মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বুধবার, ২৪ জুলাই ২০১৩, ৯ শ্রাবণ ১৪২০
আলোকচিত্রে একাত্তরের মহান নায়ক তাজউদ্দীন আহমদ
সংস্কৃতি সংবাদ
স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অনন্য চরিত্র তাজউদ্দীন আহমদ। নামটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে অসাধারণ এক দেশপ্রেমিকের কীর্তিগাথা। একাত্তরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকবাহিনীর হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর মুক্তিযুদ্ধের কা-ারী হয়ে ওঠেন মহান এই জননেতা। নয় মাস অপরিসীম পরিশ্রমে পালন করেন রণাঙ্গন পরিচালনার দায়িত্ব। দেশপ্রেম, সততা, মেধা ও যোগ্যতার মেলবন্ধনে বাঙালির স্বপ্নের রাষ্ট্র বাংলাদেশকে পাকিস্তানের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেন মহান এই জননায়ক। আর বাঙালির জন্য উৎসর্গীকৃত তাঁর এ বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন ধরা দিয়েছে আলোকচিত্রে। মুক্তিযুদ্ধকালীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বভার গ্রহণ থেকে শুরু করে ছেষট্টির ছয় দফার অন্যতম রূপকার কিংবা ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের উদ্দীপ্ত নেতা তাজউদ্দীন উঠে এসেছেন খ- খ- নানা ফ্রেমে। গত পাঁচ বছর ধরে বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে-ছিঁটিয়ে থাকা বাংলার এই অবিসংবাদিত নেতার এসব ছবি সংগ্রহ করা হয়েছে। আর সেসব ছবি নিয়ে মঙ্গলবার তাজউদ্দীন আহমদের ৮৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শুরু হলো প্রদর্শনী। মহান নেতার জন্মদিনে এমন ইতিহাসঘনিষ্ঠ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে ধানম-ির গ্যালারি টোয়েন্টিওয়ান।
মঙ্গলবার সকালে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান। সংক্ষিপ্ত উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, আজ যাঁর জন্মদিনে এ প্রদর্শনী হচ্ছে তাঁর প্রতি এদেশের ঋণ কখনো পরিশোধ হবে না। একাত্তরের উত্তাল দিনের সেই দুঃসময়ে হাল ধরেছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ। তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্বে অর্জিত হয়েছিল বিজয়। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশে তিনি যা করতে চেয়েছিলেন, তা করতে পারেননি। ঘাতকদের নির্মমতা ছিনিয়ে নিয়ে গেছে এই মহান জননেতাকে। তবে এদেশ থেকে তাঁর স্মৃতি কখনো মুছে যাবে না। উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতায় আরও উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, তাজউদ্দীন আহমদের মেয়ে সংসদ সদস্য সিমিন হোসেন রিমি, প্রাবন্ধিক সৈয়দ আবুল মকসুদ, গ্যালারির পরিচালক শামীম সুবরানা, চিত্রশিল্পী সামিনা নাফিজসহ বিশিষ্টজনরা।
