। জামায়াত-শিবিরের নাশকতা প্রতিরোধে ‘সন্ত্রাস ও নাশকতা প্রতিরোধ কমিটি’ গঠনের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। বর্তমানে ১৮ দলীয় জোটের হরতাল-অবরোধে রেলপথ, সড়কপথ ও সরকারী সম্পত্তি ক্ষতিসাধন প্রতিরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এবার জনপ্রতিনিধিদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়।
জানা গেছে, হরতাল-অবরোধে রেলে নাশকতা রোধে ইতোমধ্যে জনগণের উদ্দেশে সতর্ক বার্তা দিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। রেললাইনে নাশকতার কোন খবর পেলে সঙ্গে সঙ্গে জানানোর জন্য আহ্বান জানিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে- রেল বাংলাদেশের একটি জাতীয় সম্পদ। একে রক্ষা করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। জনগণের এই সম্পদ রক্ষা করতে রেলে যে কোন ধরনের নাশকতা রোধ করতে হবে। রেলে নাশকতা হচ্ছে এ ধরনের খবর পেলে রেল মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে জনগণকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।