মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বৃহস্পতিবার, ২৯ আগষ্ট ২০১৩, ১৪ ভাদ্র ১৪২০
মিয়ানমারে আবার সরাসরি বিমান চলাচল শুরু হচ্ছে
আজ ঢাকায় চুক্তি সই হতে যাচ্ছে
স্টাফ রিপোর্টার ॥ এবার মিয়ানমারের সঙ্গে সরাসরি বিমান চলাচল চুক্তি হচ্ছে। দীর্ঘদিন দু’দেশের মধ্যে বিমান চলাচল বন্ধ থাকার পর আজ (বৃহস্পতিবার) ঢাকায় এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে। সিভিল এ্যাভিয়েশনের সদর দফতরে এ চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে ইতোমধ্যেই ঢাকায় এসে পৌঁছেছে মিয়ানমার সিভিল এ্যাভিয়েশনের ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। বুধবার ঢাকায় সিভিল এ্যাভিয়েশনের সদর দফতরে দু’পক্ষ দিনভর দফায় দফায় বৈঠক করেছে। নতুন চু্িক্ততে দু’দেশের মধ্যকার যাত্রী ছাড়াও পণ্য পরিবহনের (কার্গো ) উড়োজাহাজ চলাচলের সুযোগ থাকছে। বিমানমন্ত্রী ফারুক খান বলেছেন-এ চুক্তির পর সরকারী এয়ারলাইন্স বিমানের পাশাপাশি বেসরকারী ইউনাইটেড এয়ারওয়েজেও মিয়ানমার যাওয়ার সুযোগ পাবে।
সিভিল এ্যাভিয়েশনের চেয়ারম্যান এয়ারভাইস মার্শাল মাহমুদ হোসেন বুধবার জনকণ্ঠকে বলেন, মিয়ানমার থেকে আগত প্রতিনিধি দলের সঙ্গে দু’দেশের বিমান চলাচলের বিভিন্ন দিক নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে।্ এ ছাড়া দু’দেশের মধ্যে এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট নিয়েও আলোচনা হয়েছে। কিভাবে দু’দেশের মধ্যে কিভাবে আকাশ চলাচল ব্যবস্থা আরও গতিশীল ও আর্থিক লাভবান করা যায় সেসব চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
তিনি জানান, ঢাকা ও ইয়াঙ্গুনের মধ্যকার এ চুক্তির ফলে দু’দেশই লাভবান হবে। দু’দেশই ফিফথ ফ্রিডম (পঞ্চম স্বাধীনতা) সুবিধা ভোগ করবে। যেমন ঢাকার এয়ারলাইন্স মিয়ানমার থেকে যাত্রী নিয়ে ব্যাঙ্কক ও মালয়েশিয়ায় যেতে পারবে। একইভাবে মিয়ানমারও ঢাকা থেকে যাত্রী নিয়ে কলকাতা যেতে পারবে।
উল্লেখ্য, ১৯৭৭ সালের ৩ আগস্ট ইয়াঙ্গুন ও ঢাকার মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল চুক্তি স্বাক্ষরের পর দীর্ঘদিন উভয় দেশই তাদের এয়ারলাইন্স ব্যবসা করার সুযোগ পায়। তখন থেকে টানা ২৯ বছর ঢাকা- ইয়াঙ্গুন বিমান চলাচল করেছে। কিন্তুু বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে হঠাৎ মিয়ানমারে বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ নিয়ে তৎকালীন বিমানমন্ত্রীকে বেশ বিতর্কের মুখে পড়তে হয়। এ অবস্থায় চুক্তি নবায়নের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলেও তৎকালীন সরকার আর কোন উদ্যোগ নেয়নি।
এ ব্যাপারে বিমানমন্ত্রী ফারুক খান বলেন, বর্তমান সরকারের আমলেই সিভিল এভিয়েশন বিশ্বব্যাপী বিমান চলাচলের ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্র, কানাডার সঙ্গে আকাশ চলাচল চ্ুিক্তর পর এবার মিয়ানমারের সঙ্গেও একই চুক্তি করা হচ্ছে। এ চুক্তির ফলে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্প্রসার ঘটবে। পর্যটন শিল্পের ব্যাপক উন্নতি ঘটবে। সরকারী এয়ারলাইন্স বিমানের পাশাপাশি বেসরকারী এয়ারলাইন্স ইউনাইটেডও এ সুযোগ পাবে। ইচ্ছা করলে ইয়াঙ্গুন থেকে যাত্রী নিয়ে ব্যাঙ্কক পর্যন্ত যেতে পারবে।