মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বুধবার, ২৪ জুলাই ২০১৩, ৯ শ্রাবণ ১৪২০
গত অর্থবছরে রেকর্ড বৈদেশিক অর্থ ছাড়
অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ পদ্মা সেতুর অর্থায়নকে কেন্দ্র করে বিশ্বব্যাংকসহ দাতা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সরকারের টানাপোড়েন সত্ত্বেও সদ্য বিদায়ী ২০১২-১৩ অর্থবছরে রেকর্ড বৈদেশিক অর্থছাড় হয়েছে। প্রাথমিক হিসেবে, এ সময়ে ২৭৮ কোটি ৬১ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ১০ কোটি ডলার বেশি। তবে চূড়ান্ত হিসেবে প্রায় ২৯০ কোটি ডলার হবে বলে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।
জানা গেছে, গত অর্থবছরে উন্নয়ন প্রকল্পের বিপরীতে ঋণ দিয়েছে ২১৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার ও অনুদান ৬৫ কোটি ডলার। অর্থাৎ সর্বমোট গত অর্থবছরে বাংলাদেশ পেয়েছে ২৭৮ কোটি ৬১ লাখ ডলার। এ সময়ে সরকার দাতা সংস্থাগুলোর কাছ থেকে ২৬৮ কোটি ৫০ লাখ ডলার পাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল। প্রথমবারের মতো লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১০ কোটি ডলার অতিরিক্ত অর্থ পেয়েছে সরকার। এর আগে সরকার ২০১১-১২ অর্থবছরে সর্বোচ্চ ২১২ কোটি ৬৪ লাখ ডলার অর্থ ছাড় করে দাতারা। এর মধ্যে ঋণ হিসেবে পায় ১৫৪ কোটি ও অনুদান পায় ৫৯ কোটি ডলার। এ সময়ে সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করেছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটি প্রায় ৯০ কোটি ডলার ঋণ দিয়েছে। এর আগে ২০০৭-০৮ অর্থবছরে সর্বোচ্চ ৮০ কোটি ডলার ঋণের অর্থছাড় করে। অন্যান্য দাতা সংস্থাগুলোর মধ্যে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ৬৭ কোটি, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) ৩৬ কোটি, ইফাদ ১ কোটি ২০ লাখ ডলার, জাতিসংঘ ২০ কোটি, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ৭ কোটি ডলার অর্থ ছাড় করেছে।
ইআরডি সচিব আবুল কালাম আজাদ বলেন, পদ্মা সেতুর ঋণ প্রত্যাহারের প্রভাব পড়েনি বৈদেশিক অর্থ সাহায্যে। প্রকল্পে স্বচ্ছভাবে অর্থ ব্যয়ের কারণে আস্থা পেয়েছে উন্নয়ন সহযোগীরা। এজন্য সর্বোচ্চ অর্থ ছাড় করেছে। রেকর্ড পরিমাণ বৈদেশিক অর্থ পেলেও একটি বড় অংশ পুরনো ঋণ পরিশোধে ব্যয় হয়ে গেছে। গত অর্থবছরে পুরনো ঋণ পরিশোধ করতে হয়েছে প্রায় ১১২ কোটি ডলার। এর মধ্যে আসল হিসাবে ৯২ কোটি ও সুদ ২০ কোটি ডলার। এর আগের ২০১১-১২ অর্থবছরে ৯৬ কোটি ৬৫ লাখ ডলার অর্থ পরিশোধ করে বাংলাদেশ। এর মধ্যে মূল ঋণ ৭৭ কোটি ও সুদ ১৯ কোটি ডলার।