মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০১৩, ৩ বৈশাখ ১৪২০
বাংলাদেশ একটি উদার সহিষ্ণু দেশ ॥ মজেনা
নিজস্ব সংবাদদাতা, রাঙ্গামাটি, ১৫ এপ্রিল ॥ বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজেনা বলেন, বাংলাদেশ অত্যন্ত সুন্দর একটি দেশ। এই দেশের মানুষও চমৎকার। এদেশে রয়েছে নানা বৈচিত্র্য। ঈশ্বরের আশীর্বাদে এদেশের মাটি উর্বর, রয়েছে প্রচুর খনিজ সম্পদ, পানি ও সুন্দর জলবায়ু যা অন্য কোথাও পাওয়া বিরল। এর মধ্যে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের দৃশ্য অপরূপ। এখানকা মানুষগুলো অসাধারণ। এদের রয়েছে প্রবল কর্মশক্তি, প্রাণচাঞ্চল্য এবং উদারতা।
নববর্ষের এই দিনে বাংলাদেশের ভবিষ্যতের ব্যাপারে আমি অত্যন্ত আশাবাদী। এদেশের তরুণ প্রজন্মের সঙ্গে যতই পরিচিত হচ্ছি ততই আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি বিশ্বের সপ্তম জনবহুল বৃহৎ দেশ হিসেবে অন্যান্য জাতির মাঝে স্থান করে দেশের বৈশিষ্ট্য সমুন্নত রাখবে।
মজেনা সোমবার পার্বত্য অঞ্চলের মার্মা জনগোষ্ঠি সর্ববৃহৎ সংগ্রাই বা পানিখেলা উৎসবে সম্মানিত অতিথি হিসেবে ভাষণ দিতে গিয়ে একথা বলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি উদার সহিষ্ণু দেশ। এখানে জনগণের বৈচিত্র্য সংস্কৃতি, ধর্ম ও ভাষাকে সম্মান দেয়া হয়। এদেশের মানুষেরা সম্মিলিতভাবে নববর্ষ ও বৈসাবী পালন করে। নববর্ষ উদ্যাপনের সাঙ্গে সঙ্গে আসুন আমরা প্রত্যকে ৪২ বছর আগে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে সকলে মিলে যে বৈশিষ্ট্য সৃষ্টি করেছে তার বৈচিত্র্যের প্রতি সম্মান জানাই। আমাদের সব উদ্যমকে দেশের ঐক্যের জন্য কাজে লাগাই। আসুন, আমরা প্রত্যকে সংকল্প করি দেশকে শক্তিশালী ন্যায়পরায়ণতা ও সহিষ্ণুতা এবং সমৃদ্ধিশালী হিসেবে গড়ে তুলি। তিনি সকলের শুভ কামনা করে তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।
প্রধান অতিথির ভাষণে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর তালুকদার বলেন, পাহাড়ের বৈসাবী ও বৈশাখী উৎসব আজ একাকার হয়ে গেছে। আজ এখানে কোন ভেদাভেদ নেই। আমরা সবাই মিলেমিশে এই উৎসব পালন করছি। আশা করি আগামীতেও আমরা এই আনন্দঘন পরিবেশে যেন এই উৎসব পালন করতে পারি। এ জন্য তিনি সকলের সহায়তা কামনা করেন।
মার্মা সংস্কৃতিক গোষ্ঠীর উপদেষ্টা চিংকিউ রোয়াজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর তালুকদার এমপি। সভায় বক্তব্য রাখেন রাঙ্গামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ সরোয়ার হোসেন, জেলা প্রশাসক মোঃ মোস্তফা কামাল, পুলিশ সুপার আমেনা বেগম, অংসুইপ্রু চৌধুরী প্রমুখ।
এরপর অতিথিরা সকলে মিলে বং বাজিয়ে পানিখেলার শুভ উদ্বোধন করেন। এর পর নারী-পুরুষ একে অপরের গায়ে ফুলের পাপড়ি মিশ্রিত পানি ছিটানোর মধ্য দিয়ে শুরু হয় সাংগ্রাই উৎসব।