মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
বুধবার, ২৪ জুলাই ২০১৩, ৯ শ্রাবণ ১৪২০
সৃজনশীল আধুনিক দেশীয় ঐতিহ্য অন্যরকম আবেদন
আজিজ মার্কেটের ঈদ আয়োজন
মোরসালিন মিজান আজিজ মার্কেটের ঈদ আয়োজন ॥ আজিজ মার্কেট নিয়ে বিবিধ আলোচনা ছিল। আছে। তবে সব আলোচনাকে পেছনে ফেলে সামনে চলে এসেছে পোশাক ব্যবসা। হ্যাঁ, এখন এটি দেশীয় পোশাকের বড় বাজার। তবে ব্যবসা শুধু নয়, শিল্পবোধ বিশেষ প্রাধান্য পায় এখানে। ঐতিহ্য আর আধুনিকতা হাত ধরাধরি করে চলে। ভারতীয় সিরিয়ালে দেখানো শাড়ি থ্রি পিস নিয়ে বাড়াবাড়ি আর যেখানেই থাকুক, এখানে নেই। নয়া আমদানি পাকিস্তানী ফ্যাশন। সেটিও অকার্যকর। উৎসবে পার্বণে রুচিশীল ক্রেতারা একবার এখানে ঢুঁ না মেরে পারেন না। আর এখন সবচেয়ে বড় উৎসব ঈদের কেনাকাটা। সঙ্গত কারণেই ভিড় বেড়ে কয়েকগুণ হয়েছে। দিন রাত চলছে বেচাকেনা।
গত কয়েকদিন মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, বিশাল ভবনের তিনটি ফ্লোরে আড়াই শ’ মতো দোকান। এসব দোকানে বিভিন্ন ডিজাইনের পাঞ্জাবি, ফতুয়া, থ্রি-পিস, শাড়ি- কাটিং, এমব্রয়ডারি, প্রিন্ট, কাচুপিসহ নানা ধরনের হাতের কাজ সত্যি মুগ্ধ করে। আর টি-শার্টের কথা তো বলাই বাহুল্য। প্রায় সব দোকানেই টি-শার্ট আছে। কাইয়ুম চৌধুরী, হাশেম খান, আবুল র্বাক আলভী, ধ্রুব এষ থেকে শুরু করে চারুকলার নবীন ছাত্রছাত্রীরাও আঁকেন, ডিজাইন করেন। ফলে কোন কোন ক্ষেত্রে পোশাক হয়ে ওঠে অনবদ্য ক্যানভাস। বর্তমানে সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত খোলা থাকছে মার্কেট। বিভিন্ন বয়সী ক্রেতা পছন্দের পোশাক কেনায় ব্যস্ত।
আজিজ মার্কেট যেহেতু, অনিবার্য আলোচনা ‘নিত্য উপহার।’ এই ফ্যাশন হাউসের কথা, কথা মানে, সুনামের কথা এখন প্রায় সকলেই জানেন। দেশীয় ঐতিহ্য, সংস্কৃতি আর ব্যক্তিত্বকে প্রাধান্য দিয়ে পোশাক তৈরি করে ফ্যাশন হাউসটি। আজিজে বর্তমানে এর চারটি শোরুম। একটি গ্যালারি। সবকটিতে ঈদের কালেকশন। নিত্য উপহার শঙ্খবারে কেবল শাড়ি। বিক্রয় কর্মকর্তারা জানান, ঈদের শাড়িতে যোগ হয়েছে কাইয়ুম চৌধুরীর আঁকা আর চন্দ্রশেখর সাহার ডিজাইন। টাঙ্গাইলের সুতি ও হাফ সিল্ক শাড়িগুলোর নানা রঙ। টি শার্টের ডিজাইন আছে ৩০টির মতো। ছোটদের আছে। বড়দেরও। এর পরপরই রয়েছে ‘দেশাল।’ এ ফ্যাশন হাউসটি দ্রুতই এগিয়েছে। মালিক কনক আদিত্য। ছিলেন শিল্পী। ব্যবসাটাও বুঝে গেছেন। তাই দ্রুতই ছড়িয়ে পড়েছে নাম। এখন মোটামুটি সারা বছরই চাহিদা দেশালের। বিশেষ করে মেয়েরা খুব কেনেন এখান থেকে। পাঞ্জাবি ফতুয়াগুলোও আকর্ষণীয়। আজিজ মার্কেটের আরেক শিল্পী অভিজিৎ চৌধুরী। তাঁর ফ্যাশন হাউস তারা মার্কা। এখানেও নিজস্ব ডিজাইন। পুরনো ধ্যানধারনাকে বাদ না দিয়ে নতুনের সঙ্গে মিশিয়ে নেয়ার চেষ্টা হয়েছে এখানে। কাপড়-ই-বাংলা’র কাপড়ে যতেœর ছাপটি স্পষ্ট। মেয়েদের থ্রি-পিস, ফতুয়া আর ছেলেদের পাঞ্জাবি দিয়ে সাজানো
