মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বুধবার, ২৪ জুলাই ২০১৩, ৯ শ্রাবণ ১৪২০
ভারতীয় থ্রিপিসই বেশি চলছে এবার
রাজধানীর মার্কেটগুলোয় কেনাকাটার ধুম
রহিম শেখ ॥ ‘আশিকি-২’, ‘ধুম-৩’, ‘পাঙ্গখুরি’ কিংবা ‘চেন্নাই এক্সপ্রেস।’ ভারতীয় চলচ্চিত্র কিংবা সিরিয়ালের নায়িকার নামে করা থ্রি-পিসগুলো নিয়ে রীতিমতো মাতামাতি চলছে রাজধানীর মার্কেটগুলোতে। ফিল্মিওয়ালা নাম দেয়া এসব পোশাকের দাম যতই হোক না কেন, আগ্রহের কমতি নেই তরুণীদের। এবার তরুণীদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ‘আশিকি-২।’ আরও আছে রাশি, রাধিকা, বিপাশা, কারিনা, অক্টোপাস, কাশিস, বিনয়, সানিয়া, একতা, রিভা, ‘ছাম্মাকছালো, আরোহী, খুশি, জীবিকা, রানঝানা, ডিসকোচলি, জারা, ম্যাংগোবাইট, অর্চনা, ছনছন, হিম্মতওয়ালা, কোমল । বিক্রেতারা জানালেন, পোশাকের রং আর সুতার সংমিশ্রণে এসব পোশাকের নামকরণ করে থাকেন আমদানিকারকরাই। তাঁরা জানান, উচ্চবিত্ত ক্রেতাদের একটি অংশ এসব পোশাকের মূল ক্রেতা। আর মধ্যবিত্ত ও দেশীয় বুননের কাপড় যাদের পছন্দ তাঁরা ভিড় করছেন নগরীর বিভিন্ন নামকরা বুটিক হাউসে। মঙ্গলবার রাজধানীর বিভিন্ন শপিংমল ও বুটিক হাউস ঘুরে এবারের ঈদ উপলক্ষে আনা দেশী-বিদেশি সব ধরনের থ্রি-পিসের নাম ও বৈশিষ্ট্য জানা গেল।
জানা গেছে, এবার রাজধানীর শপিংমলগুলোতে বিভিন্ন ধরনের জর্জেট, নেট, ধুপিয়ান কাপড়ের ভারতীয় থ্রি-পিসই বেশি চলছে। কয়েক বছর আগের জনপ্রিয় ভারি কাজের লম্বা ঝুলের কামিজের সঙ্গে লং স্কার্টের লাসা এ বছর ফিরে এসেছে। বিক্রেতারা জানান, থ্রি কোয়ার্টার বা ফুল হাতার লম্বা ঝুলের কামিজের সঙ্গে চুড়িদার পাজামা বা চাপা সালোয়ার আর হালকা কাজের ওড়না এবারের ঈদে মেয়েদের পছন্দের ফ্যাশনের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে। গতবারের মতোই এবার ঈদে নেটের পোশাক থাকছে তবে গতবার অল্প কিছু পোশাকে ভেলভেট বা মখমলের কাপড়ের ব্যবহার থাকলেও এবার এর ব্যবহার বেশি। বসুন্ধরা, ইস্টার্ন প্লাজাসহ বড় শপিংমলগুলোতে লাসার বেশ ভাল সম্ভার চোখে পড়েছে। তবে নিউমার্কেট, গাউছিয়া, চাঁদনীচক, ইস্টার্ন প্লাজা, সিটি হার্ট, পলওয়েল, গাজী ভবন, রাপা প্লাজা, বসুন্ধরা সিটি, মৌচাকসহ ছোট-বড় সব মার্কেটেই ব্যাপকভাবে এসেছে পুরো কাপড়ে সুতার কাজ করা জর্জেট বা সুতি কাপড়ের ভারতীয় থ্রি-পিস। সুতি থ্রি-পিসগুলোর দাম তিন হাজার টাকার ওপরে। আর জর্জেটের ছয় হাজার থেকে শুরু করে ৩০ হাজার টাকা দামেরগুলোই বেশি চলছে। বসুন্ধরা সিটি শপিং মলে ‘আশিকি-২ বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকায়। তবে এ দাম শুনে অনেকে আঁতকেও উঠছেন। তবে এ পোশাকটি সাত হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানা গেল। বিক্রেতারা বলছেন, দামি এসব পোশাকের ৯০ ভাগ ভারত থেকে এসেছে। বাকি সব থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, চীন ও পাকিস্তান থেকে আমদানি করা হয়েছে।