আগে কখনও প্রদর্শিত হয়নি তাজউদ্দীন আহমদের সংগ্রামী জীবনের এমন সব ছবি দিয়ে সাজানো হয়েছে প্রদর্শনী। সূত্র ধরে ফ্রেমে ফ্রেমে উঠে এসেছে মুজিবনগর সরকার ও মহান মুক্তিযুদ্ধের নানা দুর্লভ মুহূর্ত। আর প্রদর্শনীর প্রতিটি ছবিই যেন বলে যায় ইতিহাসের এক মহান নাবিক ও তাঁর সময়ের যোদ্ধাদের কথা। নতুন করে চোখের সামনে হাজির হয় পুরনো দিনের সংগ্রামের ইতিহাস। সহজেই দর্শনার্থী ফিরে যান অতীতের আয়নায়। আর নতুন প্রজন্মের কাছে বইয়ের পাতার বাইরে দৃশ্যমান হয় বাঙালির অহংকার মুক্তিযুদ্ধ, সত্তরের সাধারণ নির্বাচন কিংবা ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের দৃশ্যকল্প।
প্রদর্শনীতে ঠাঁই পাওয়া ছবির মধ্যে আছে একাত্তরে শত্রুমুক্ত হওয়া যশোরে তাজউদ্দীন আহমদের দীপ্ত ভঙ্গিতে বক্তৃতার দৃশ্য। আছে জননেতার রণাঙ্গন পরিদর্শনের ছবি। পরম মমতায় একাত্তরের এই নেতা বুড়িমারী সীমান্তে আহত এক মুক্তিযোদ্ধার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিচ্ছেন। ঠাঁই পেয়েছে সেই ঐতিহাসিক মুহূর্ত। একাত্তরের এপ্রিলে কুষ্টিয়ার মেহেরপুরে গঠিত মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন সংগ্রামী জনতার মাঝে দাঁড়িয়ে সরকারের রূপরেখা ঘোষণা করছেন। আরেক ছবিতে সত্তরের নির্বাচনে বিজয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন এই অবিসংবাদিত নেতা। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে মুক্তির পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ফ্রেমবন্দি হয়েছেন তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযাত্রী তাজউদ্দীন। আছে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের সময় এক জনসভায় তাজউদ্দীনের বক্তৃতা দেওয়ার দৃশ্য। ১৯৬৬ সালে মুক্তিযুদ্ধের আগে পরিবারের সঙ্গে ক্যামেরাবন্দি হয়েছেন জননেতা। তাঁর কোলে ঠাঁই হয়েছে ছেলে সোহেল তাজের। পাশে অবস্থান করছেন সহধর্মিনী জোহরা তাজউদ্দীন। সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে রয়েছে তিন মেয়ে রিমি, রিপি ও মিমি। বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর ছিলেন এই নেতা। সেই সূত্রে জাতির জনকের প্রতি তাঁর হৃদয়ের গভীর ভালোবাসার প্রমাণ মেলে এক ছবিতে। পঁচাত্তরের পনেরই আগস্টের বিভীষিকার পর আকাশবাণীর এক সাংবাদিকের সঙ্গে আলাপকালে বঙ্গবন্ধুর কথা স্মরণ করে তাঁর চোখ থেকে ঝরে পড়ছে অশ্রুজল। ১৯৭২-এর ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিনে তাঁকে বরণ করে নিতে ফুল হাতে বিমানবন্দরে অপেক্ষা করছেন মুজিবনগর সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলামের সঙ্গে। পাশের ছবিতেই বঙ্গবন্ধুকে জড়িয়ে ধরে দুই নেতার আনন্দের অশ্রুজলে হৃদয়স্পর্শী ভালোবাসার প্রকাশ। আছে স্বাধীন দেশে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতির জনকের সঙ্গে তাজউদ্দীনের একান্ত আলাপচারিতার দৃশ্য। অর্থমন্ত্রী হিসেবে বাজেট ঘোষণার আগে কালো ব্যাগ হাতে সংসদে যাচ্ছেন তাজউদ্দীনÑএমন ছবিও আছে প্রদর্শনীতে। শোকের আবহযুক্ত কালো বোর্ডে ঠাঁইপ্রাপ্ত এই সংগ্রামী নেতার ছবিটি যেন বলে যায় অসীম বেদনার কথা। পঁচাত্তরের পাঁচ নভেম্বর সাত মসজিদের বাসভবনের বারান্দায় রাখা তাঁর নিথর দেহ। তেসরা নভেম্বর জেল হত্যাকা-ে হায়নাদের গুলিতে ক্ষত-বিক্ষত জননেতার শরীর। ছবির পাশে লেখা ক্যাপশনÑ সূর্য অস্তমিত হলো। অস্তমিত হলো মানবতার পথের দিশারী আলোকবর্তিকা। তাহলে কি অন্ধকার নেমে এলো? দিনের পরে তো রাত্রির আগমন। এরপর দিনের আগমনে নিশির অপসারণ। মেঘাচ্ছন্ন আকাশ। তারপরও তো সূর্যের কিরণ।