একাধিক শোরুম। বড় শোরুমটি দ্বিতীয়তলায়। এখানে পুরো কালেকশনটি দেখে নেয়া যায়। ভিড়ও বেশি। ঢাক-ঢোল নামের একটি শোরুমে দেখা গেল, পাঞ্জাবি। সংখ্যায় কম। তবে নতুন কিছু ডিজাইন রাখা হয়েছে এখানে। ‘আবির্ভাব’ আবার শুধু ছেলেদের জন্য। এখানে পাঞ্জাবি আর টি-শার্ট প্রধান। লাল সাদা নীল হলুদ, মেঠোপথ, ঐতিহ্য, মেঘ, পৌষ, বাঙালীয়ানার শোরুমেও ভাল কালেকশন।
পাশাপাশি আজিজে আছে কে-ক্রাফট, সাদা কালো, বিবিয়ানাসহ কিছু নামিদামি ব্র্যান্ড। অন্য অনেক শোরুমের চেয়ে এসবে বিক্রি অনেক বেশি। ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। ‘বিসর্গ’, ‘অতঃপর’সহ কয়েকটি ফ্যাশন হাউসে পোশাকের পাশাপাশি পাওয়া যাচ্ছে মাটির গহনাও। পোশাকের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে এসব শোরুম থেকে অনেকেই গহনা কিনছেন। সব মিলিয়ে উৎসবের আমেজ।
মার্কেটের মালিক ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য বাহার রহমান। নিত্য উপহার গড়ে তোলার মাধ্যমে তিনিই সূচনা করেছিলেন এই ব্যবসার। জনকণ্ঠকে সফল এই ব্যবসায়ী বলেন, আমি নিজে সৃজনশীলতা ও বিজনেস এই দুটোকে একত্রিত করার চেষ্টা করেছি। মানুষের প্রয়োজনটা বুঝার চেষ্টা করেছি। যে কোন ডিজাইন আমরা নেই না। জেনে বুঝে করি। বলা বাহুল্য, এমন কিছু সচেতন ব্যবসায়ীর কারণেই আজকের অবস্থানে আজিজ মার্কেট। মার্কেটের ঈদ প্রস্ততি সম্পর্কে কাপড়-ই-বাংলার স্বত্বাধিকারী বিথুন বলেন, বরাবরের মতোই আমরা ঈদ উপলক্ষে প্রচুর ইনভেস্ট করেছি। এখানে প্রতিদিন ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে। তবে ক্রেতা আরও চান তিনি। আবির্ভাবের শিশির কুমার হাজরা মনে করেন, আর কয়েক দিন গেলে বিক্রি বেড়ে যাবে।
অবশ্য মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, আজিজে অনেক বারোয়ারি ব্যবসায়ী ঢুকে পড়েছেন। এদের নিজস্ব পোশাক নেই। বিভিন্ন জায়গা থেকে পোশাক সংগ্রহ করে নিজেদের নামে বিক্রি করছেন। এ কারণে পুরনো ক্রেতাদের কেউ কেউ আজিজ মার্কেট এড়িয়ে চলা শুরু করেছেন বলেও জানা গেছে। এ অবস্থায় ব্যবসায়ীদের নিজস্বতা ধরে রাখার ব্যাপারে আরও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন নিয়মিত ক্রেতারা।