মানুষ মানুষের জন্য
শোক সংবাদ
পুরাতন সংখ্যা
মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০১৩, ৩ বৈশাখ ১৪২০
শেষ হলো আন্তর্জাতিক লোকসংস্কৃতি সম্মেলন
সংস্কৃতি সংবাদ
স্টাফ রিপোর্টার ॥ শনিবার থেকে বাংলা একাডেমীর আয়োজনে শুরু হয় আন্তর্জাতিক লোকসংস্কৃতি সম্মেলন। দেশ-বিদেশের বিশিষ্ট ফোকলোরবিদদের অংশগ্রহণে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে এ সম্মেলন। তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলনের তৃতীয় ও শেষ দিন ছিল সোমবার। সব মিলিয়ে তিন দিনের সম্মেলনে লোকসংস্কৃতি বিষয়ক ৮টি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
সমাপনী দিন সকাল ১১টায় একাডেমীর কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে ‘ফোকলোর আর্কাইভস ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং ফোকলোরে বিশ্বায়নের প্রভাব’ শীর্ষক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে পাঁচটি পৃথক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কবি মুহাম্মদ নুরুল হুদা, ড. উইলিয়াম ওয়েস্টারম্যান, ড. মাহবুবুল হক, ড. সাইফুদ্দিন চৌধুরী ও ড. মোস্তফা তারিকুল আহসান। প্রবন্ধের উপর আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. ফকরুল আলম। এ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক মার্গারেট এ. মিলস। আলোচনায় বক্তারা বলেন, ফোকলোরÑবিশ্বের নিয়ত পরিবর্তনশীল বিষয়সমূহ আমাদের আত্মস্থ করতে হবে। কারণ এখন তা আর কোনো একমাত্রিক জ্ঞানকোষ নয়। বরং বিশ্বায়নের বিচিত্রবিধ প্রভাব ফোকলোরকে নতুন নতুন মাত্রা দান করেছে।
বেলা সাড়ে ১২টায় একাডেমীর সভাকক্ষে ‘সুফিবাদ’ বিষয়ে ফোকলোর সম্মেলনের সর্বশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এতে পৃথক দু’টি প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. পিয়েরে এলেন বড ও ফ্রাঙ্ক জে কোরোম। আলোচনায় অংশ নেন সাইদুর রহমান বয়াতি। এ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক জওহরলাল হান্ডু। আলোচনায় অংশ নেয়া বক্তারা বলেন, সুফিবাদ আজ এক সীমান্তভেদী আদর্শের নাম। নানান রীতি ও পদ্ধতিতে সুফিরা মূলত অখ- মানবতার নিষ্ঠ সাধক। তাই আজকের এই হিংসা ও কলহের পৃথিবীতে সুফিদের উদার-অসাম্প্রদায়িক মতবাদ আমাদের সবাইকে শান্তির পথনির্দেশ করতে পারে।
বেলা সাড়ে তিনটায় একাডেমীর আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে আসামের মাজুলি মঙ্কস বিষয়ে একটি ফরাসী তথ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। এছাড়া মাজুলি মঙ্কস গোষ্ঠীর পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। ভবানন্দ হাজারিকার নেতৃত্বে এতে অংশ নেন নিরঞ্জন সাইকিয়া, বাবুরাম সাইকিয়া, উপেন বোরাহ, গোবিন কালিতা, মুকুন্দ সাইকিয়া, দীননাথ বোরাহ্ সর্বানন্দ দোয়ারিয়া, কৃষ্ণ সাইকিয়া এবং দীপেন্দ্র শর্মা। সার্বিক নির্দেশনায় ছিলেন ম্যাথিজ ক্যোলেঞ্জ।
চারুকলার শিক্ষার্থীদের যাত্রাপালা প্রদর্শনী ॥ বিগত কয়েক বছর ধরেই বাংলা নববর্ষের দ্বিতীয় দিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা যাত্রাপালা প্রদর্শনীর আয়োজন করছে। সেই ধারাবাহিকতায় সোমবার সন্ধ্যায় চারুশিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষদে যাত্রাপালা প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। পরিবেশিত হয় যাত্রাপালা নাচমহল। ভৈরবনাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের রচনা থেকে যাত্রাপালাটির নির্দেশনা দিয়েছেন সেতু খান।
মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক শিল্পকর্ম প্রদর্শনীর সমাপ্তি ॥ জাতীয় জাদুঘরের শততম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চলছে দুই বছরব্যাপী অনুষ্ঠানমালা। এ কর্মসূচীর অংশ হিসেবে ২০ এপ্রিল থেকে জাদুঘরের নলিনীকান্ত ভট্টশালী গ্যালারিতে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক শিল্পকর্ম প্রদর্শনী। সোমবার ছিল প্রদর্শনীর শেষ দিন।
তরুণ শিল্পীদের সৃজিত শিল্পকর্ম এবং জাদুঘরের সংগ্রহ দিয়ে সাজানো হয় প্রদর্শনী। এর মধ্যে রয়েছে ৩৪ তরুণ শিল্পীর ৫৩টি শিল্পকর্ম। আর জাদুঘরে সংগৃহীত একুশ বরেণ্য শিল্পীর চিত্রকর্ম রয়েছে ৪৭টি। সব মিলিয়ে প্রদর্শনীতে ঠাঁই পায় ১০০টি শিল্পকর্ম।