সব মিলিয়ে ২২০টি আলোকচিত্র দিয়ে সাজানো হয়েছে প্রদর্শনী। ১৭ দিনব্যাপী প্রদর্শনীর শেষ দিন ৮ আগস্ট। ইতিহাসের সাক্ষী হতে চাওয়া দর্শনার্থীদের জন্য প্রতিদিন বেলা ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে গ্যালারি।
রাশিয়ান কালচার সেন্টারে রূপকথা চলচ্চিত্র উৎসব ॥
রূপকথার প্রতি ছোট-বড় সবারই রয়েছে আলাদা একটা আকর্ষণ। হোক না তা নিজ দেশের কিংবা ভিনদেশী। রূপকথা মানেই টানটান উত্তেজনা আর রহস্যঘেরা রাজা-রানী কিংবা উজির-নাজিরের গল্প। সঙ্গে একটু ভয়, একটু সাহস। সব মিলিয়ে শিহরণ জাগানো সব কা--কীর্তি। এরকম চারটি ভিনদেশীয় ভাষায় তৈরি রূপকথার চলচ্চিত্র নিয়ে দু’দিনের রাশিয়ান ফেইরি টেলি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের আয়োজন করেছে ঢাকাস্থ রাশিয়ান কালচার সেন্টার। আয়োজনে সঙ্গী হয়েছে ডেফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। ধানমন্ডির সোবহানবাগের প্রিন্স প্লাজায় ডেফোডিল ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে মঙ্গলবার শুরু হলো এই উৎসব। প্রথম দিনে দেখানো হয় দু’টি ছবি। বেলা ১১টায় দি টেল অব তাসার সুলতান এবং বেলা ১টায় আলাদিন’স ম্যাজিক ল্যাম্প প্রদর্শিত হয়। আজ বুধবার বেলা ১১টায় দেখানো হবে দি লিটল মারমেইড এবং বেলা ১টায় ফাইনেস্টÑদি ব্রাইট ফ্যালকন।
বীরেন সোমের ছাপচিত্র প্রদর্শনীর সমাপ্তি আজ ॥
কিবরিয়া প্রিন্টমেকিং স্টুডিওর উদ্যোগে ধানমন্ডির ঢাকা আর্ট সেন্টারে গত ২৮ জুন থেকে শুরু হয় বিশিষ্ট শিল্পী বীরেন সোমের ছাপচিত্র প্রদর্শনী। শিল্পীর বিভিন্ন সময়ে আঁকা ছাপাই ছবি দিয়ে সাজানো হয়েছে প্রদর্শনী। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান থেকে শুরু করে নানা বিষয় কখনো বিমূর্ত আবার কখনো অবয়বী প্রকাশে উপস্থাপিত হয়েছে ক্যানভাসে। প্রদর্শনীর শেষ দিন আজ বুধবার। বেলা তিনটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
শিল্পকলায় মঞ্চস্থ বেহুলা বাসর ॥
মঙ্গলবার সন্ধ্যা মঞ্চস্থ হলো শিল্পকলা একাডেমীর নতুন প্রযোজনা বেহুলা বাসর। একাডেমীর স্টুডিও থিয়েটার হলে নাটকটির উদ্বোধনী প্রদর্শনী হয়। বিজয় গুপ্ত রচিত মনসা মঙ্গল কাব্যের আখ্যানকে নাট্যরূপ দিয়েছেন শহিদুল হক খান। নৃত্যগীত সমৃদ্ধ প্রযোজনাটির নির্দেশনা দিয়েছেন মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন। নাটকে মূল তিন অভিনয়শিল্পী হলেন- এনামতারা সাকী, প্রতিমা বিশ্বাস ও শ্রাবন্তী পাল। সুর, সঙ্গীত ও আবহ পরিকল্পনা করেছেন বিদ্যুৎ সরকার। নেপথ্যে কণ্ঠ দিয়েছেন মাহবুব রনি।