মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৩, ৫ অগ্রহায়ন ১৪২০
অবশেষে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন পেল বিএনএফ
স্টাফ রিপোর্টার ॥ অবশেষে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন পেয়েছে বহুল আলোচিত বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ)। সোমবার নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে দলের চেয়ারমান আবুল কালাম আজাদের হাতে দলের নিবন্ধন সার্টিফিকেট তুলে দেয়া হয়। এ নিবন্ধনের ফলে আগামী দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনএফ অংশগ্রহর পথ সুগম হলো।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের (আরপিও) ৯০ (এইচ) ধারা অনুযায়ী রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনের সব শর্ত পূরণ করায় বিএনএফকে নিবন্ধন দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। রবিবার কমিশন বৈঠকে বিএনএফকে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন দেয়ার নীতিগত এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এছাড়া এর আগে সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট নামের অপর একটি রাজনৈতিক দলের নিবদ্ধন দেয়া হয়। এ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত দলের সংখ্যা দাঁড়ালো ৪০-এ। তবে সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়, আদালতের আদেশের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলাম এখন আর কমিশনের নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নয়। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, এ কারণে আগামী নির্বাচনেও জামায়াত ইসলামী নির্বাচনে অযোগ্য হবেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, কয়েক দফা সুযোগ দেয়ার পর নির্বাচন কমিশনের শর্ত পূরণ করায় কমিশনের পক্ষ থেকে বিএনএফকে নিবন্ধন দেয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এরপর কমিশনের ওয়েবসাইটে দলটি সম্পর্কে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের আপত্তি জানানোর জন্য মতামত আহ্বান করা হয়। কিন্তু বিএনএফের নিবন্ধন সম্পর্কে কোন দলের আপত্তি না থাকায় সোমবার তাদের আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন দেয়া হয়।
এর আগে বিএনপির পক্ষ থেকে বিএনএফকে নিবন্ধন না দেয়ার জন্য আপত্তি জানানো হয়। তাদের পক্ষ থেকে অভিযোগে বলা হয়, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ছবি ও বিএনপির লোগো ব্যবহার করছে বিএনএফ। দলের প্রতীক হিসেবে গমের শীষ বা ধান গাছ হিসেবে আবেদন জানায় বিএনএএফ। এ প্রতীকটি বিএনপির ধানের শীষের আদলে থাকায় বিএনপির পক্ষ থেকে এ আপত্তি জানানো হয়। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে অন্য কোন দলের প্রতীকের সঙ্গে মিল আছে এমন কোন প্রতীক বরাদ্দ দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়। পরে বিএনএফের পক্ষ থেকে তাদের দলের প্রতীক হিসেবে টেলিভিশন বরাদ্দ দেয়ার আবেদন জানানো হয়। ফলে বিএনপির পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আর কোন অভিযোগ তোলা হয়নি। এমনকি ওয়েবসাইটেও কোন আপত্তি না পাওয়ায় বিএনএফকে নিবন্ধন দেয়া হয়।
নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন সনদ গ্রহণের পর দলের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সাংবাদিকদের বলেন, তিনি নিজে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া এবং জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদের আসনের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। আগামী নির্বাচনের কতটি আসনের কতজনকে তার দলের পক্ষ থেকে মনোনয়ন দেয়া হবে তা এখনি চূড়ান্ত করা হয়নি। তিনি বলেন, নিবন্ধনের শর্ত পূরণে প্রতীক ও লোগোসহ যা হারিয়েছি তার চেয়ে বড় কিছু পেতে কাজ করা হবে।
কমিশন সূত্র জানিয়েছে, রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের আবেদনপত্র আহ্বান করে কমিশন গত এপ্রিল মাসে বিজ্ঞপ্তি দেয়। ৪১টি রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের জন্য আবেদন জানায়। কিন্তু কমিশনের শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ৩৯টি দলকে অযোগ্য বলে ঘোষণা দেয় কমিশন। এর আগে গত মাসে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটকে নিবন্ধন দেয়।
নির্বাচন কমিশনের অন্য নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে রয়েছে লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি- এলডিপি, জাতীয় পার্টি-জেপি, বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল-এমএল, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি, গণতন্ত্রী পার্টি, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বিকল্প ধারা বাংলাদেশ, জাতীয় পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ, বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী (যদিও বলা হয়েছে আদালতের রায়ে নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু নিবন্ধিত দল হিসেবে এখনও কমিশনের তালিকাভুক্ত রয়েছে), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জেএসডি, জাকের পার্টি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি- বিজেপি, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, ন্যাশনাল পিপলস্ পার্টি, জমিয়তে উলাময়ে ইসলাম বাংলাদেশ, গণফোরাম, গণফ্রন্ট, প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দল, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি- ন্যাপ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, ঐক্যবদ্ধ নাগরিক আন্দোলন, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশ, বংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ বিএমএল, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট। সর্বশেষ নিবন্ধিত দল হিসেবে সোমবার আত্মপ্রকাশ পেল বিএনএফ।