মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০১৩, ৩ বৈশাখ ১৪২০
পহেলা বৈশাখে র‌্যালি ॥ জাবিতে ছাত্রী লাঞ্ছিতের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ক্লাস বর্জন
জাবি সংবাদদাতা ॥ গত রবিবার পহেলা বৈশাখে নববর্ষের শোভাযাত্রায় রং দেয়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ কর্তৃক মাস্টার্সের দুই ছাত্রীকে লাঞ্ছিত করার ঘটনার বিচার চেয়ে ৩ দফা দাবি ও ৩ দিনের আল্টিমেটাম দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ছাত্রীরা। সোমবার সকাল ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের হল থেকে এ বিক্ষোভ মিছিল বের হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব কয়টি আবাসিক ছাত্রী হলের ছাত্রীরা এতে অংশ নেয়। একই সঙ্গে ছাত্রীরা ক্লাস বর্জন করে।মিছিলটি বেগম খালেদা জিয়া হলের সামনে থেকে শুরু হয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে তারা উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের দাবি পেশ করেন। এ সময় উপাচার্য অধ্যাপক মোঃ আনোয়ার হোসেন আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত করে শনিবার সিন্ডিকেট সভায় এই বিষয়টি তুলবেন বলে আশ্বাস দেন। তাদের দাবিগুলো হচ্ছে, তিন কার্যদিবসের মধ্যে এই ঘটনার বিচার, পরবর্তীতে এই ধরনের ঘটনার বিচার ১০ দিনের মধ্যে করা এবং সামাজিকভাবে এদের বয়কট করা।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে রবিবার সকালে আফম কামালউদ্দিন হলের শিক্ষার্থীরা একটি র‌্যালি রেব করে। র‌্যালিটি মেহের চত্বর পৌঁছুলে সেখানে এক অপরিচিত ছাত্রীকে রং দেয়া হয়। এ সময় ঐ ছাত্রী প্রতিবাদ জানালে র‌্যালি থেকে তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল দেয়া হয়। পরে র‌্যালিটি সমাজবিজ্ঞান ভবন ও প্রীতিলতা হলের মাঝখানে পৌঁছুলে সেখাতে তিন জন অপরিচিত ছাত্রীকে রং দেয়া হয়। এর প্রতিবাদে একজন ছাত্রী ছাতা দিয়ে আঘাত করলে র‌্যালিতে অংশ নেয়া দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী তানভীর হাসান খান আহত হন। র‌্যালি থেকে এক শিক্ষার্থী ঐ ছাত্রীকে একটি চড় মারেন।
পরে র‌্যালিটি বেগম খালেদা জিয়া হলের ঢালে গেলে সেখানে শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক অজিত কুমার মজুমদারসহ অন্য শিক্ষকরা র‌্যালিতে বাধা দেন। এ সময় ইংরেজী বিভাগের শিক্ষার্থী সুবল দেবনাথ আকাশ র‌্যালিতে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীদের হলে চলে যেতে বলেন এবং তিনি নিজে শিক্ষক সমিতির সভাপতিসহ অন্য শিক্ষকদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে থাকেন। এ সময় সেখানে থাকা উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী আকন্দ ঐ শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন এবং চড় মারেন। পরে উপাচার্য এসে আবার ঐ শিক্ষার্থীকে চড় মারেন।
এ বিষয়ে অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী আকন্দ বলেন, “আমার মেয়েদের লাঞ্ছিত করবে আর আমি চুপচাপ বসে থাকব সে ধরনের মানুষ আমি নই।