মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বুধবার, ২৪ জুলাই ২০১৩, ৯ শ্রাবণ ১৪২০
চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে ১৮ কেজি স্বর্ণের চালান আটক
স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস ॥ চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ১৮ কেজি স্বর্ণের একটি চালান আটক করেছে ইমিগ্রেশন পুলিশ। মাসকাট থেকে ইউনাইটেড এয়ার ওয়েজের একটি ফ্লাইটে এক যাত্রীর লাগেজ চেক করে পাওয়া যায় এই বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে স্বর্ণসহ আটক করা হয় ওই যাত্রীকে। বহনকারী যাত্রী মীর মোহাম্মদ শাহ নেওয়াজ মোরশেদ আন্তর্জাতিক চোরাকারবারী চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে জিজ্ঞাসাবাদে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশের সহকারী কমিশনার মঈন উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের এ ফ্লাইটটি মাসকাট থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে। বিমানটির ফের চট্টগ্রাম থেকে উড্ডয়ন করে সকাল ১০টায় ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা ছিল। চট্টগ্রাম বিমানবন্দরেই যাত্রী মীর মোঃ শাহ নেওয়াজ মোরশেদের ব্যাগ তল্লাশি করে পাওয়া যায় প্রায় ১৮ কেজি স্বর্ণের বার।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের বিমানটির এই যাত্রী তার আসনে বসা অবস্থায় মদ্যপান করছিল। তার হাতে ছিল কালো রঙের একটি পলিথিন ব্যাগ। কথাবার্তায় অসংলগ্নতা এবং আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় বিমানের ক্রুরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ব্যাগের ভেতরে কি আছে এ প্রশ্নের জবাবে যাত্রী শাহ নেওয়াজ মোরশেদ জানায়Ñ এর ভেতরে অস্ত্র রয়েছে। পরে বিষয়টি বিমানবন্দর কর্র্তৃপক্ষকে জানানো হলে ইমিগ্রেশন পুলিশ ও কাস্টমস কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তার ব্যাগ তল্লাশি করা হয়। এতে বেরিয়ে আসে স্বর্ণের বার।
কাস্টমস সূত্র জানায়, পলিথিনের ভেতরে আরেকটি কাগজে মোড়া অবস্থায় পাওয়া যায় চারটি রোল। সেখানে পাওয়া যায় ১৪৬টি স্বর্ণের বার। প্রতি বারে ১০ তোলা করে মোট স্বর্ণের পরিমাণ ১৪৬০ তোলা। এছাড়া তার লাগেজ তল্লাশি করে পাওয়া যায় আরও প্রায় ৪শ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার। এই যাত্রীর কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় মোট ১৭ কেজি ৬শ গ্রাম স্বর্ণ। আটক স্বর্ণের মূল্য ৬ কোটি টাকার বেশি।
বিমানবন্দর ইমিগ্রেশন পুলিশ সূত্রে জানানো হয়, স্বর্ণের বার ছাড়াও যে অলঙ্কারগুলো পাওয়া গেছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ৪৭টি আংটি, ১৪টি লকেট, ২৯ জোড়া কানের দুল ও ৮টি স্বর্ণের চুড়ি। সমুদয় স্বর্ণ বার ও অলঙ্কার জব্দ করে যাত্রী শাহ নেওয়াজ মোরশেদকে আটক করা হয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, আটক মীর মোঃ শাহ নেওয়াজ মোরশেদ আন্তর্জাতিক স্বর্ণ চোরাচালান চক্রের পণ্য বহনকারী হিসেবে কাজ করে থাকে। দীর্ঘদিন ধরেই সে এ চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তার বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার খরণ দ্বীপ এলাকায়। সে ঘন ঘন মধ্যপ্রাচ্যে যাতায়াত করে থাকে। আন্তর্জাতিক চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা হেতু শুধু স্বর্ণই নয়, বিভিন্ন ধরনের অবৈধ পণ্য বহন করার কাজে নিয়োজিত এই শাহ নেওয়াজ।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে শাহ নেওয়াজ জানিয়েছে, মাসকাট থেকে শফি ও বরকত নামের দুই ব্যক্তি স্বর্ণের বারগুলো তাকে দিয়েছে বাংলাদেশে আনার জন্য। ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর তার্দেই লোক স্বর্ণগুলো নিয়ে যাবেÑ এমনই কথা ছিল। তবে তার কাছ থেকে যাদের স্বর্ণ গ্রহণ করার কথা ছিল তাদের শাহ নেওয়াজ চিনে না বলে সে জানায়।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের অতিরিক্ত কমিশনার মাহবুবুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, সন্দেহভাজন হিসেবে বিমানের ক্রুরাই ওই যাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পরবর্তীতে ইমিগ্রেশন পুলিশ ও কাস্টমকে জানালে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আটক স্বর্ণগুলো জব্দ করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।