বিক্রয়কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবার ভারতীয় থ্রি-পিসের মধ্যে বেশি চলছে দুই পার্লার ফ্রক কাটের ফুল হাতার লম্বা ঝুলের কলিদার কামিজ। পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত লম্বা ঝুল ও অনেক ঘেরের এ কামিজের নকশায় রয়েছে নানা রঙের সুতার অলওভার ভারি কাজ। কোমরের ওপরের অংশে ভেলভেট বা শার্টিন কাপড়ের ওপর পাথর ও চুমকি এবং সুতার কাজ করা হয়েছে ভারতীয় থ্রি-পিসগুলোতে। কামিজের ঝুল ও হাতার ঘেরে রয়েছে একরঙ্গা ভেলভেট বা শার্টিন কাপড়ের চওড়া বর্ডার বা ইয়ক। শেরোয়ানি কাটের কামিজও চলছে ভালই। কোন কোন থ্রি-পিসে বিভিন্ন ধরনের কাপড় জোড়া দিয়ে তার ওপর নকশা করা হয়েছে। তবে এবারও গতবারের মতো ‘মাসাককলি’, ‘আনারকলি’ ও ‘দাবাং’-এর প্রতি ক্রেতাদের চাহিদা আছে। ধানম-ির একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রুবাবা ইসলাম লিজা জনকণ্ঠকে বলেন, আশিকি-২ পোশাকটি খুব মনে ধরেছে। দরদামে মিলে গেলে নিজের বোনের জন্য দুটি আশিকি-২ কিনে ফেলবেন। এ ছাড়া সুতার কাজ করা পাকিস্তানী সুতি থ্রিপিসগুলো তিন হাজার থেকে সাড়ে চার হাজার টাকার মধ্যেই বেশি চলছে। গাউছিয়া মার্কেটের সূর্যকন্যার স্বত্বাধীকারী মোঃ দুলাল জানান, ভারতীয় থ্রি-পিসের পাশাপাশি লেহেঙ্গার প্রতিও তরুণীদের আগ্রহ কম নয়।
দেশী ফ্যাশন হাউসগুলোতে সুতি, ভয়েল, লিলেন, ধুপিয়ান, পাতলা খাদি, অ্যান্ডি কাপড়ের প্রাধান্যই বেশি। টিকাটুলীর আড়ং, আজিজ মার্কেটের কে-ক্র্যাফট, লাল-নীল-হলুদসহ দেশীয় শোরুম, দেশীদশের অঞ্জন’স, রঙ, সাদাকালো, দেশাল, বাংলার মেলা, বিবিয়ানাসহ বিভিন্ন বুটিক হাউসে গিয়ে দেখা গেছে, কামিজের নকশায় এবার হালকা কাজই বেশি। গলা থেকে শুরু করে কোমরের নিচ পর্যন্ত ভারি মেশিন এমব্রয়ডারির কাজ বা ইয়ক যেমন রয়েছে, তেমনি বাহারি লেস, পাইপিং এবং ভেলভেট বা শার্টিন কাপড়ের বর্ডারের বৈচিত্র্যময় ব্যবহার কামিজের নকশার প্রধান অনুষঙ্গ হিসেবে আনা হয়েছে। রুমাল কাট, ঝুলের দু’পাশে কোণা বের করা অথবা গোলাকৃতির ফ্রক কাটের কামিজের ফ্যাশনটাই বেশি। সালোয়ারের ঘেরেও রয়েছে পাইপিং ও বর্ডারের বর্ণিল ব্যবহার। দেশীয় পোশাকগুলোতে এবার জরি-চুমকির ব্যবহার অনেক কম। বরং ম্যাজেন্টা, সবুজ, টিয়া, হলুদ, লাল, নীল ইত্যাদি গাঢ় রঙের সুতা দিয়ে হাতে কাজ করা ফুলের নকশার কদরই বেশি। মিরপুর থেকে গাউছিয়ায় মার্কেট করতে এসেছেন অর্পিতা হালদার। আলাপকালে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, বিদেশী কাপড়ের তুলনায় আমাদের দেশী পোশাক অনেক সুন্দর। কামিজের নকশায় এবার হালকা কাজই বেশি। বিশেষ করে এবার দেশীয় পোশাকগুলোতে জরি-চুমকির ব্যবহার অনেক কম।